চাল বরাদ্দ সত্বেও জেলেরা মাছ ধরতে নদীতে নামছে কেন ?

মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন:

চাল বরাদ্দের আওতায় জেলেদের আনা সত্বেও মা ইলিশ মাছ ধরা থেকে জেলেদেরকে কোনভাবেই বিরত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বরং নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনা ও পদ্মা নদীর পাড়ের জেলেরা মা ইলিশ মাছ ধরা অব্যাহত রেখেছেন প্রতিদিনই। ইতোমধ্যে কিছু কিছু জেলে ইলিশ মাছ ধরার সময় আইন শৃখংলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও বেশিরভাগ জেলেরা মা ইলিশ মাছ ধরা থেকে ফিরে আসছে না কোনভাবেই।

বরং স্থানীয়ভাবে মাছের নৌকা প্রতি মোটা অংকের টাকা দিয়ে রাতেই জেলেরা মা ইলিশ মাছ ধরতে নদীতে নেমে পড়ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানা ও জাল পুড়িয়েও কোনভাবেই জেলেদেরকে মা ইলিশ মাছ ধরার এ যাত্রা থেকে ফেরানো যাচ্ছে না। এর ফলে সরকারের এ কর্মসূচি কোন কাজে আসছে না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এসব নদী পথে নৌ পুলিশ রয়েছে। আরো রয়েছে কোস্টগার্ড। তবে কিভাবে সম্ভব হচ্ছে নদীতে মা ইলিশ মাছ ধরা। আবার ধরা পড়া ইলিশ মাছ নিয়ে প্রকাশ্যে নদীর তীরে বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। এসব ক্ষেত্রে হাটের মতো মজমা করে মা ইলিশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি প্রথমে দেখ ভালোর দায়িত্বে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস।

তারা ঠিক ভাবে এ বিষয়টি দেখছে না বলেই এমনটি হচ্ছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল উঠছে সবার আগে। তা নিয়ে সকলের মনে নানা রকমের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচিত এ সময়টাতে মুন্সীগঞ্জে ডেপুটেশনে অন্য পাশ্ববর্তী জেলার বিপুল পরিমাণ কর্মকর্তাদের এখানে খন্ডকালিন কাজ করানো নিরচ্ছিদ্রভাবে।

তাদের পাশাপাশি এখানে এ কাজের বাস্তবায়নে সেনা বাহিনীও রাখা উচিত বলে অনেকেই মনে করছেন। এ বিষয়টি সরকার ভেবে দেখবেন বলে এখানকার মানুষ মনে করেন। যাতে জনবলের অজুহাতে এ কাজের কোন ক্ষতি যেন না হয়। আর কতৃপক্ষ যেন এ বিষয়ে এড়িয়ে যেতে না পারে।

এদিকে নদীর পাড়ের বিত্তবান বসতিরা এ মৌসুমকে কাজে লাগাতে উৎপেতে বসে থাকে। এ সময়কে পুঁজি কওে তারা এখান থেকে কম দামে এই মা ইলিশ মাছ কিনে মজুদ করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই এ মৌসুমকে কাজে লাগাতে এখানে ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই এ বিনিয়োগের লক্ষ্যে বিপুল টাকা ব্যয়ে ডিপ ফ্রিজ কিনেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

মা ইলিশের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে মজুদকৃত কম দামে কেনা এ ইলিশ মাছ তখন বেশি দামে বিক্রি করা হবে বলে অনেকেই মনে করছেন। নদীর পাড়ের বসতির সকলের বাড়িতেই এখন মা ইলিশ মাছ ফ্রিজে রয়েছে। সুক্ষভাবে তল্লাসি চালে এ বিষয়টি ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সেখানকার মানুষ মনে করছেন।

নদীর পাড়ের এসব ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের কারণে নদীতে মা ইলিশ মাছ ধরা কোনভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে। এসব লোভিদেরকে আইনের আওয়াতা আনা উচিৎ বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে একাধিক সূত্র মতে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের জাজিরা এলাকার জেলেরা সেখানকার প্রভাবশালীদেরকে নৌকা প্রতি ১২ হাজার টাকা করে দিয়ে মেঘনা নদীতে মা ইলিশের নৌকা নামানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এসব নৌকা রাত ১০টার পরে নদীতে নামে বলে খবর চাউর হয়েছে। ভোরের আগেই তারা আবার নদী থেকে মাছ ধরে নিয়ে ডাঙ্গা ফিরে আসছেন। এসব এলাকার একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ এ মা ইলিশ ধরায় জেলেদেরকে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২ হাজার ৯শ’ ৭২ জন জেলে এবার এ কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাউল পাবেন। তবে এ কর্মসূচির আওতায় সিরাজদিখান উপজেলা নেই। অন্য পাঁচটি উপজেলার জেলেরা এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলেদেও অনুকূলে চালের বরাদ্দ চলে এসেছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here