যে কারণে শ্রীদেবীকে ট্রাক ভর্তি গোলাপ পাঠিয়েছিলেন অমিতাভ?

06-প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবী। তাকে বলা হয় ভারতের প্রথম নারী সুপারস্টার। অভিনয় দিয়ে রুপালি জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি পর্দার বাইরেও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা তাকে যথেষ্ট সমীহ করতেন। কারণ ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও শ্রীদেবী ছিলেন অন্যান্যের চেয়ে আলাদা। ‘বলিউডের শাহেনশাহ’খ্যাত অমিতাভের সঙ্গে ‘ইনকিলাব’, ‘আখেরি রাস্তা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শ্রীদেবী।

নব্বইয়ের দশকে অমিতাভ যখন অভিনয় ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো সময় পার করছিলেন তখন শ্রীদেবীই একমাত্র অভিনেত্রী যিনি এই অভিনেতার সমপরিমাণ পারিশ্রমিক দাবি করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় অমিতাভের বিপরীতে অভিনয় না করার সাহসও দেখিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনা বলিউডে তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখে। মিডিয়া শ্রীদেবীকে ‘নারী বচ্চন’ উপাধি দেয়। এরপর তিনি যখন অমিতাভের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় বন্ধ করে দেয় বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করে।

ফিল্ম ফেয়ার তো শিরোনামই করে ফেলেছিল, ‘আউট অব রিচ’ অর্থাৎ ‘ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’ পরবর্তী সময়ে অমিতাভ ও শ্রীদেবীকে নিয়ে ‘আজুবা’ সিনেমা নির্মাণ করতে চাইলেন শশী কাপুর। কিন্তু চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় রাজি হননি শ্রীদেবী। এ ছাড়া বাজেটও বড় একটি কারণ ছিল। এরপর রমেশ সিপ্পি ‘রাম কি সীতা শ্যাম কি গীতা’ সিনেমায় এই জুটিকে নিতে চাইলেন। কিন্তু সিনেমাটির কাজ আর আগায়নি। মজার বিষয়,

জনপ্রিয় ‘জুম্মা চুম্মা’ গানটি এই সিনেমার জন্যই তৈরি হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে কোরিওগ্রাফার সরোজ খান বলেন, ‘দৃশ্যটি ভাবা হয়েছিল, অমিতাভ পুলিশ কর্মকর্তা আর তিনি পকেটমার শ্রীদেবীকে হাতে নাতে ধরবেন। এরপর শ্রীদেবী তাকে ঘুষ দিতে চাইলে অমিতাভ চুম্মা চাইবেন।’ কিন্তু পরবর্তী সময়ে গানটি ‘হাম’

সিনেমায় ব্যবহার হয়। এভাবে চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় অমিতাভের সঙ্গে একের পর এক সিনেমা ফিরিয়ে দিতে থাকেন শ্রীদেবী। এরপর প্রযোজক মনোজ দেশাই এবং পরিচালক মুকুল আনন্দ বিগ বাজেটের ‘খুদা গাওয়া’ সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, যার প্রেক্ষাপট হবে আফগানিস্তান।

অমিতাভ আগে থেকেই নায়ক হিসেবে নির্ধারিত ছিলেন। নির্মাতারা নায়িকা হিসেবে শ্রীদেবীকে চাইছিলেন। কিন্তু কীভাবে রাজি করাবেন বুঝতে পারছিলেন না। তবে তাদের কাছে একটি সুযোগ ধরা দিল। ওই সময় সিনেমা মুক্তির আগে নির্মাতা ও মিডিয়াকে সিনেমার দৃশ্য দেখানো হতো। বনি কাপুর এবং সতীশ কৌশিক তেমনি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে ‘রূপ কি রানি চোরো কা রাজা’ সিনেমার ‘দুশমন দিল কা’ গানটি দেখানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ। বলার অপেক্ষা রাখে না,

শ্রীদেবীর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। এই অভিনেতা এতটাই মুদ্ধ হন পরদিন শ্রীদেবীর জন্য এক ট্রাক গোলাপ পাঠিয়ে দেন। এতে মন গলে শ্রীদেবীর। মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। ঘটনাটি নিয়ে এবার ফিল্মফেয়ার পত্রিকায় লেখা হলোÑ ‘যেভাবে শ্রীদেবীর মন জয় করলেন অমিতাভ।’ এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সরোজ খান বলেন, ‘আমরা একটি সিনেমার শুটিং করছিলাম তখনই ট্রাক এলো।

তারা শ্রীদেবীকে এর পাশে দাঁড়াতে বললেন। এরপর ট্রাক থেকে তার মাথায় ফুল পড়তে শুরু করল। দেখার মতো দৃশ্য ছিল।’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাবে রাজি হন শ্রীদেবী। তবে রাজি হলেও কিছু শর্ত জুড়ে দিলেন। আর তা হলোÑ অমিতাভের স্ত্রী ও মেয়ে দুই চরিত্রেই অভিনয় করবেন তিনি।

কিন্তু সেই সময় এটি ছিল অকল্পনীয়। কারণ এর আগে কোনো নায়িকা অমিতাভের সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেননি। কিন্তু শ্রীদেবী তার মূল্য ঠিকই জানতেন। অমিতাভও শ্রীদেবীর সঙ্গে অভিনয়ের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। অগত্যা রাজি হন। কয়েক বছর আগে ‘আখেরি রাস্তা’ সিনেমায় একটি ছোট চেির্ত্র অভিনয় করেন শ্রীদেবী, এখন সেই অমিতাভের সিনেমাতেই দ্বৈত চরিত্রে হাজির হন তিনি। শ্রীদেবীই একমাত্র নায়িকা যিনি বিগ বি অমিতাভের সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন।

বলিউড সিনেমা বিশ্লেষক ভরদ্বাজ রঞ্জন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এর আগে কখনো কি এরকম হয়েছে? শ্রীদেবী হিরোর ভূমিকায় এসে শুধু বলিউডের সংজ্ঞাটাই পরিবর্তন করেননি, তিনি হিরো নিয়ে ধারণা অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তার দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় প্রমাণ করে ইন্ডাস্ট্রিতে তার প্রভাব কতটুকু ছিল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here