গজারিয়ায় সড়ক ও জনপদের উদাসীনতায় ভবেরচর স্ট্যান্ডের দুইপাশে চলছে দখলের রাম রাজত্ব!

13নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাস স্ট্যান্ডের দুই পাশের জায়গা দখলদারদের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছে ক্রমশ। এরই মধ্যে ভবেরচর ব্রীজ থেকে ডানে বামে তাকালেও দেখা যাবে হাইওয়ে সড়কের পাশের জায়গা কিভাবে দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

মহাসড়কের দুইধারের ফুটপাত দখল করে নিয়েছে এখান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পূর্বপাশে ফলের দোকান, ফুটপাতের ফাস্টফুটের দোকান, সিঙ্গারা ও পুরি চায়ের দোকানে ভরে গেছে। পশ্চিম দিকে গাড়ি পার্কিংয়ের দোকান, পত্রিকার বিক্রির নাম করে দোকান উঠিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনেকেই। উত্তর পাশের চায়ের দোকান, পত্রিকার দোকান, ফলের দোকান দিনভর ক্রেতাদের ভিড়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও মহাসড়কে চলাচল করা গাড়ির বহর।

এসব কারণে যাত্রী উঠা ও নামাতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এখানে সবসময়। এখানে কখনো কখনো হাইওয়ের পুলিশের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও অবৈধ দোকান পাট উঠিয়ে ব্যবসা বন্ধে তাদের কোন ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনায় কবলিত হয় যাত্রীবাহি গাড়ি। এখানে সাধারণ যাত্রীদের পারাপারের জন্য কোন জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থাও করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাতে এখানে বিপদের ভয় থাকে সারাক্ষণ।

ভবেরচর স্ট্যান্ডের ব্রীজের নীচের সরকারি খালটি এখন শুধুই অতীত। বালুয়াকান্দি থেকে শুরু করে খালটি শেষ হতে হতে এখন আর এই খালটির কোন অবয়ব দেখতে পাওয়া যাবে না কোনভাবে। ব্রীজটির উপরে উঠলে মনে হবে এই ব্রীজের নীচ থেকে যে সরকারি খালটি এক সময়ে বয়ে চলেছিল নিজের মতো করে। সেখানে সেটি আজ সরকারি বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানগুলো গিলে খেয়েছে মিলেমিশে।

প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই দিনে দিনে পয়নিষ্কাশনের একমাত্র অবলম্বন ডোবা, নালা, খাল এভাবে দখল হতে থাকলে এক সময় পরিবেশের সকল ভারসাম্য হারিয়ে যাবে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। ভবেরচর স্ট্যান্ডের ব্রীজের নীচে বালু ভরাট করে সরকারি খালের জায়গা দখল করে নেওয়ার পরে এবার দোকন উঠানোর হিড়িক পড়ে গেছে। সরকারি জায়গায় যত্রতত্রভাবে দোকান ঘর উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ বিষয়গুলো এখন আর দেখার মতো কোন কর্তৃপক্ষ আছে বলে মনে করছেন না দখলদারকৃত লোকজন। গজারিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাদের একটাই বক্তব্য অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি জায়গা দখল করে গিলে খাচ্ছে এটার পক্ষে যাদের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা তারা তো তা নিচ্ছেই না উল্টো যারা বিষয়টি অবগত করাচ্ছেন তাদেরকে উল্টো লিখিত অভিযোগ করার জন্য প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হচ্ছে।

এভাবেই গজারিয়ার সর্বত্র দখলের জয়জয়কার চলছে মহা ধুমধামে। প্রশাসন এভাবে নিরব থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে সকল সরকারি জায়গা দখল হয়ে যাবে কোন প্রতিবাদ ছাড়াই। ভবেরচর স্ট্যান্ডের অনেকে অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগ দিলে কি হবে? তদন্তে আসবে মোটা অংকের টাকা নিয়ে প্রাশাসন চলে যাবে। কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকবে পুনরায় কাজ আরম্ভ হবে এবং আবারো দখল হয়ে যাবে। গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতায় এমনভাবেই চলছে এখানে দখলের রাম রাজত্ব।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় যেভাবে ভবেরচর স্ট্যান্ডের দুইপাশে দোকানপাট বসেছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন সাধারণ চলাচলকারী স্থানীয় পথযাত্রীরা। দ্রুত জেব্রা ক্রসিং এবং অবৈধ সকল দোকান পাট উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা একান্ত জরুরী ।

সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে আমরা অবৈধ উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েছি। পুনরায় নোটিশ দেব এবং দ্রুত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here