দক্ষিণ চরমশুরায় বালু ভরাটে সেতুর কার্যকারিতা হারাচ্ছে !

1মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমশুরায় বিপুল টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের পর এর পশ্চিম পাশের নালাটি বর্তমানে বালু ভরাট হয়ে গেছে। তার ফলে এ নালার পানি প্রবাহ বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে।

এ কারণে এতো টাকার সেতু নির্মাণ এখন এ পথের মানুষের তেমনভাবে কাজে আসছে না বলে অনেকেই মনে করছেন। কিছু দিন পর বাকি সেতুর তলদেশ সম্পূর্ণভাবেই বালু ভরাটের কারণেই বন্ধ হয়ে যাবে বলে এখানকার মানুষ মনে করছেন। এর ফলে এ সেতু নির্মাণের বিপুল পরিমাণ টাকা এখন জলে গেলো বলে অভিযোগ উঠেছে। সেতুর পশ্চিম পাড়ের নালার প্রবেশ মুখ বন্ধ করে সেখানে বালু ভরাট করে এলাকার মানুষ বসতি গড়ে উঠাচ্ছে।

2যার কারণে সেখানে এ পরিস্থিতি বর্তমানে বিরাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় এই পাড়ে পর্যায়ক্রমে বড় আকারে বসতি গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বালু ভরাটে নালার মুখ বন্ধ হওয়ার কারণে পশ্চিম পাশের জমি জমাতে এখন আর প্রকৃতির পানি দিয়ে সেচ দেয়া যাবে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বালু ভরাটের আগে প্রতি বছরের নালাতে বর্ষার সময়ের পানির জমাটের সুবিধা ভোগ করতো এখানকার আবাদি জমির চাষিরা। কিন্তু বালু ভরাটের কারণে এখানকার চাষিরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে এখানকার চাষিদের বর্তমানে ছুটে যেতে হবে গভীর নলকূপের দিকে।

তাতে মাটির তলদেশের পানির উপরে নির্ভর করতে হবে এখানকার চাষিদের। এর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে চাষিদের কৃষিকাজে ব্যয়ভার অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এ কারণে এখানে এক সময়ে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পরিবেশবিদরা মনে করছেন।

এখানকার বসতিরা একটু বাড়তি সুবিধা ভোগ করতে গিয়ে গোটা এলাকাটিকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এখানে সেতু নির্মাণের আগেই যদি এ নালাটি ভরাট করা হতো তবে রাস্তার সমন্তারাল রেখেই নালার ভরাট বালু দিয়েই এখানেই রাস্তার কাজ শেষ করা যেতো বলে এখানকার মানুষ মনে করছেন। তাতে এ পথে সরকারের অল্প কিছু টাকা ব্যয়ে সচল রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হতো বলে অনেকেই ধারণা করছেন।

3বরং এ সেতুর বরাদ্দের টাকা দিয়ে যেখানে এখনো সেতু নির্মাণ হয়নি কিংবা সেতুর চাহিদা রয়েছে যেসব স্থানে সরকার সেখানেই এ টাকার বিনিময়ে আরো একটি নতুন সেতু নির্মাণ করতে পারতেন বলে জানা গেছে। এলাকার চরঝাপটায় অনেক দিন ধরেই সেতুর জন্য চাহিদা দিয়ে চলেছে সেখানকার মানুষেরা।

তাদের দাবি এখানকার সেতুর টাকা দিয়ে এখানে নতুন সেতু নির্মাণ সম্ভব ছিলো। আলোচিত সেতুর পশ্চিম পাশের অংশের এ্যাপ্রোচ এবারের একাধারে বৃষ্টির কারণে ভেঙ্গে গেছে। এখান থেকে বালু সরে গেলেও এর মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি আজো। এলাকাবাসীর দাবি এ বিষয়ে সরকার যেন আশু পদক্ষেপ নেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here