ই-কমার্সকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

Tipu_Munshi_(cropped)করোনা প্রদুর্ভাব রোধে মানুষকে ঘরে রাখার কোনো বিকল্প নেই। আর ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখা সম্ভাব হয়েছে। ই-কমার্স পরিচালনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সামাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত সাধারণ ছুটিকালীন জনসাধারণকে সহযোগিতা করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-ক্যাবের ই-কমার্স সংক্রান্ত গৃহীত পদক্ষেপ এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ই-ক্যাব এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সারের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,

ই-ক্যাব উপদেষ্টা ও সাংসদ নাহিম রাজ্জাক, বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, এফবিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন ই-কমার্স তারই একটি অংশ।

করোনাভাইরাসে যখন গোটা বিশ্ব আক্রান্ত তখন ই-কমার্সের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভব করলাম। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ সবাই যেমন করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্ট লাইনে কাজ করেছে একইভাবে ই-কমার্সে যারা কাজ করছেন তারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্রন্ট লাইনে থেকে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, করোনা প্রদুর্ভাব রোধে মানুষকে ঘরে রাখার কোনো বিকল্প নেই, মানুষকে ঘরে রাখা সম্ভব হয়েছে ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিয়ে। এজন্য ই-কমার্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। তবে ই-কমার্স কার্যক্রম চালাতে বেশ কিছু সমস্যার কথা শুনলাম।

এসব সমস্যা সামাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। আগেও আমরা ই-কমার্সকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছি, আগামীতে সেটা অব্যহত থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ই-কমার্সকে আরও এগিয়ে নিয়ে আমরা সবাই মিলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সহযোগিতা করব।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রায় দেড় মাস ধরে দেশে লকডাউন অবস্থা বিরাজ করেছে। তাই ই-কমার্স খাতের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। ফলে করোনার প্রভাবে এ খাতে প্রতিমাসে ক্ষতির পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে বলে জানায় ই-ক্যাব।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ই-ক্যাবের অর্থ সম্পাদক আবদুল হক অনু করোনাভাইরাসের প্রভাবে ই-কমার্স খাতের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, বর্তমানে ই-ক্যাবের মেম্বর সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ২০০ জন। বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার ৮ হাজার কোটি টাকা। এ সেক্টরে কাজ করছে ১ লাখ ২৫ হাজার কর্মী।

এর মধ্যে ২৬ শতাংশ হচ্ছে নারী এবং ৭৪ শতাংশ হচ্ছে পুরুষ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে ই-কমার্সের অবদান দশমিক দুই শতাংশ। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৮০ হাজার পরিবার ই-কমার্সের থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। করোনাভাইরাসের কারণে মোট ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

এসব প্রতিষ্ঠান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিত্যপণ্য এবং ওষুধ সরবরাহ করেছে। করোনার কারণে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় ই-কমার্স খাতে প্রতিমাসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৬৬৬ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেন, আমাদের ই-কমার্স খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে করোনাকালে প্রায় ৯০ শতাংশ ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।

যারা সীমিত আকারে কাজ করেছে তারাও সে অর্থে ব্যবসা করেনি, যেটুকু পেরেছে মানবসেবা করেছে। তিনি আরও বলেন, এখন ই-কমার্স খাতে আলাদা খাত ঘোষণা করার সময় এসেছে। কারণ আমরা ব্যাংক ঋণ নিতে গেলে সমস্যায় পরতে হবে।

আমরা সবাই কিন্তু মিডিয়াম-স্মল এন্টারপ্রিনিয়ার তাই আমাদের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স মওকুফ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা যদি প্রণোদনা নাও পায় তারপরও আমরা আগামী কয়েক বছরের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স মওকুফ চাই। করোনার সময়ে আমরা ২ শতাংশ সুদে ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ব্যাংক ঋণ চাই। এসময় সহযোগীতার আশ^াস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here