বর্ষার আগমনে নৌকা তৈরি-মেরামত কাজে ব্যস্ত মুন্সীগঞ্জের কারিগররা

downloadমোহাম্মদ সেলিম:

বর্ষা মৌসুম না আসলেও মুন্সীগঞ্জের পদ্মা-মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীতে গত কয়েকদিন ধরে ভারিবর্ষণ ও বৃষ্টিতে নদীতে ব্যাপক পরিমাণে পানি বাড়ছে। পদ্মা নদীর হাসাইল বানারী পয়েন্টে এখন চলছে নদী ভাঙন।

ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার বোরো ধান, বাদাম ক্ষেতসহ ফসলি জমি। পানি বাড়ার সাথে সাথে এই এলাকার নৌকার মালিকরা নতুন নৌকা তৈরি ও আগের পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজ শুরু করায় স্থানীয় মিস্ত্রীরা ব্যস্ত সময় পার করছে।

বর্ষা মৌসুমের কিছুটা আগেই নদীর পানি থৈই থৈই করায় নৌকা ব্যবসার সাথে জড়িতরা আগাম প্রস্তুতি নেওয়ায় মিস্ত্রীদের কদর আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভৌগলিকভাবে মুন্সীগঞ্জ জেলাটি অন্যান্য জেলার চেয়ে একটু নিচু এলাকা। এছাড়া তিনটি নদী এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এখানে একাধিক চর এলাকাও রয়েছে। কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস এইসব চরে। শুকনো মৌসুমে যোগাযোগের জন্য পায়ে হাঁটার পথ থাকলেও বর্ষা মৌসুমে তা একেবারেই থাকে না। জীবন ও জীবিকার জন্য নৌকা যেন নিত্যদিনকার অপরিহার্য জিনিস।

প্রতিটি গ্রাম প্রতিটি বাড়ি যেন একেকটি আলাদা আলাদা দ্বীপ। তাই বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগের জন্য নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই রয়েছে একটি করে নৌকা। এসব নৌকাই তাদের চলাচলের প্রধান ভরসা। করোনা পরিস্থিতির কারণে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া আসা বন্ধ তাকলেও জীবন জীবিকার জন্য অসুখে বিসুখে জরুরী প্রয়োজনে হাসপাতালে পৌছানো সব কাজেই প্রয়োজন হয় নৌকার।

তাছাড়া মাছ ধরা তো আছেই। তাই এ মৌসুমে নৌকা কেনা ও পুরাতন নৌকা মেরামতের ধুম পরে যায় মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই চরগুলের বেশিরভাগ এলাকা ডুবো ডুবো অবস্থায় রয়েছে।

পদ্মা নদীর পারে লৌহজং ও শ্রীনগরে পুরাতন নৌকা মেরামত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে নৌকা কারিগররা। যেসমস্থ নৌকা ব্যবহারের একেবারেই অনুপযোগী সেগুলোর কাঠ দিয়ে তৈরী করছে চৌকি। নৌকার কাঠের তৈরী চৌকি খুব টেকশই হওয়ায় এর চাহিদা ও দাম বেশি। এব্যপারে কথা হয় শরীফ মিস্ত্রীর সাথে তিনি জানান, বর্ষা আসার আগেই প্রায় সব নৌকাই ঠিকঠাক করে আলকাতড়া দেয়া হয়। আর একেবারেই ভাঙ্গাচোরা নৌকার কাঠ দিয়ে আমরা চৌকি বানিয়ে বিক্রি করি।

তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার চৌকি এখানে পাওযা যায়। এই চৌকি ৫০-৬০ বছরেও ঘুনেও খায়না নষ্টও হয় না। তৈরি নৌকাগুলো সারিসারি রাখা হয়েছে। আর নিজে ব্যস্ত নতুন নৌকা তৈরিতে। তার কাছ থেকে জানা যায় কম দামের নৌকা তৈরিতে জল কড়ই, ডেম্বুল, কদম ইত্যাদি কাঠ ব্যবহার করা হয়।

যার দাম পরে ২ হাজার ৫শ থেকে সাইজ অনুসারে ৬ হাজার টাকার নৌকা তৈরী হচ্ছে। আর প্লেনসিটের তৈরি নৌকা ৮ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে এবার করোনার জন্য এনজিও বন্ধ থাকায় টাকার অভাবে বেশি করে কাঠ কিনে নৌকা বানাতে পারেনি বলে জানান তিনি। নৌকা কিনতে আসা রমজান আলী জানান, দুই সপ্তাহ আগেই নৌকা কিনার দরকার আছিল এহন না কিনে আর পারছি না। গরুর ঘাস কাটা মাছ ধরা ও পারাপারের জন্য নৌকা কিনতে আসছি নৌকা ছাড়া বর্ষায় আমরা অচল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here