গজারিয়ায় মেঘনায় লঞ্চ-নৌ-পুলিশের স্পীডবোর্ড মুখোমুখি: আটক ৪

9গজারিয়া থেকে ফিরে মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন: গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা নদীর ষোলআনি এলাকায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রাসেল ২ ও গজারিয়া নৌ পুলিশের টহলরত স্পীড বোর্ডের সাথে মুখোমুখি সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে।

তাতে নৌ পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতরা হচ্ছে গজারিয়া নৌ থানা পুলিশের আইসি. এস.আই. মো. আ: ছালাম, এস.আই মো: মজিবর রহমান, এ.এস.আই মো. হাসান আলী, কনস্টেবল অমৃত লাল, মিজানুর রহমান, স্পীড বোর্ডের চালক মো: শাহিন।

এদিকে কনস্টেবল মিজানুর রহমান মাথায় আঘাত পেয়েছেন। স্পীড বোর্ডের চালক মো: শাহিন পায়ে আঘাত পেয়েছেন। এই দু’জন প্রাথমিক চিকিৎসার পর গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান করছেন। এদিকে আহতদের মধ্যে এস আই মজিবর রহমানকে আশংকা জনক অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহত অন্য তিনজন পুলিশ সদস্যদেরকে ভবেরচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।

8এ ঘটনায় গজারিয়া নৌ পুলিশ এমভি রাসেল ২ এর চারজন স্টাফকে গ্রেফতার করেছেন। তারা হচ্ছেন লঞ্চের মাস্টার মো: নান্নু মিয়া। তার বাড়ি হচ্ছে মতলব উপজেলায়। লঞ্চের সুকানী কফিল উদ্দিন। তার বাড়ি হচ্ছে মতলব উপজেলায় লঞ্চের ড্রাইভার মো: ইয়াসিন ও লঞ্চের কেরানী মাঈন উদ্দিন। সকাল ১১টার দিকে তারা গজারিয়া থানার তদন্তের হেফাজতে ছিল। বিকেলের দিকে তাদেরকে গজারিয়া নৌ পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছিলো।

একাধিক সূত্রের মতে শুক্রবার রাত ৬টা ৫০ মিনিটের সময় গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীর ষোলআনিতে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা জানান, ঘটনার সময়ের লঞ্চ যাত্রীরা স্বাক্ষী রয়েছে এ দুর্ঘটনার জন্য লঞ্চের কেউ দায়ি নয়। এছাড়া লঞ্চটি সঠিক নিয়মেই চালানো হচ্ছিলো।

লঞ্চের সকল ধরণের কাগজপত্রাদি ঠিক রয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে এমভি রাসেল ২ লঞ্চটি চাঁদপুর থেকে নারায়নগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে লঞ্চটি গজারিয়ার ষোলআনি এলাকা অতিক্রম করার সময় গজারিয়া নৌ থানা পুলিশের টহলরত স্পীড বোর্ডেও সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে স্পীড বোর্ডের ডানপাশের সামনের অংশ ধুমরে মুচরে যায়।

অপেক্ষমান গজারিয়ায় কোস্ট গার্ড এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে গজারিয়া কোস্ট গার্ড আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন। এদিকে গজারিয়া পুলিশের প্রহরায় লঞ্চটির রাত্রিকালীন যাত্রীদেরকে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে একাধিক সূত্রে জানা যায়, লঞ্চটি দক্ষিণদিক থেকে হাতের ডান পাশ ধরে ষোলআনির দিকে আসছিলো।

আর স্পীড বোর্ডটি উত্তর দিক থেকে ডানপাশ ধরে আসছিলো। তবে স্পীড বোর্ডটি অনেকটাই ধীরগতিতে চলছিলো বলে শোনা গেছে। এরমধ্যে স্পীড বোর্ডটি বামপাশ ধরে টান নিলে এটি লঞ্চের সাথে তখন ধাক্কা খায়। ধাক্কার সময়ে লঞ্চটির ডান সাইডে বাঁধের ব্লক থাকায় তখন লঞ্চটিকে কোনভাবে আর সামলানো যায়নি বলে শোনা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here