বন্যায় মুন্সীগঞ্জে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিসমোহাম্মদ সেলিম ও মো: আনোয়ার হোসেন:

চলতি বন্যা মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ জেলায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এবারের বন্যায় জেলা ৬টি উপজেলায় মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই অনেক আশা নিয়ে এবার মাছের চাষ করলেও তাদের সেই আশায় চলমান বন্যায় ছাই ঢেলে দিয়েছে।

এর ফলে অনেকেই এ বন্যায় পথে নেমে গেছেন। অনেকে বিভিন্ন ভাবে ধারদেনা করে সুখের আশায় এ মাছ করে বন্যার কারণে পথে বসে গেছেন। বেঁচে থাকার শেষ চেষ্ঠায় অনেকেই চড়া সুদে দাদন নিয়ে মাছ চাষ করে ছিলেন।

কিন্তু বন্যায় সেই মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। অনেকেই মাছ রক্ষার জন্য শেষ চেষ্ঠা হিসেবে বাঁশের খুঁটির সাথে জাল দিয়ে বেড়া দিয়েও বন্যার পানির কারণে সেই মাছ শেষ রক্ষা করতে পারেনি বলে শোনা যাচ্ছে। এ ক্ষতিতে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

চলমান এ বন্যায় মৎস্য খাতে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ বন্যায় জেলায় পুকুর ও দীঘিসহ মৎস্য খামার ১ হাজার ৯শ’৭৯টি ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৯শ’৮১ জন মৎস্যচাষীসহ একাধিক খামার মালিকরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তারমধ্যে মৎস্যচাষীসহ একাধিক মালিকদের পুকুরসহ দীঘির ক্ষতির আয়তন হচ্ছে ৬শ’৮০ দশমিক ৬০ হেক্টর জায়গা রয়েছে। এ বন্যায় এসব পুকুরসহ দীঘি থেকে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৪শ’৩২ দশমিক ২২ বিভিন্ন প্রজাতির নানা রকমের মাছ।

তারমধ্যে রয়েছে ২শ’৬ দশমিক ৮৩ লাখ পিস মাছের পোনা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এরমধ্যে মাছের ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে ৬ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার টাকা। আর পোনা মাছের ক্ষতির পরিমাণ হচ্ছে ২ কোটি ৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

এদিকে এ বন্যায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার টাকার। এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে লৌহজং উপজেলায়। আর এর পরে ক্ষতির পরিমাণের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা। সবচেয়ে কম ক্ষতির দিক সর্ব শীর্ষে অবস্থান করছে সিরাজদিখান উপজেলা।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সিরাজদিখান উপজেলায় সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। শ্রীনগর উপজেলায় সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

লৌহজং উপজেলায় সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ও গজারিয়া উপজেলায় সর্বমোট ক্ষতি হয়েছে ২২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনিল মন্ডল জানান, উপরের নির্দেশ মোতাবেক আমরা মুন্সীগঞ্জে মৎস্যর সাথে জড়িত মৎস্য চাষি ও খামামারীদের নাম অনুযায়ি তালিকা তৈরি করছি।

এবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা জেলার প্রতিটি উপজেলায় এ কাজ বর্তমানে চলছে। এরপরে উপরের পরবর্তি নিদের্শের আলোকে আমরা এখানে কাজ করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here