নাটকের গল্পে আসছে পরিবর্তন

230457_e1লকডাউনের কারণে দুই মাসের বেশি সময় টিভি নাটকের শুটিং বন্ধ ছিল। এরমধ্যে অনেকে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বাসায় শুটিং করেছেন মোবাইল ক্যামেরায়। অবশেষে গেল ১লা জুন থেকে আবারো শুটিং শুরু হয়েছে। টিভি নাটকের আন্তঃসংগঠনগুলোর নিয়ম মেনেই এখন শুটিং হচ্ছে। অনেক পরিচালক, অভিনেতা ও

অভিনেত্রী শুটিং শুরু করেছেন। তবে দূরত্ব বজায় রেখে এবং সংগঠনের নিয়ম-নীতি মেনে এই সময়ে ভালো নাটক উপহার দেয়া কতটুকু সম্ভব প্রশ্ন থেকে যায়।

জানা যায়, করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে সব কিছুর মতো নাটকের গল্পেও আসছে পরিবর্তন। এই সময়ে ইনডোর ভিত্তিক নাটকের দিকেই নির্মাতারা জোর দিচ্ছেন। কিন্তু ডাল-পালা বিহীন শুধু ইনডোর বেইজড নাটকগুলো দর্শক কীভাবে নেবেন সেটিও নির্মাতাদের ভাবাচ্ছে। এদিকে স্বল্প সংখ্যক শিল্পী নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে। গেল

কয়েক বছর আমাদের নাটক এমনিতেই নায়ক-নায়িকা নির্ভর হয়ে গেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। তারমধ্যে ইনডোর বেইজড গল্পের নাটকের মান কতটা ধরে রাখা যাবে তা নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। বিষয়টি নিয়ে নির্মাতা সাগর জাহান বলেন, আমাদের এই পেশায় দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা অসম্ভব।

কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে নেই। তাই বাধ্য হয়ে এভাবেই কাজ করতে হবে। এই সময়ে আউটডোর কাজ করা সম্ভব হবে না। ফলে যারা কাজ করছেন তাদের ইনডোর ভিত্তিক গল্পের দিকেই গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের নাটক দর্শক নেবে কিনা সেটাই সন্দেহ! কারণ দর্শক নাটক দেখার সময় বিনোদন খুঁজবে। এটি করোনার সময়ে নির্মাণ হয়েছে সেই বিষয় তারা ভাববেন না। এ ছাড়া গল্পে বৈচিত্র্যতা না থাকলেও সেটির প্রতি

দর্শকের আগ্রহ থাকে না। আমি যদি ইনডোর ভিত্তিক মনের মতো কোনো গল্প পাই তাহলে কাজ করবো। না হয় এখন শুটিং করার ইচ্ছে নেই। নির্মাতা মহিদুল মহিম বলেন, আমি এখনো শুটিং করার পরিকল্পনা করিনি। আমি যে ধরনের নাটক করি তার জন্য আমাকে আউটডোরে যেতে হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সে ধরনের কাজ করা সহজ হবে না। এই সময়ে কাজ করতে হলে ইনডোর বেইজড গল্পের বিকল্প নেই। কিন্তু কাজ করতে গেলে এভাবে ভালো কাজ কখনো সম্ভব নয়। আমি মনে করি এখন যারা কাজ করছেন তারা কাজের জন্য কাজ করছেন। জীবিকার প্রয়োজনেই এই কাজ করতে হচ্ছে। শুধু ঘর-জানালা বারান্দা ভিত্তিক গল্প নিয়ে কয়টা নাটক নির্মাণ করা যাবে? একজন লেখক যদি লেখার স্বাধীনতা না পান তাহলে সেখানে ভালো গল্প ফুটে উঠবে না। জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদও নাটকের গল্পের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন।

তার ভাষ্য, আগের মতো এখন তো আর শুটিং সম্ভব হবে না। তার জন্য গল্পে পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তন একক ও ধারাবাহিক দুটোর ক্ষেত্রেই। গেল ৩রা জুন থেকে শুটিং শুরু হয়েছে দীপ্ত টিভির ‘মান-অভিমান’ মেগা সিরিয়ালের। এই ধারাবাহিকের অভিনেত্রী সানজিদা বলেন,

গল্পের পরিবর্তন করেই আমাদের এই সিরিয়ালের শুটিং করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হলে এখন আর আগের মতো কাজ করা যাবে না। পরিচালক তাই অনেকের চরিত্রে পরিবর্তন করেছেন। অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম বলেন, এখন নাটকের গল্পে পরিবর্তন ছাড়া উপায় নেই। আউটডোরে শুটিং সম্ভব না। সেক্ষেত্রে নতুন কিছু ভাবতে হবে। ইনডোর ভিত্তিক নাটক করতে হলে সেখানে

গল্প ফুটাতে হবে অন্যরকম চমক দিয়ে। এমনিতেই অনেকের অভিযোগ আমাদের নাটকের গল্প গতানুগতিক। সেক্ষেত্রে ইনডোর বেইজের নাটকের দিকে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে নির্মাতাদের। বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান তারেক আখন্দ বলেন,

আমরা এখন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। শুটিং তো মাত্র কয়েকদিন হলো শুরু হয়েছে। তবে এটা বলতে পারি নাটকের মানের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দেবো না। গল্প যদি হয় দুজন ভার্সিটি পড়ুয়া তরুণ-তরুণীর। আর সেটাকে যদি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয় সেই গল্পের নাটক নিয়ে আমাদের আগ্রহ থাকবে না। ইনডোর ভিত্তিক নাটক হলে সেটির গল্পও মানসম্পন্ন হতে হবে বলে আমি মনে করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here