প্রাথমিকের ১৪৫ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বুধবার ১০ জন সনাক্ত ও দুইজন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে শিক্ষকরা আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে ডিপিই’র ওয়েবসাইটে প্রতিদিন তথ্য আপডেট করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত প্রাথমিকের ১১৭ জন শিক্ষক, ১৩ জন কর্মকর্তা, ৮ জন কর্মচারী ও ৭ জন শিক্ষার্থী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একজন শিক্ষক মারা গেছেন। পর্যাক্রমে ২৭ জন সুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন শিক্ষক, ২ জন কর্মকর্তা ও ৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। দেখা গেছে, আক্রান্তকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১

জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, চট্টগ্রামে ৫১ জন, খুলনায় ৪ জন, বরিশালে ৮ জন, সিলেটে ১৪ জন, রংপুরে ৬ জন এবং ময়মনসিংহে ৬ জন রয়েছেন। জানা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা মুমূর্ষু। নিজ উদ্যোগেই নানাভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। নিম্ন বেতনের প্রাথমিক শিক্ষকরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন।

পরিবারের সদস্যরাও কেউ কেউ আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই শিক্ষকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তাদের কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের নানা ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কারও চিকিৎসকের পরামর্শ লাগলে সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষক কভিড-১৯ আক্রান্ত, তাদের বেশিরভাগই নিজের বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি আছেন কয়েকজন।

তবে সম্প্রতি প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্তের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে ডিপিই। প্রতিদিন এ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে ২৪ ঘণ্টা পর পর ওয়েবসাইটে আপডেট করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিইর মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন,

প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কেউ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে তার তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য সার্বিক সহায়তা দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,

বর্তমান মহামারি যতদিন স্বাভাবিক না হবে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি দেশের যেখানেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী আক্রান্ত হবে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সার্বিক সহায়তা দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here