মানিকপুরে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর অবৈধ পাকিংয়ে আবাসিক এলাকায় অসুবিধা

3মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন: বিপুল অর্থ ব্যয় করে সরকারি কর্মচারী ও বেসরকারি ব্যক্তিরা এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিক সেজে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জে ব্যবসা করছেন চুটিয়ে। একেকজন এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিকদের একাধিক গাড়ী রয়েছে বলে শোনা গেছে। একেকটি এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর অনেক দাম। এতো বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস্য তাদের কোথায়? এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সর্বত্র।

এসব এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিকরা বিপুল পরিমাণ এতো অর্থ কোথায় পেলো। এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিকানা ব্যবসায় বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জে হাসপাতাল ও ক্লিনিককে পুঁজি করে এখানে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। অথচ সেইসব গাড়ির মালিকদের গাড়ীর রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। সাধারণত গাড়ীর ব্যবসা করলে গাড়ী রাখা কিংবা গ্যারেজের ব্যবস্থা থাকতে হবে এমনটাই বিধি ও নিয়ম।

অন্যের অসুবিধা করে নিজের গাড়ীর ব্যবসা করার কোন নিয়ম কোথায়ও নেই বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। যেখানে সেখানে যত্রতত্র গাড়ী পাকিং করে পৌর নাগরিকদের নানা ভাবে অসুবিধা ফেলছেন এখানকার এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিক ব্যবসায়িরা। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার আবাসিক এলাকার রাস্তা দখল করে দিনের পর দিন এখানে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিকরা এ ব্যবসা জমিয়ে তুলেছেন। এর ফলে এখানে অন্যান্য পৌর এলাকায় বসবাসকারী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ বিষয়টি।

এখানে এ ব্যবসার সাথে জড়িত এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিক ব্যবসায়িরা কাউকে তেমনটা পাত্তা দিতে চান না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরণের ঘটনা ঘটছে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আশপাশ এলাকায়। এ বিষয়ে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিকদের পৌর নাগরিকরা কিছু বললে তাদের যা তা কথা বলে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আলোচিত এলাকায় এভাবে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিকরা সারি সারি গাড়ী রাখার কারণে আবাসিক এলাকায় পৌর নাগরিকদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে এখানে রাতের আঁধারে আবাসিক এলাকার দেয়াল ও এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর আড়ালে নানা ধরণের অসামাজিক কাজ কর্ম হচ্ছে বলে অনেকেই অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এ সুযোগে অনেকেই ওখানে মাদকের মতো ভয়ংকর ব্যবসায় মেতে উঠেছেন।

এছাড়া সেখানে অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির কর্মকান্ড সেরে নেন সুযোগ বুঝে। তাতে সেখানে আবাসিক এলাকার বসতিরা লজ্বা ও অপমান নিয়ে বাধ্য হয়ে বসবাস করছেন। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের দক্ষিণ দিকের আবাসিক এলাকার রাস্তায় অপেক্ষমান থাকে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ী। এর মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সাবেক এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর চালক মোশারফ হোসেনের একাধিক গাড়ী।

তাকে ইতোমধ্যে এখান থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তার এখানকার এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর ব্যবসা কোনভাবেই বন্ধ হয়নি। বরং মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অপর এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর চালক জসিম মোশারফ হোসেনের গাড়ীর দেখ ভালোর দায়িত্বে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এখান থেকে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর ভাড়া জুটিয়ে দিতে পারলে সেখান থেকে জসিম কমিশন পান বলে খবর পাওয়া গেছে। মোশারফ হোসেন একজন সরকারি এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর চালক হয়ে এখানে একাধিক এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর মালিক কিভাবে হলো তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে দিনের পর দিন রাস্তার পাশে গাড়ী পাকিং করে এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর ব্যবসার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রয়েছে মুন্সীগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশের। আবাসিক এলাকার অধিবাসীরা এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ ও মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়রের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here