মুন্সীগঞ্জে বায়োফ্লগে উদ্যোক্তা আবু সাইদ

1মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জল হোসেন শিহাব: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পৌরসভান্থ গনকপাড়া এলাকায় মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতিতে বায়োফ্লগে উদ্যোক্তা হচ্ছেন আবু সাইদ। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় এই প্রথম আধুনিক পদ্ধতিতে বায়োফ্লগে ৩টি বড় ডামের মতো হাউজ তৈরি করে আবু সাইদ এখানে মাছ চাষ করছেন। গত ৫ মাস আগে তিনি এখানে মাছ চাষ শুরু করেন।

এখানে ৩টি হাউজে তিনি কৈ শিং মাছ চাষাবাদ শুরু করেছেন। একটি হাউজে কৈ ও শিং মাছ একত্রে চাষ করা হচ্ছে। অন্য দুটিতে পৃথক পৃথক ভাবে কৈ ও শিং মাছ চাষ করা হচ্ছে। দেশি কৈ মাছ সেইভাবে সুন্দরভাবে রিস্টপুস্ট দেখায় না।

সে কারণে মাছ বিক্রেতাদের কাছে এ কৈ মাছের চাহিদা তেমনটা নেই বলে খামারি আবু সাইদ জানান। তিনি প্রথমে না জেনে ঐ মাছ চাষ করতে গিয়ে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান। অন্যদিকে বিদেশী কৈ মাছ একটু অন্য রকমের। দেখতে বেশ সুন্দর।

এ মাছের বাজারে বিক্রির সময়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দ্বিতীয় দাপে তিনি এবার বিদেশী কৈ চাষ করেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় তিনি ১০ হাজার লিটারের হাউজের পানিতে ১০ হাজার পিস কই মাছের পোনা অবমুক্ত করে মাছ চাষ শুরু করেন। মোট ৩টি হাউজে ৩০ হাজার পিস মাছ রয়েছে বলে তিনি জানান। ৩/৪ মাসের মধ্যে এই মাছ বাজারে বিক্রির উপযোগী হয়ে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।

বর্তমানে বেশ লাভ জনক এই বায়োফ্লগে মাছ চাষ। দিনে তেমন কোন পরিশ্রম করতে হয় না। প্রতিদিন এক থেতে দুই ঘন্টা এর পরিচর্যা করলেই চলে এ চাষে। এই ভাবে মাছ চাষ করার মাধ্যমে বেকার সমস্যা অনেকটাই কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রতিদিন তার কাছে অনেকেই এ চাষ সর্ম্পকে জানতে এ খামারে আসেন। তিনি কলকাতার র্দাজিলিং বেড়াতে গিয়ে দেখেন সেখানকার বেশিরভাগ দালান ভবনে এ ধরণের মাছের খামার রয়েছে। সেগুলো দেখেই তিনি এখানে এ ধরণের মাছের খামার তৈরিতে আগ্রহী হন।

তিনি তার এক বন্ধুর কাছ থেকে জায়গা নিয়ে এখানে এ মাছের খামার গড়ে তুলেন। যদি এ খামার এক বছরের মধ্যে লাভের মুখ দেখে তবে তিনি তার বন্ধুকে এ জায়গার ভাড়া দিবে এ মর্মে বন্ধুর মাঝে চুক্তি হয়েছে।

তিনি দাবি করেন একেকটি চৌবাচ্চায় প্রতি মাসে ২০ টাকা করে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সব খরচপাতি বাদ দিয়ে। বর্তমানে বায়োফ্লগ বেকার সমস্যা দূরীকরণে অসামান্য ভুমিকা পালন করতে পারে এ সমাজে। এর প্রশিক্ষণ বেশ সহজলভ্য।

তাছাড়া যারা করতে ইচ্ছুক তারা অতি সহজে বিনামুল্যে আবু সাইদের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রতিটি এলাকাতে বায়োফ্লগের এই উদ্যোগটি যদি শুরু করা যায় তাহলে আর্থিক সচ্ছলতাসহ পরিবারের অনেকটাই উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুলত এই বায়োফ্লগ পদ্ধতিতে লোকসানের কোন অবকাশ নেই বললেই চলে।

যথাযথ ট্রেনিং নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করলে এর সফলতার নিশ্চয়তা অনেকটাই। বড় আকাওে হাউজ তৈরি করে এভাবে মাছ চাষ করলে সবচেয়ে লাভ বেশি বলে তিনি দাবি করেন।

তার এখানে ১৫ বাই ১৫তে বর্তমানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এভাবে মাছ চাষে কোন মাছই ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। যেতোগুলো মাছ এখানে ছাড়া হয়, ততোগুলো মাছই বড় হয়ে উৎপাদনে বাণিজিকভাবে সহয়তা কওে বলে তিনি দাবি রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here