মুন্সীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত ২৪: নতুন ৫, মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনে দিনে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। গত বুধবারে সর্বশেষ ১৯ জনের পরে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরো ৫ জন। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪।

তবে জেলায় করোনা রোগীর বিস্তার দিনে দিরে বাড়লেও সাধারণ মানুষের মাঝে এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে হচ্ছেনা। সামাজিক দূরুত্ব বা সর্তক থাকার ছিটে ফোটও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না এ জেলার মানুষদের মাঝে। অবাধে হাট বাজার, রাস্তাঘাটে এবং পাড়া মহল্লাসহ মানুষের চলাফেরা রয়েছে সর্বত্র।

জেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের একটি টিম যথেষ্ট চেষ্টা করার পরেও তাদেরকে ঘরমুখে করতে পারছে না কেউ। ব্যাংগুলোতে রয়েছে উপচে পড়া ভীর। যা দেখলে কারো মনে হবেনা এদেশে করোনার অস্তিত্ব রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য মতে জেলার ৪ উপজেলায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে সদরে ১ জন, টঙ্গীবাড়িতে ১, লৌহজংয়ে ২, গজারিয়ায় ১জন করে সর্বমোট ৫জন।

এর মধ্যে সর্বমোট করোনা শনাক্ত হয়েছে সদর ৩, টঙ্গীবাড়িতে ৭, লৌহজং ৩, গজারিয়ায় ৭, সিরাজদিখানে ৩, শ্রীনগরে ১ জন, সর্বমোট ২৪ জন। যার মধ্যে মত্যু হয়েছে ৪ জনের। সদর ১ জন, টঙ্গীবাড়িতে ২জন, লৌহজংয়ে ১জন মৃত্যুবরণ করেছেন। করোনা ভাইরাসে শনাক্ত ১৭ জন এখনও সুস্থ আছেন।

টঙ্গীবাড়ির তিনজন এবং গজারিয়ার একজন বাদে বাকি ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। বাকিরা বাড়িতেই আইসোলেশনে সুস্থ আছেন। কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৫জন, ছাড়পত্র নিয়েগেছেন ১ জন, মোট কোয়ারেন্টাইন করেছেন ৯০৭জন, কোয়ারেন্টাইন শেষ করেছে ৬৯৬জন।

বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১ জন এবং হোম কেয়ারেন্টাইনে আছেন ২১০ জন সর্বমোট ২১১ জন। মুন্সীগঞ্জ শহরে গত মঙ্গলবার প্রথম করোনা শনাক্ত হয়েছে মানিকপুরের এক বৃদ্ধের (৬০)। ওই বৃদ্ধের বাড়ি লকডাউন করেছে প্রশাসন। গজারিয়ায় আক্রান্ত ৬।

গজারিয়া উপজেলায় নতুন করে আরও দু’জন আক্রান্ত হয়েছে। এর একজন গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট (৫৪)। অপরজন বাউশিয়ার গ্রামের এক গৃহিণী (৫৫)। তাদের দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য ঢাকার করোনা চিকিৎসালয় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব দাবী করে সাংবাদিক মোঃ জাফর মিয়া বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি আমরা সাংবাদিকদের একটি টিম কাজ করে যাচ্ছি। আমরা শহর থেকে শুরু করে গ্রামের অজপাড়া গাঁয়ে পর্যন্ত গিয়ে মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করছি কিন্তু তা মানছে না সাধারণ মানুষ।

এতে করে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব সর্বত্র ছড়িয়ে যেতে পারে। মানুষের অবাধে ঘুরাফেরা বা সামাজিক দুরুত্ব এখনই নিশ্চিত করা না গেলো পরিনাম ভালো হবেনা। সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করা জরুরি দাবী করে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন,

এ পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের ৬ উপজেলা নমুনা সংগ্রাহ করা ১৬৫ জনের সোয়াব আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৫ জন, জেলায় এখন সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ জন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মুত্যু হয়েছে ৪ জনের।

যার মধ্যে সদরে ১ জন, টঙ্গীবাড়িতে ২ জন লৌহজংয়ে ১ জন সর্বমোট ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here