পুরাবাজারে বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে পড়ায় জন দুর্ভোগ আরো বেড়েছে

2মোহাম্মদ সেলিম ও তুষার আহাম্মেদ:

মুক্তারপুর-দীঘিরপাড় সড়কের পুরাবাজার এলাকায় আবারো বাঁশের সাঁকোটি ভেঙ্গে পড়েছে। এর ফলে এ পথে চলাচলে সাধারণ মানুষের জন দুর্ভোগ আরো কয়েক ধাপ বেড়ে গেছে। এ পথ দিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষ্যাধিক মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে থাকে বলে এ পথের যাত্রীরা জানিয়েছে।

এছাড়া এ পথ দিয়ে মাঝে মধ্যে শরীয়তপুরের এক মন্ত্রীও চলাচল করে থাকেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সেই মন্ত্রী ঢাকা থেকে গাড়ী নিয়ে প্রথমে দীঘিরপাড়ে আসেন। পরে দীঘিরপাড়ের পদ্মার পাড় থেকে স্প্রিড বোর্ডে করে সেই মন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় যান বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ পথ ব্যবহারে সেই মন্ত্রী মাত্র দশ মিনিটেই তার গন্তব্য স্থলে পৌঁছাতে পারেন বলে জানা গেছে। এ কারণে বর্তমানে এ সড়ক পথটি নানা কারণে গুরুত্ব রয়েছে সরকারের সব মহলের কাছে। দেড় মাস আগে এ পথের বেইলি সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় এখানে প্রাথমিক ভাবে চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেয়া হয়।

কিন্তু সেটিও এখন ভেঙ্গে গেছে আবারো। এখন বিকল্প পারাপারের জন্য এখানে ইঞ্জিন চালিত নৌকা দেয়া হয়েছে এ পথের যাত্রীদেও জন্য। সেটি দিয়েই এ পথের লোকজন বর্তমানে চলাচল করছেন। এদিকে বেইলি সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় এ পথে ঢাকা-দীঘিরপাড় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে অনেক দিন ধরে।

এর ফলে এ পথে এখন সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন দিয়ে এখানকার মানুষ বর্তমানে চলাচল করছেন। তবে এ পরিস্থিতিতে এই চলাচলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সুযোগে পরিবহন ব্যবসায়িরা এ পথে কয়েক গুন ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন নিজের ইচ্ছা মতো।

1ফলে এ পথের যাত্রীরা এখন মহা যন্ত্রনার মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ধরছে এখানকার যাত্রীরা। এদিকে বেইলি সেতু খালের ওপর ভেঙ্গে পড়ার পর কয়েকদিন ধরে কাজ করে সেতুটি খাল থেকে সরিয়ে এর স্লিপার খালের দুই পাড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

এদিকে পুনরায় এখানে বেইলি সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেই কাজটি ধীর গতিতে চলছে বলে এখানকার এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন। যেখানটিতে বেইলি সেতু ভেঙ্গে গেছে, সেখানটায় পুনরায় বেইলি সেতু নির্মাণের পরিবর্তে বর্তমানে সেখান থেকে সেতুর মুল অংশ সরিয়ে নেয়া হয়েছে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।

পুরাবাজারে আরো পূর্ব দিক থেকে বেইলি সেতুর বেদি তৈরির কাজ বর্তমানে চলছে। একটু সরিয়ে নেয়া অংশ দিয়ে সাময়িক ভাবে যানবাহন চলাচলের জন্য বেইলি সেতু নির্মাণের পর খুলে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বেইলি সেতুর বেদির পুরনো জায়গা দিয়ে বড় আকারে পাকা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

সেই মতে এখানকার বর্তমান কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ সড়ক পথে পুরাবাজার এলাকা ছাড়া সব স্থানেই ইতোমধ্যে পাকা সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করে আনা হয়েছে। পুরাবাজারের এখানে পাকা সেতু নির্মাণ শেষ হয়ে গেলে দীঘিরপাড়ের ছোট্ট পদ্মা নদীতে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে, এ পথে শরীয়তপুরের নড়িয়ার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো গারোভাবে গড়ে উঠবে বলে এখানকার মানুষ মনে করছেন।

এর ফলে এ পথ দিয়ে শরীয়তপুরের এলাকাবাসীরা খুব সহজেই ঢাকা পৌঁছে যেতে পারবে বলে এখানকার দু’পারের মানুষ ধারণা করছেন। সেই লক্ষ্যে এ পথের কাজ বর্তমানে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। জানা গেছে, গত ২ জুন গাছের গুঁড়ি বোঝাই একটি লরি পুরাবাজার এলাকার বেইলি সেতুর উপর উঠলে সেতুটি ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়।

সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় দীঘিরপাড় ও আশপাশের এলাকার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে যাতায়াতকারী মানুষজন। এরপর বেইলি সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার পর পারাপারের জন্য খালটির উপর একটি বাঁশের সাঁকোর ব্যবস্থা করেন লরি কর্তৃপক্ষ।

এভাবেই চলছিলো বেশকিছুদিন। কিন্তু সেই বাঁশের সাঁকোটি গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় বালু বোঝাই বল্কহেডের ধাক্কায় পুনরায় আবারো খালে ভেঙ্গে পড়ে। এতে করে পুনরায় বিপাকে পড়েন ওই সড়ক ব্যবহার করা যাত্রীরা। বর্তমানে খালটির মধ্যে দিনে একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী পারাপার করা হলেও রাতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কটি ব্যবহার করা যাত্রীদের।

তবে কোন যাত্রীদের কাছ থেকে পয়সা নেয়া হয় না বলে জানা গেছে। পুরাবাজারের বেইলি সেতুটি ভাঙ্গার আগে অটোতে দীঘিরপাড় থেকে সিপাহীপাড়ায় যেতে ভাড়া ছিলো ৩০ টাকা। কিন্তু পুরাবাজার থেকে বর্তমানে সিপাহীপাড়ায় যেতে ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। আর মুক্তারপুর যেতে ভাড়া দিতে হচ্ছে ৬০ টাকা করে। পুরা

বাজারের ভাঙ্গা বেইলি সেতুর দক্ষিণ পাড় থেকে অটোতে যাত্রীদের দীঘিরপাড় যেতে এখন আরো ১০ টাকা করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পকেট কাটা যাচ্ছে বলে এ পথের যাত্রীরা জানিয়েছে।

এর ফলে এ পথের যাত্রীরা বর্তমানে এ পরিস্থিতিতে মহা বিপাকে রয়েছেন। এদিকে আলদি বাজার থেকে পুরাবাজারে আগের ভাড়া ছিলো ৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা করে। এর ফলে এ পথের যাত্রীরা বর্তমানে অটো চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বেইলি সেতু ভেঙ্গে পরার পর থেকে দীঘিরপাড়ে যাত্রীবাহী বাস ও সকল ধরণের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে প্রয়োজনে ঘুর পথে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা হয়ে ও যশলং ইউনিয়ন পরিষদের পরের রাস্তায় পশ্চিম দিকের বাঘিয়া বাজারের রাস্তা দিয়ে ছোট ছোট যানবাহনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়ার মাধ্যমে অনেকেই দীঘিরপাড় আসা যাওয়া করছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম দৈনিক রজত রেখাকে জানান, ঈদুল আযাহার পর পুন:নির্মাণকৃত বেইলি সেতুটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর বেইলি সেতুটি খুলে দেয়া হবে।

তারপর থেকে এ পথে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এ বিষয়ে এ পথের যাত্রীরা সরকারের উর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here