টঙ্গীবাড়ি বালিগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য

সব মানুষের সৃজন প্রয়াসী অনলাইন পোর্টাল:

রোববার, ৭ এপ্রিল ২০১৯, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

Munshiganj-News-07.04.19-Primary-School

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান ও তার ভাতীজা বধু তানিয়া আক্তার নিজের মন মত বিদ্যালয়কে চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের ইচ্ছে মত সকাল ৮ টা থেকে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয় ছুটির পরে চলে আরেক দফা কোচিং বানিজ্য। ৫ম শ্রেনীতে ছাত্র প্রতি প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে দিতে হয় অভিভাবকদের, তানিয়ার এ কোচিং বানিজ্য নিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে কয়েক দফা ঝগড়া ও হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিষেধ করা সত্বেও এ বানিজ্য বন্ধ করেনি তানিয়া।

অপর দিকে কোচিং বানিজ্যের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তানিয়া ক্লাস রুম থেকে কথা কাটাকাটি করেন এবং অপরিচিত একটি মহিলা দৈনিক পত্রিকার টঙ্গীবাড়ি প্রতিনিধির হাত থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেন।

পরিচয় দিলে ক্যামেরা ফেরত দিয়ে দেন এবং প্রাইভেট রুম থেকে তানিয়া বারান্দায় বেড়িয়ে এসে বলেন আপনাদের মত সাংবাদিক অনেক গুলা আমার পকেটে থাকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোচিং বানিজ্য বন্ধ করতে বললেও পুনরায় তাকে ম্যানেজ করে চলে আসছে এ বানিজ্য। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক অভিযোগ করেন কোচিং না পরলে সে সকল ছাত্র ছাত্রীদের ফেল করান তানিয়া,

শিক্ষকদের উপর রাগ করে এলাকাবাসি বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটিতে আসার অনিহা প্রকাশ করছে বর্তমানে বিদ্যালয়ে কোন কমিটি নেই। আরোও অভিযোগ পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেয় স্কুল শিক্ষকরা।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন জানান, আমার বিদ্যালয়ে কোচিং বানিজ্য আজ থেকে চলবে না। তারপরেও চলে আসছে কোচিং বানিজ্য, বিদ্যালয় বন্ধ তারপরেও বেলা ১১টায় এত ছাত্রছাত্রী কেন এ প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক কোন উত্তর দিতে পারেননি।

পরে ছাত্রদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, আমরা পড়তে এসেছি আমাদের স্কুল খোলা, না বন্ধ আমরা জানতাম না, স্কুলে এসে জানতে পারলাম স্কুল বন্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবক ও ছাত্র ছাত্রীরা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কিছু বলতে গেলে বাচ্চাদের ফেল করানো হয়।

তাই আমরা কিছু বলতে ভয় পাই। তানিয়া ও মতি মাস্টার আত্মীয় তাই তারা দুজনেই বিদ্যালয়টি মন মতো পরিচালনা করেন এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্য সময় ৫ টাকা বা ১০ টাকা করে কিসের টাকা নেন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন বলেন, বিদ্যালযের উন্নয়রের স্বার্থে আমরা মাঝে মাঝে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকা বা ১০ টাকা নেই।

তিনি কোচিং বানিজ্য সম্পর্কে বলেন, এই বিদ্যালয়ে কোচিং বন্ধ থাকবে। যদি কোন শিক্ষক আমার কথা অমান্য করে, তাহলে আমি নিজে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার জানান, আমি আপনার মাধ্যমে এ বিষয়ে জানলাম অবশ্যই যথাযত ব্যাবস্থা নিবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here