আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান: হাইব্রিড নেতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, মুন্সিগঞ্জ নিউজ ডটকম:

কামাল আহাম্মেদঃ  

images (2)আমাদের ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ সর্বোপরি স্বাধীনতা অর্জনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একক নেতৃত্ব ছিল,  এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের ত্যাগ তিতিক্ষা ইতিহাসের পাতায়  স্মরণীয় অধ্যায় লিপিবদ্ধ আছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ আন্দোলন -সংগ্রাম, জুলুম-আত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে সেই আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে, বি এন পি–জামাত ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনে ২০০২ সালে ক্ষমতার বসে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী সমর্থকদের উপর অসহনীয় নির্যাতন চালায়, এই জুলুম নির্যাতন  সহ্য করে নেতা কর্মী- সমর্থকরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।

যার ফলশ্রুতিতে খালেদাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। সুযোগ পেয়ে ক্ষমতা লিপ্সুরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে দুই বছর ক্ষমতা আঁকড়ে রাখে।

২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে, তখনই শুরু হয় সুবিধাবাদীদের আওয়ামী লীগে আসা, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের কিছু মন্ত্রী, এমপি নেতাকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে আবার কিছু নেতা নিজের গ্রুপ শক্তিশালী করতে এই সুবিধাবাদীদের আওয়ামী লীগে ডুকার সুযোগ করে দেয়।

এই সুবিধাবাদীরা বি এন পি- জামাতের বিত্তশালী, প্রভাবশালী তারা একাই আওয়ামী লীগে ডুকে নাই তাদের সাবেক দল বিএনপি, জামাতি চেলা-চামচাদেরও সাথে নিয়ে ডুকে এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে নিজস্ব বলয় তৈরি করে নেয়, তাদের হাতেই আওয়ামী লীগের তৃণমুল নেতৃত্ব চলে আসে, তারা যেখানেই ঠেকে সেখানেই টাকা ছিটিয়ে সমাধান করে নেয়, এইভাবেই তারা মেম্বার- চেয়ারম্যান, মেয়র, উপজেলা- জেলা পরিষদ মেম্বার পদ বাগিয়ে নিয়ে দলীয় ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অংশীদার হয়।

তারা তাদের ফেলে আসা দলের লোকদের শেলটার দেয় আর তাদের কাজ কর্মের বিষয় সহায়তা করে থাকে, তাদের লক্ষ্য একটাই  সত্যিকারের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী- সমর্থকদের সাইজ করে ক্ষমতার বলয় থেকে দূরে রাখা, আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করা, এই হাইব্রিড নেতারা তাদের ফেলে আসা দলের নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক আছে অর্থাৎ সময় মতো নিজ দলে ফিরে যাওয়ার পথ পরিস্কার রেখেছে, তারা এই বিষয়  সার্থক হয় ।

আওয়ামী লীগের সত্যিকারের নেতা কর্মীরা অসহায় ছন্নছাড়ার মতো দেখে যায়। দুঃখ কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে আর ক্ষুব্ধ  হয়ে অন্তর জ্বালায় জ্বলছে, তাদের দেখার বুজার কেহ নেই, ভরসা একমাত্র শেখ হাসিনা।

এই ২০০৮ সালের পর যারা আওয়ামী লীগে ডুকে রাতারাতি নেতা বনে গেছে, মুজিব কোট পরে ঘুরে বেড়ায়,  ক্ষয়তার দাপট দেখায়, জনপ্রতিনিধি বনে গেছে তারাই হাইব্রিড, কাউয়্যা, অতিথি পাখী বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।

তারা আওয়ামী লীগে হাল হইয়া ডুকছে আর সময় মতো ফাল হইয়া বাইর হইব। এইসব হাইব্রিডধারী আওয়ামী লীগ মন্ত্রী, এম পি আর নেতারা জানে, জানার পরও দলীয় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে এই উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিডদের শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে।

দেশ-এ অপরাধ-দুর্নীতি-হত্যা- নারী ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয় তদন্ত্র রিপোর্টে শেখ হাসিনা অবগত হন। এইসব অপরাধে জড়িত তথাকথিত হাইব্রিড নামধারী আওয়ামী লীগ নেতা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত, তাই যে কোন বিনিময়ে আওয়ামী লীগকে হাইব্রিড মুক্ত করতে চান, কিন্তু তৃণমূলে যারা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, তারাও নিজ নিজ এলাকায় শক্ত অবস্থানে আছেন,

আছে তাদের সাথে কেন্দ্রিয় প্রভাবশালী নেতাদের সুসম্পর্ক, তাই কাজটি সহজ মনে হয় না, কারন হাইব্রিডরা তথাকথিত মন্ত্রী এম পি,নেতাদের যে টাকা দিয়েছে, সেইটাকে তারা বলে রাজনৈতিক ইনবেস্ট, এই ইনবেস্টকে ৫/১০ গুন করতে যা যা করার তারা তাই করছে, এতে আওয়ামী লীগের কি হল, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।

তাই বলতে চাই শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? কারন শুরু হয়ে গেছে হাইব্রিডদের আওয়ামী লীগের  পরিক্ষিত নেতা আর পুরানো সদস্য বানানো প্রক্রিয়া, তাই সকল বিষয় বিবেচনা করে আওয়ামী লীগকে আপদ-বিপদ মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকেই ভাবতে হবে ।

কামাল আহাম্মেদ, সম্পাদক, চেতনায় একাত্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here