সরকারি নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও টঙ্গীবাড়ীতে চলছে কোচিং বাণিজ্য

IMG_20200216_075828মো: জাফর মিয়া: টঙ্গীবাড়ীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চলছে কোচিং বাণিজ্য। কোচিং বাণিজ্যের এমন দৃশ্য দেখা যাবে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার রংমেহের গ্রামের বিটি কলেজ ও রং মেহের উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে।

এখানে কলেজ ও বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের রয়েছে ১৭টি কোচিং সেন্টার। সেখানে টাকার বিনিময়ে ক্লাস করাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। সরকার যেখানে আইন করে নিষিদ্ধ করেছে কোচিং বাণিজ্য সেখানে প্রকাশ্যে এতগুলা কোচিং সেন্টার একই এলাকায় হওয়াতে একটি কোচিং বাণিজ্য বাজারে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এসব কোচিং সেন্টারগুলো। উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বেপরোয়া হয়ে কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছে প্রায় ২৫ জন শিক্ষক। পাশাপাশি স্কুল গুলোতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতেও বাধ্য করছে।

শিক্ষকদের নির্ধারিত লাইব্রেরী থেকে শিক্ষার্থীরা অধিক টাকার বিনিময়ে কিনে নিচ্ছে নিষিদ্ধ গাইট বই। যেন দেখার কেউ নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিটি কলেজ ও রংমেহের উচ্চ বিদ্যালয় ঘিরে প্রকাশ্যে গড়ে উঠেছে ১৭টি কোচিং সেন্টার। যার সাথে জড়িত রয়েছেন কলেজটির শিক্ষক আজিজ, মেহেদি, রাজু,

পরিতোশ শংকর, সাগর, আইসিটি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, মানিক ও রংমেহের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিকসহ বিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষক। সকাল ভোরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীদের উপচে পরা ভীড়। কাছে এগুতেই চোখে পড়ে একের পর এক কোচিং সেন্টার।

এসময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কোচিং চলাকালীন রংমেহের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনিক ছাত্র-ছাত্রীদের দ্রুত ছুটি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফোন করেন এবং এক দারোগার ভয় দেখান। পরে তার ফোন পেয়ে তার পরিবারে একাধিক সদস্য এসে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের ঘিরে ধরেন।

এখানে কেন এসেছেন এত বড় সাহস কই পেলেন এমন সব কথা বলে শিক্ষক অনিক এর ছোট ভাই ও তার মা । এ সময় তারা উচ্চ স্বরে বলে প্রশাসন আমাদের কিছু করতে পারবেনা। আপনারা চলে যান লিখে আমার কিছুই করতে পারবেন না। বিটি কলেজের অধ্যক্ষ নূরুল মোমেন বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞার আলোকে প্রতিটা শিক্ষককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, কোন শিক্ষক কোচিং করাতে পারবেনা।

কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমি তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করব। রংমেহের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: হানিফ উল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের কোচিং বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। শুনেছি কিছু শিক্ষক এখনও কোচিং করছে।

ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলাপ আলোচনা করে কোচিং বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো: মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here