মুন্সীগঞ্জে পাইকারি বাজারে চাউলের দাম কমতে শুরু করেছে

118015724_3137612733003652_4898825008870011145_nমোহাম্মদ সেলিম ও মো: সালমান:

মুন্সীগঞ্জে বেড়ে যাওয়া চাউলের দাম এখন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। পাইকারি বাজারে এখন চাউলের দাম অনেকটাই কমে এসেছে বলে আড়ৎদাররা দাবি করছেন। কিন্তু খুচরা বাজারে এখনো চাউলের দাম অনেকটাই বেশি ধাকায় চড়া দামে চাউল বিক্রি করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ঈদের আগে চাউলের দাম বাজারে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হলেও বর্তমানে এখন চাউলের দাম কমেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে অনেক চাউল ব্যবসায়িদের দাবি হচ্ছে যে, ঈদের আগে যেসব বাজারের খুচরা ব্যবসায়িরা বিক্রি করার জন্য চাউল কিনে ছিলেন,

কিন্তু এখনো সেই চাউল বিক্রি করে শেষ করতে পারেননি। শুধুমাত্র তারাই এখন আগের চড়া দামের চাউল বর্তমানেও বিক্রি করছেন। এ মুহূর্তে সেইসব ব্যবসায়িরা যদি এখন কম দামে চাউল কিনে নেন, তবে তারা খুচরা বাজারে কম দামেই চাউল বিক্রি করতে পারবেন বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকারি চাউলের আড়ৎ হচ্ছে পঞ্চসার ইউনিয়নের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায়। এখান থেকেই সদরের চাউলের চাহিদা সাধারণত পূরণ করা হয়ে থাকে। এই ফিরিঙ্গিবাজারের চাউলের আড়ৎকে কেন্দ্র করে এরপাশে পাশে এক সময়ে চাতালের চাউল কিংবা ধানের মিল গড়ে উঠে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এখন এর আশপাশে অটো রাইস মিল গড়ে উঠায় চাতালের চাউলের মিল বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।

এই অটো রাইস মিল গুলো শ্রীনগরের আড়িয়ল বিলসহ একাধিক স্থান থেকে ধান সংগ্রহ করে ফিরিঙ্গিবাজারে এনে অটো রাইস মিলের মাধ্যমে ধান থেকে চাউল উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু আড়িয়ল বিলসহ মুন্সীগঞ্জ জেলা উৎপাদিত ধান দিয়ে মুন্সীগঞ্জসহ এর আশপাশে চাউলের চাহিদা পূরণ হয় মাত্র ১০ ভাগের মতো।

এ কারণে তাদেরকে এ জেলার বাইরে বৃহত্তর সিলেট থেকে চাউলের জন্য ধান সংগ্রহ করতে হয় বলে এখানকার অটো রাইস মিল মালিকরা জানিয়েছেন। তবে এখানে সুনামগঞ্জের ধান সবচেয়ে বেশি এসে থাকে। এছাড়া এখানে শেরপুর ও নওগাঁ থেকে অনেকে ধান এনে চাউল তৈরি করছেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন। তাছাড়া শেরপুর ও নওগাঁয়ের নামে অনেকেই এখানে আড়ৎ খুলে সরাসরি পাইকারি চাউল বিক্রি করছেন।

শেরপুর ও নওগাঁ থেকে এখানে ধান থেকে চাউল তৈরি করতে অনেক পাইকার ছুটে আসতো এক সময়ে। কিন্তু এখন সেখানেই ধান ও চাউলের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বড় বড় অটো রাইস মিল তৈরি হয়ে গেছে। সেই তুলনায় এখানকার অটো রাইস মিল একেবারেই নগ্ন বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

ঐসব এলাকা গুলোতে বৈশাখে যে ধান উঠে তা দিয়েই সারাবছর দেশের চাউলের চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে। সেই সময় যদি প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়ে থাকে ৫শ’ টাকায় এখান চড়া মৌসুমে সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা প্রতি মণ হিসেবে। এ কারণেই বর্তমানে এক লাফে ঈদের আগে চাউলের বাজার হঠাৎ বেড়ে যায়। তবে এখন ধানের দাম কিছুটা কমের মধ্যে রয়েছে।

এক সময় এখানে বরিশাল থেকে প্রচুর ধান বিক্রির জন্য পাইকার আসতো। কিন্তু বর্তমানে সেখানেও অটো রাইস মিল গড়ে উঠায় এখানে কেউ এখন আর আসে না। শুধুমাত্র এখানকার অটো রাইস মিলের মালিকরা চাউলের ব্যবসার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে ধান সংগ্রহ করে থাকেন বলে এখানকার মিল মালিকরা জানিয়েছেন।

বিভিন্ন নানা কারণে এখন আর ফিরিঙ্গি বাজারে সেই আগের মতো চাউলের ব্যবসা নেই। সময়ের কারণে সেই ব্যবসা এখন বর্তমানে হারাতে বসেছে।

এখানকার চাউল ব্যবসায়িদের দাবি হচ্ছে আগামী অগ্রহায়ণ মাসের আগে বর্তমানের বেড়ে উঠা চাউলের দাম বেশি একটা কমবে না। সেই মাসে আবার নতুন ধান বাজারে আসলে চাউলের বাজার স্বাভাবিক হবে। এখন চাউলের বাজার এই রকমই থাকবে। এখানকার অটো রাইস মিলের মালিকরা জানান,

বর্ষার সময়ে নদীতে ভরপুর পানি থাকায় এখানে ধান আনতে সবচেয়ে ভালো সময় বলে তারা মনে করছেন। এ সময় নদী পথে একেকটি নৌকায় ৩ হাজার বস্তা ধান আনা যায়। এতে আনা নেয়ার জন্য অন্য বাহন থেকে

খরচও কম পরে বলে তারা জানান। সড়ক পথে গাড়িতে ধান আনতে গেলে ২শ’ বস্তার বেশি ধান আনা সম্ভব না। তাতে নদী পথে থেকে খরচ অনেকটাই বেশি পরে বলে মিল মালিকরা জানান।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মাকেটিং অফিসার মো: শরিফুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান বাজারে চাউল ব্যবসায়িরা সরু (মিনিকেট) চাউল করেছেন ৫৬ টাকা থেকে ৬০ টাকা দামের মধ্যে। বাজারে বিভিন্ন ব্রান্ডের সরু চাউল রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এরমধ্যে এইদিন মাাঝারি চাউল বিক্রি হয়েছে ৪৬ টাকা থেকে ৪৭ টাকার মধ্যে। এ ব্রান্ডের চাউল কয়েক দিন ধরে তুলনা মুলক ভাবে বাজারে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেছেন।

এদিন বাজারে মোটা স্বর্ণা চাউল ৩৯ টাকা থেকে ৪০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। এ চাউলের বাজার বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here