বাংলা বাজারে নাগরিকদেরকে বিশুদ্ধ পানির আওয়াতায় আনা হয়েছে !

3মোহাম্মদ সেলিম ও সালমান হাসান:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলা বাজার ইউনিয়নের নাগরিকদেরকে ইতোমধ্যে খাওয়ার বিশুদ্ধ পানির আওয়াতায় আনা হয়েছে। তাতে এ জনপদের নাগরিকরা বর্তমানে মহা খুশি এ নতুন ব্যবস্থাপনায়। বাংলা বাজার ইউনিয়নটি পদ্মা নদী দ্বারা বেষ্ঠিত।

এখানকার পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা অনেক বেশি রয়েছে বলে অনেকেই ইতোমধ্যে অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাই বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এখানকার নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বাংলা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব দিকে বিশাল আকৃতির বিশুদ্ধ পানির ট্যাংকি বসানো হয়েছে। যাতে এখানকার নাগরিকরা খুব সহজেই যেন বিশুদ্ধ পানি পায়। বর্তমানে তিন বেলা এখান থেকে নাগরিকরা প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে খাওয়ার জন্য।

তেতত্রিশ মাস হলো এখানকার নাগরিকরা এ সুবিধা ভোগ করছে। জানা যায়, ২০১৫ সালে এখানে এই পানি ট্যাংকি বসানোর মাধ্যমে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেই নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের দিকে। এরপর ২০১৮ সালের দিকে এখানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের কাজ শুরু হয়। এখানে পানির ট্যাংকি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ পানির ট্যাকিংর পানির ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার।

এখানে প্রায় ৪শ’২০জন পরিবারের মাঝে নিয়মিত পানি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আউট লাইনেও একাধিক লাইন রয়েছে। সেখান থেকেও সাধারণ নাগরিকরা এ সাপ্লাই পানি সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানা গেছে। এখানকার বাজারে এ ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে সকল নাগরিকদের জন্য। সেখান থেকে পানির নিয়মিত গ্রাহক না হওয়া সত্বেও এখানকার নাগরিকরা এ ধরণের অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করছেন বলে জানা গেছে।

প্রতি পরিবার থেকে এখানে পানির সরবরাহ বাবদ ২০০ টাকা করে গ্রাহক বিল আদায় করা হয়। এখানে আদিল এন্টার প্রাইজ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এটির দেখ ভালোর দায়িত্বে রয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রকল্পে আদিল এন্টার প্রাইজের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাই এ আদিল এন্টার প্রাইজ প্রতিষ্টানটি ১২ বছর এর দায়িত্বে থাকবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ সময়টুকুর মধ্যে এর কোন অসুবিধা দেখা দিলে তা তারা নিজ দায়িত্বে ঠিক করে নিবেন বলেও জানা গেছে।

এ প্রতিষ্টানের পক্ষে একজন প্রতিনিধি এখানে সারাক্ষণ দায়িত্বে রয়েছেন। তার নাম হচ্ছে নয়ন। সে এখানকার টেকনেশিয়ান হিসেবে এখানে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তিনিই গ্রাহকদের কাছ থেকে এখানে পানির বিল আদায় করে থাকেন। বাংলা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: হুমায়ূন কবির জানান, এ প্রকল্পের ১২ বছর অতিবাহিত হলে তখন এর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বাংলা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের কাছে।

তখন এর দেখ ভালোর দায়িত্ব থাকবে বাংলা বাজার ইউনিয়ন পরিষদ এর। যেসব গ্রামের লোকজন এর সুবিধা ভোগ করছেন সেগুলো হচ্ছে, মহেশপুর, পূর্বকান্দি, চেঙ্গবুনিয়া কান্দি, শম্ভু হালদার কান্দি, মহেশপুর পশ্চিম কান্দি ও আশুলিয়ারচর। আদিল এন্টার প্রাইজের টেকনেশিয়ান নয়ন জানান, এখানে পানি সরবরাহ করা হয় প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত।

দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এ ব্যবস্থাপনায় এখানে একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সভাপতি হচ্ছেন বাংলা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মুছা সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here