করোনা প্রাদুর্ভাবে আয়কর জালের আওতা বাড়াতে পারছে না সরকার

153527_image_url_unnamedকরোনা মহামারী প্রাদুর্ভাবের কারণে আয়কর জালের পরিধি বাড়াতে পারছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় চেয়েছিল দেশের করদাতার সংখ্যা ৩ অর্থবছরে কোটিতে নিয়ে যাওয়ার। ওই লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নতুন করদাতার সংখ্যা ৯ লাখ ২৩ হাজার নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। এ অবস্থায় ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর জালের আওতা বাড়াতে পারছে না অর্থ মন্ত্রণালয়। বরং আগের লক্ষ্য থেকে সরে এসে নতুন করদাতার সংখ্যা ৫ লাখে বেঁধে দেয়া হয়েছে।

আর সংশোধিত ৫ লাখ নতুন করদাতার মাইলফলক ছুঁতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। বর্তমানে দেশে ইটিআইএনধারীর সংখ্যা মাত্র ৪৪ লাখ।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব শ্রেণির করদাতার রোজগারে বড় ধাক্কা লেগেছে। তাই এবার আর করদাতার সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। আর দেশে এটাই প্রথম আয়কর জালের আওতা কমানোর ঘটনা। দেশে দুই প্রকারের ছোট করদাতা রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে সৎ, ক্ষুদ্র ও নিম্ন পর্যায়ের।

তারা এমনিতেই কর দেন। তাদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। আরেকটা হলো প্রাইভেট সেক্টরের, ইনফরমাল সেক্টরের করদাতা। আর দেশে বড় করদাতাও দুই ধরনের। এক. এনবিআরের তালিকায় যাদের নাম আছে।

কিন্তু তারা নানাভাবে কর ফাঁকি দেন। আর অপর পক্ষটি কর দেয় না। তবে তাদর সংখ্যা অবশ্য কম। কারণ বড়দের সবারই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। তবে বড় করদাতাদের একটা ফাঁকি ছোট ১০০ করদাতার করের সমান। তাই বড় করদাতাদের দিকে বেশি নজর দেয়া জরুরি।

সূত্র জানায়, এদেশে অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর দেন না। প্রতি অর্থবছরই তাদের নতুন করে যুক্ত করার মিশনে নামে এনবিআর। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনা ভাইরাসের কারণে সব কিছু থমকে গেছে।

তাই নতুন করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি বা করজালের আওতা এবার সেভাবে বাড়ানো হচ্ছে না। সেজন্য এনবিআরকে ৫ লাখ করদাতা যুক্ত করার টার্গেট দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র আরো জানায়, নতুন করদাতা চিহ্নিত করতে প্রতিটি উপজেলায় রাজস্ব দপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে করদাতার সংখ্যা বেশি, সেসব উপজেলায় একাধিক রাজস্ব দপ্তর স্থাপন করা হবে। আগামী অর্থবছর এ কাজে আরো জোর দেয়া হবে।

কঠিন পরিস্থিতিতে এনবিআরের কর্মকর্তারা যাতে এ কাজ করতে উৎসাহিত হন সেজন্য তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। কর জালের আওতার মতো আগামী অর্থবছরে করও বাড়ানো হবে না। মানুষকে ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতেই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here