মুন্সীগঞ্জ সদরে জনবল সংকটের মধ্যে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা

IMG_6685

ফাইল ছবি:

মোহাম্মদ সেলিম ও তুষার আহাম্মেদ:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর এই স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় নানা রকমের অসুবিধা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থা আরো চলতে থাকলে এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগে স্বাস্থ্য সেবা যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে আশংকা করছে কেউ কেউ।

জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে সংকটময় সময় কম স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে কোনভাবে রোস্টার করে শূণ্য পদের একাধিক স্থানে এখানকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য সেবায় কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তারপরেও করোনা ও বন্যার মধ্যে দিয়ে চলমান সময়ে এই উপজেলায় উপস্বাস্থ্য কমিউনিটি ক্লিনিকের আওতায় একাধিক বাড়িতে বাড়িতে মা ও শিশুদের সেবা প্রদান করে চলেছেন এখানকার স্বাস্থ্য কর্মীরা।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। মিরকাদিম পৌরসভা আগে রিকাবিবাজার ইউনিয়ন হিসেবে এ উপজেলায় অর্ন্তভুক্ত ছিলো। সেই হিসাব এখানো বিদ্যমান রয়েছে। রিকাবিবাজার ইউনিয়ন থেকে মিরকাদিম পৌরসভায় রূপান্তরিত হলেও মিরকাদিম পৌরসভার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মা ও শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য কর্মী এখনো নিয়োগ না দেয়ায় এর হিসাব নিকাষ এখানো মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের আওয়াতায় চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে মিরকাদিম পৌরসভা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও বর্তমানেও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ঢেলে সাজাতে পারেনি বলে শোনা যাচ্ছে। তবে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় এ বিষয়ে নিজস্ব স্বাস্থ্য বিভাগ চালু রয়েছে বলে জানা গেছে। মুন্সীগঞ্জ সদরে স্বাস্থ্য কর্মীদের সেবা প্রদানের জন্য চলতি হিসাব অনুযায়ি ত্রিশটি ওয়ার্ডে ৬৫জন স্বাস্থ্য কর্মী থাকার কথা রয়েছে।

কিন্তু সেখানে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩১জন স্বাস্থ্য কর্মী। এর ফলে এখানে অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্য কর্মীর পদ নানাভাবে শূণ্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। পঞ্চসারে ৯জন স্বাস্থ্য কর্মীর পরিবর্তে এখানে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩জন স্বাস্থ্য কর্মী। তা দিয়ে এখানে স্বাস্থ্য সেবা চালানো হচ্ছে। এভাবেই কোন না কোন ইউনিয়নে সংকট রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য কর্মীর।

এখানে ১১জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও ৪জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক দিয়ে এ উপজেলার কাজ স্বাস্থ্য সেবায় কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম বলে অনেকেই মনে করছেন। এখানে কোঠা অনুযায়ি স্বাস্থ্য কর্মীর অনেক সংকট থাকা সত্বেও এ উপজেলায় স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রাতিষ্টানিক আইসোলেশনে থাকা করোনা রোগিদের সেবা প্রদান করে চলেছেন সরকারি নিয়ম অনুযায়ি।

অনেক স্বাস্থ্য কর্মী মাঠ পর্যায়ের মা ও শিশুদের কাজ সময় মতো ঠিক রেখে নিজেদের মধ্যে অদল বদল করে আইসোলেশনে থাকা করোনা রোগিদের সেবা প্রদান করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রথম দিকে রামপালে সবচেয়ে করোনা রোগি আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। সেই সময় এখানে বেশ কিছুদিন মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ি বন্ধ রাখা হয়। তবে পরবর্তিতে নিয়ম অনুযায়ি এখানে মা ও শিশুদের সেবা প্রদানের কাজ অব্যাহত রাখা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে সদরের মহাকালী ইউনিয়নে বাগেশ্বর কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন স্বাস্থ্য কর্মী করোনা উপসর্গ নিয়ে ইতোপূর্বে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ইতোপূর্বে একাধিক স্বাস্থ্য কর্মী চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছেন।

কিন্তু এখানো সেই পদ গুলো পূরণ হয়নি বলে জানা গেছে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীদের নেতা রওশন জানান, জনবল সংকটের মধ্যে দিয়ে আমাদের এখানে বর্তমানে কাজ করতে হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here