মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে

IMG_6410মোহাম্মদ সেলিম ও তুষার আহাম্মেদ:

যে কোন সময়ের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এর ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। এটি হচ্ছে প্রথম পর্যায়ের কাজের অংশ হিসেবে এখানে জোরেসোরে এখানকার কাজ বর্তমানে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

হস্তান্তারের পর এ ভবনের স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সরকারিভাবে এ ভবনের প্রশাসনিক কাজের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভবনের উদ্বোধন করা হতে পারে বলে এখানকার ঠিকাদারের পক্ষে এ দাবি করা হচ্ছে।

সেই লক্ষ্যে এখানে একাধিক ভবনের নির্মাণ শেষ কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এখানকার নির্মাণ কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সকল ভবনের শতভাগ নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে শেষ করে এনেছেন বলে এখানকার দায়িত্বশীল প্রকৌশলী এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষা সনদের বিপরীতে এ কাজের সাথে জড়িত বিদেশে যেসব প্রতিষ্টানে এ ট্রেডে কাজ রয়েছে, সেখানে সরকারিভাবে অনেক শিক্ষার্থীরা এ ধরণের কাজ পাওয়ার সুযোগ পাবে বলে সরকার এ ধরণের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন জেলায় জেলায়।

এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলাও রয়েছে। এদিকে এ ধরণের ট্রেডের সাথে জড়িত বেসরকারিভাবে একাধিক প্রতিষ্টান ইতোমধ্যে দেশ ব্যাপি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেখান থেকে ইতোমধ্যে শিক্ষা সনদের মাধমে অনেকেই বিদেশে এ ট্রেডে কর্ম জীবনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

বিদেশে এ ধরণের ট্রেডে কাজ পাওয়ার বিপুল সম্ভাবনার হাতছানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব ট্রেডে সরকারিভাবে কাজ পাওয়াতে অর্থের পরিমাণও অনেকেটা কম লাগবে বলেও শোনা যাচ্ছে। বেসরকারিভাবে এসব কাজে অনেক পরিমাণ অর্থ গুনতে হয় আগ্রহী লোকজনের। এছাড়া দালালরাও এ কাজের নামে মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে ইতিপূর্বে।

তাই সরকারিভাবে এ ট্রেডের শিক্ষা গ্রহণের কাজ ইতোপূর্বে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে এ ধরণের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরসহ একাধিক দেশে এ কাজের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণাধীন ভবনে এখন চুনকাম, সিরামিক ও টাইলসসহ বিদ্যুতের কাজ শুধুমাত্র বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এখানে বর্তমানে এসবের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে এখানকার ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে। এ কাজগুলো এখানে দ্রুত শেষ করা হবে বলে তারা দাবি করেছেন। এখানে কয়েকটি বিশেষ ভবনে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সিরামিকের কাজ করার কথা ছিলো। কিন্তু করোনার জন্য বিশ্বের সাথে সকল ধরণের বাণিজ্যিকভাবে বিমান

যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেই কাজের সিডিউল আংশিক পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবর্তনশীল কাজগুলো দেশিয় বাজার থেকে সংগ্রহের মাধ্যমে পুরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অংশের কাজগুলো এখনো বাকি রয়ে গেছে।

পরবর্তিতে এর নতুন অর্ডার আসলেই এর কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে তাদের সূত্রে জানা গেছে। চলতি অর্থ বছরের জুন মাসে ঠিকাদারি শর্ত অনুযায়ি নির্মিত ভবন হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু করোনার কারণে কয়েক মাসের লকডাউনে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ি এখানকার সকল ধরণের কাজ বন্ধ ছিলো।

লকডাউন প্রত্যাহারের পর রোজার ঈদের পর থেকে এখানে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। এ সময়টুকুই প্রথা অনুযায়ি শুধুমাত্র নির্মাণ কাজে বিলম্ভ ঘটেছে। এখন পুরো মাত্রায় কাজ করে সেই সময়টুকু পুষিয়ে নেয়া হবে। এ লক্ষ্যে এখানে নির্মাণে কাজে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে।

এ জনপদের শিক্ষার্থীরা মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বড় ধরণের উপকৃত হবে বলে জানা গেছে। সরকারি ভাবে এখানকার শিক্ষা সনদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে কর্মরত হওয়ার সুযোগ ও সুবিধা নিতে পারবেন সরকারি নিয়ম অনুযায়ি। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণকারীদের অগ্রাধিকারভাবে বিদেশে

কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হবে শোনা যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে কয়েকটি ট্রেডে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে এখানকার নির্ধারিত বিভিন্ন ট্রেডে। এখানে ওয়ালডিং, গাড়ী মেরামত ও কম্পিউটারের মতো একাধিক ট্রেডে সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান করা হবে।

এখানে শিক্ষা প্রদানের সাথে জড়িত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবনে থাকার জন্য ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানা গেছে। এখান থেকে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীরা এসব ট্রেডে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের লোহার পুলের কাছাকাছি পূর্ব পাড়ে কেওয়ার এলাকায় মুন্সীগঞ্জে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এর নতুন একাধিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

এখানে এক পয়েন্ট পাঁচ একর জমিতে একাধিক ভবনের নির্মাণ কাজ শেষের দিকে রয়েছে। ২০১৭ সালের দিকে এখানে মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে উল্লেখিত জমি অধি গ্রহণ করা হয়। আর ২০১৮

সালের দিকে এখানে মুন্সীগঞ্জে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) নির্মাণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয়। এ ধরণের প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ইতোমধ্যে ১২টি জেলায় কাজ চলছে পুরো ধমে।

তারমধ্যে অগ্রাধিকার ভাবে মুন্সীগঞ্জের এ প্রতিষ্টানের কাজ সবচেয়ে এগিয়ে আছে বলে ঠিকাদার কাজে দায়িত্বশীল প্রকৌশলী মো: সাইফুল্লাহ দাবি করেন। এখানে এর নির্মাণ কাজে দায়িত্বে রয়েছেন নোবেল টি নামের

এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে নান্দনিক ভবন মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে বর্তমানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here