রাজশাহীতে ঐতিহ্যের ঘোড়ার পায়ের কাছে শহীদ মিনার স্থাপন !

cattle of munshiganjনিজস্ব প্রতিবেদক (রাজশাহী-রাব্বানী): আড়াই বছর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী নগরীর গ্রেটার রোডের বহরমপুর মোড়ে টমটম ভাস্কর্য স্থাপন করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। ভাস্কর্যটি স্থাপনের পর এই মোড়টির নাম দেয়া হয় ‘ঐতিহ্য চত্বর’।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং মহানগরী সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে ঘোড়ার গাড়ি ভাস্কর্য অর্থাৎ টমটম ভাস্কর্য এবং ঐতিহ্য চত্বর নামকরণের ফলক উন্মোচন করে এর উদ্বোধন করেন রাসিকের তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

Sohidminar pic-29.07.2020গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই ভাস্কর্যটির একেবারে পাশেই মাত্র এক ফুট দূরত্বে ঘোড়ার পায়ের কাছে স্থাপন করা হয়েছে ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার। ভাস্কর্যের ঘোড়াটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যতখানি তার অর্ধেকেরও কম আয়তন কাঁচের তৈরি এই শহীদ মিনারটির।

ঘোড়াটির পেছনের পা থেকে এক ফুট দূরত্বে ও টমটমটির প্রায় মাঝামাঝি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে শহীদ মিনারটি। গতকাল বুধবার সকালেও সেখানে শহীদ মিনারটি দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কে বা কারা মাসখানেক আগে ঘোড়ার পায়ের কাছে ভাষা শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারটি স্থাপন করে গেছেন। এর বেশি কিছু তাদের জানা নেই।

অভিজ্ঞ মহল বলছেন, একটি ঐতিহ্যবাহী ভাস্কর্যের পাশে শহীদ মিনারটি স্থাপন করা ঠিক হয়নি। তাও আবার ঘোড়ার পায়ের কাছে। এর মাধ্যমে শহীদ মিনারের অবমাননা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাষা শহীদদের খাটো করে দেখা হয়েছে। মর্যাদাহানি হয়েছে।

তবে, এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কিছুই জানে না বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মোস্তাফিজুর রহমান মিশু খোলা কগজকে বলেন, এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের কাছে কোনো তথ্য নেই।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি। সেটি সরিয়ে ফেলা হবে।
টমটম ভাস্কর্যটি উদ্বোধনের সময় রাসিকের তৎকালীন সচিব খন্দকার মাহাবুবুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার খায়রুল বাশার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মীর শাহরিয়ার সুলতান, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক ওই সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঢালায় ও ফাইবার সিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই টমটম ভাস্কর্যটি। শিল্পী ফয়সাল মাহমুদ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন। ভাস্কর্যটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। যা নির্মাণে দুই বছর সময় লেগেছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here