টঙ্গিবাড়ীর মানুষ বন্যা কবলিত

received_583957125824006-620x330টঙ্গিবাড়ীতে দির্ঘস্থায়ী বন্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্যা কবলিতদের। ওজান হতে নেমে আসা ঢলের পানিতে টঙ্গিবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতি শুক্রবার অপরিবর্তিত ছিলো । এর আগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

বিগত ২০-২২ দিন আগে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে উপজেলার হাসাইল, কামারখাড়া, দিঘিরপাড়, পাচঁগাও ইউনিয়নের অধিকাংশ অঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম দূভোর্গে পরে ওই সমস্ত এলাকার লোকজন।

সেই সময় উপজেলার নশংকর, ভাঙ্গুনিয়া, গারুরগাও এলাকায় কয়েকটি রাস্তা পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষগুলোর সাথে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সদরসহ রাজধানী ঢাকা শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দির্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উপজেলার বাইনখাড়া, ভাঙ্গুনিয়া এলাকার রাস্তা সংস্কার কাজ না হওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছে পানি বন্দি লোকজন।

বিগত ৮-৯ দিন আগে হতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির পর গত বুধবার হতে ফের অবনতি হতে থাকে । গত বৃহস্পতিবার বন্যার পানি প্রায় এক ফিট বৃদ্ধি পেলেও শুক্রবার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত ছিলো। সরেজমিনে উপজেলার দিঘিরপাড়, কামারখাড়া, পাচঁগাও, চাঠাতিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নতুন করে ওই সমস্ত এলাকার রাস্তাঘাট বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলার চিত্রকড়া গ্রাম ও চাঠাতিপাড়া গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা দুটি পানি বৃদ্ধির করনে বৃহস্পতিবার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ মাছের ঘের জাল দিয়ে আটকিয়ে রাখলেও নতুন করে পানি বৃদ্ধির কারনে মাছ চাষিরা আতংঙ্কে রয়েছেন।

এদিকে পানিবন্দি মানুষগুলো গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন। উপজেলার হাসাইল-গারুর গাঁও রাস্তার উপরে ঘর তুলে অনেক গবাদিপশুকে ওই রাস্তার উপরে রেখেছেন। অনেক স্থানে ত্রান সমগ্রী পেলেও কোন কোন স্থানে এখনো ত্রান সমগ্রী পায়নি বন্য কবলিতরা ।

protiniyoto logoবিশেষ করে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এক ইউনিয়ন হতে অন্য ইউনিয়নে এসে ঘর তুলে থাকা বন্যা কবলিতরা ত্রান বৈসম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকটি পরিবার জানান, এখনো তারা কোন ত্রান পাননি।

ওই গ্রামের আলাউদ্দিন বেপারী জানান, এক মাস যাবৎ তার পরিবার পানি বন্দি। তাদের বাড়িতে এক বুক পানি হওয়ায় তাদের গরুগুলো রাস্তার উপরে একটি টিনের চাল দিয়ে রেখে তারা আশ্রয় নিয়েছেন অপর এক প্রতিবেশীর বাড়িতে। দির্ঘসময় পানি বন্দি থাকলেও এখনো কোন ত্রান পাননি তারা। ওই এলাকার নুরুল হক মোল্লার পরিবারের লোকজন জানান, দিঘ এক মাস সময় ধরে তারাও পানি বন্দি। এর আগে হাসাইল ইউনিয়নে তাদের বাড়ি ছিলো।

নদীতে বাড়িঘর ভেঙ্গে যাওয়ার পর এখোন পাচঁগাওঁ ইউনিয়নে ঘর-বাড়ি তুলেছেন । এখোন পর্যন্ত তারাও কোন ত্রান পাননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ওই চার ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের আমরা ইতিমধ্যে ৯০ টন চাল দিয়েছি। কেউ যদি ত্রান না পেয়ে থাকেন তাহলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার্র মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের অবহিত করলে আমার ত্রান সামগ্রী পৌছে দিবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here