সিরাজদিখানে আলু চাষিদের সমীকরণ

rrem

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজদিখানে আলুর রোপন মৌসুমের শুরু থেকেই বেড়ে যায় শ্রমিকসহ বিভিন্ন উপকরণের মজুরি। আলু আবাদ ও উঠানোর সময় স্থানীয় মজুর কোনভাবেই পাওয়া যায় না। ফলে বাইরের জেলার মজুরদের ওপর এখানকার কাজ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ মৌসুমে প্রচুর মজুর আসে আলু ক্ষেতে কাজ করতে। একাজে অনেক ছোট চাষিরা নানান সমস্যায় পড়েন আলু আবাদ করে। এ বছর আবওহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলু ক্ষেতে রোগ তেমনটা দেখা দেয়নি বলে আলু আবাদের সাথে জড়িত চাষিরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

প্রয়োজনের সময়ে একাধিকবার বৃষ্টি থাকায় সেচ কম দিতে হয়েছে আলু ক্ষেতে। এতো কিছুর পরেও আলুর দাম নিয়ে সমীকরণ কসছে আলু চাষিরা। সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ কোটি টনের ওপরে আলু উৎপন্ন হয়।

এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় এ বছরে আলু উৎপন্ন হতে পারে প্রায় তিন লাখ ৩২ হাজার টন। বাংলাদেশে ৮০ লাখ টন আলুর চাহিদা রয়েছে। এ বছর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ২০০ হেক্টর

জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে আলু প্রায় ৫০ ভাগ উঠানো হয়েছে ।জানা যায়, গত কয়েক বছর গাছ মরে যাওয়া আলুতে দাউদ, আলু পচনসহ বিভিন্ন রোগের কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে।

কয়েক বছরের লোকসানের কারণে এবছর কোল্ড স্টোরেজে আর আলু রাখতে চাচ্ছে না কৃষকরা। কোল্ড স্টোরেজে রাখার জন্য বস্তা, সুতলী, লেবার খরচ, গাড়ি ভাড়া ও স্টোরেজের ভাড়া দিয়ে আলুর মূল্য দেড়গুন হয়ে যাচ্ছে। তাই কৃষকরা আলুগুলোকে দেশিয় পদ্ধতিতে গোলাতে রাখছে।

তারা স্টোরেজে আলু রাখতে এখন কোনভাবেই আগ্রহী হচ্ছে না। উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের কৃষক পাভেল হাওলাদার বলেন, এ বছর আলুর ফলন কম হয়েছে। এখন পর্যন্ত দাম ভালো। তবে ফলন কম হওয়া ও

অন্যান্য খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভ হবে কিনা বুঝতে পারছি না। কোল্ড স্টোরেজে রাখলে আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে লোকসান হয়। তাই কিছু আলু ষ্টোরে না রেখে গোলায় রাখব।

উপজেলার বয়রাগাদীর কৃষক মিলন বলেন, গত ৩ বছর আমার প্রায় ২৫ লাখ টাকার মত লোকসান হয়েছে। এবছরও ৩৫ বিঘা জমিতে আলু রোপন করেছি। জমি থেকেই ব্যবসায়ীরা ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা বস্তা (৫৫-৫৬) কেজি আলু কিনতে চাচ্ছে ।

তাই আমি এখন বিক্রি না করে লাভের আশায় গোলাতে (দেশিয় পদ্ধতিতে) রাখছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, এর মধ্যে ৫০ শতাংশ আলু উত্তোলন করা হয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় হেক্টর প্রতি দেড় থেকে দুই টন আলু কম হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here