সমাজের মানসিকতা না বদলালে রোগ লুকোনোর প্রবণতা বাড়বে: সজিব মোল্লা

জুয়েল দেওয়ান: আমার বাবা তো জেনেবুঝে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি, তাহলে কেন আমাদের পরিবারকে কার্যত অপরাধী বানানো হয়েছে.? এটা ঠিক নয়! করোনার সাথে লড়াই করতে হলে এই মানসিকতার আমাদের বদল ঘটাতে হবে। সমাজের মানসিকতা না বদলালে রোগ লুকোনোর প্রবণতা বাড়বে। সেটা খুবই ভয়ের।’ গত শুক্রবার কথাগুলো ফোনে বলেন গজারিয়া করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি আব্দুস সাত্তার মোল্লার ছেলে

সজিব মোল্লা। তিনি আরো বলেন, গত ১৪ এপ্রিল তার বাবা কে সু-চিকিৎসার জন্য ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কভিড-১৯ বিভাগে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সেখানে কভিড-১৯ এর কোন সু-চিকিৎসা নেই। গত দুদিনে ওই হাসপাতালে ডাক্তার তো দূরের কথা একজন নার্সকেও দেখেননি তার বাবা। আমার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ছিলেন, বাড়ি থেকে হাসপাতালে যাওয়ার সময় আমার মা, বাবার ব্যাগে ঈগঐ এর

চিকিৎসা বইটি সাথে দিয়ে দিয়েছিলেন। নিজের জীবন বাঁচাতে ঐ চিকিৎসা বইটি সাথে নিয়ে বাবা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা ঈগঐ হাসপাতালে চলে যান। ঐখানের চিকিৎসক বাবাকে দেখেন। বাবাকে কিছু ঔষধ ও শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। তখন আমার বাবা বললেন আমাকে এখানে

ভর্তি করান। তখন চিকিৎসক বাবাকে বললেন আপনার শারীরিক অবস্থা অনেক উন্নতির দিকে তাই আপনাকে এখানে ভর্তি হতে হবে না। বাসায় থাকবেন আর আমিষ জাতীয় খাবার এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাবেন।। তারপর ওনাদের তত্বাবধানে ঐখান থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে বাবাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়িতে আসার পর

গত ১৬এপ্রিল সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে বাবার শারীরিক অবস্থা জিজ্ঞাসা করেন এবং বাবা কে বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিতে বলেন। আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের সবার দোয়ায় আমার বাবা এখন অনেকটাই সুস্থ। আমার বিশ্বাস আমার বাবা খুব শীঘ্রই পুরোপুরি কভিড-১৯ মুক্ত হয়ে সুস্থ

হয়ে উঠবেন “ইনশাআল্লাহ। আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। আমার বাবা করোনা আক্রান্ত হওয়া সমাজের বেশকিছু মানুষ আমাদের পরিবারকে কার্যত অপরাধী বানিয়ে দিয়েছে, একটু চিন্তা করুন আজ আমার বাবা করোনা আক্রান্ত, আগামীকাল আপনার বাবার করোনা আক্রান্ত হলে কি করবেন..???

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here