গজারিয়া ফেরিঘাটে নৌকা পারাপারে পর্যাপ্ত বয়া নেই! যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে

4মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন: মুন্সীগঞ্জ থেকে বর্তমানে গজারিয়া উপজেলা যেতে পরে মেঘনা নদী। মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া ফেরিঘাটে মেঘনা নদীতে পারাপারের সময় এখানে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা। তীব্র খরস্রোতা ও গভীর এ মেঘনা নদী প্রতিদিনই এ পথে কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে পারাপার হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে এ নদী সাধারণ পারাপার তেমনটা বর্তমানে নিরাপদ নয়।

এ নদী দিয়ে কয়েক হাজার বালুর নৌকা চলাচল করে থাকে প্রতিদিন। নারায়ণগঞ্জ থেকে একাধিক মতলব ও চাঁদপুরের এমভি লঞ্চ এ পথে আপ ও ডাউন করে থাকে। এছাড়া ঢাকার সদরঘাট থেকে চাঁদপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক বড় বড় লঞ্চ প্রতিদিন এ নদী দিয়ে চলাচল করে থাকে। অন্যদিকে সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম ও বিদেশ থেকে আসা সবগুলো জাহাজ এ নদী দিয়ে চলাচল করে থাকে রাত ও দিনের মধ্যে।

সেই দিক থেকে নদীতে চলাচলে দেশের সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ নদী হচ্ছে এটি। সেইসব বিবেচনা করে এ নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল অনেকটাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময়ে এ পথে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানীর আশংকা করছেন অনেকেই। সেই তুলনায় এখানে পারাপারের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য তেমন

6কোন সুব্যবস্থা নেই। সেই ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে জননেতা গজারিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান মো: আমিনুল ইসলাম নির্বাচনে জয় লাভের পরপরই এখানে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় ১০টি বয়া প্রদান করেন। এপারের নৌকা ছেড়ে যাওয়ার সময়ে ৫টি করে বয়া নিয়ে ছেড়ে যাবে এমনটি কথা ছিলো বলে শোনা যাচ্ছে।

আর ওপারের নৌকা ছেড়ে আসার সময়ে ৫টি বয়া নিয়েই ছেড়ে আসবে। এ ধরণের ব্যবস্থা নৌকায় থাকবে বলে এ কথাই জানিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু এ বিধি নৌকার চালকরা কোনভাবেই মানছেন না বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে কয়েকটি নৌকায় একটি করে বয়া রাখতে দেখা যায়। আবার কোন কোন নৌকায় কোন বয়াই নেই। আবার কখনো কখনো বয়া গজারিয়া লঞ্চ টার্মিনালে পড়ে থাকতেই দেখা যায়।

দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য এখানে এ বয়া দেয়া হলেও নৌকার মালিক কিংবা চালকরা এ বয়ার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নৌকার মাঝিদের মাঝে লাইফ জ্যাকেট দেয়া হলেও নৌকার চালকরা তা ব্যবহার করছেনা বলে আরো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেই লাইফ জ্যাকেট নৌকার পাশে পরে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বিপুল টাকা ব্যয়ে প্রতিযোগিতা করে এখানে ইজারাদার এর ইজারা নিলেও সরকারি বিধি আদেশ ক্রমশ উপেক্ষা করে চলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এভাবে এ পথে এ বিষয়টি চলতে থাকলে এখানে যে কোন সময বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করছে এ পথের যাত্রীরা। আগে মুন্সীগঞ্জ থেকে এ ধরণের নৌকা চলাচল করতো। এখন সড়ক পথে যোগাযোগ বেড়ে যাওয়ায় মুন্সীগঞ্জ গজারিয়া ফেরিঘাট দিয়ে মেঘনায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল করছে। এ পথে পারাপারে যাত্রীদের

কাছ থেকে ২০ টাকা করে আদায় করা হলেও নৌকার ইজারাদার যাত্রীদের নিরাপত্তায় উদাসীনভাব দেখিয়ে চলেছেন। মুন্সীগঞ্জ থেকে নদী পার হয়ে গজারিয়ায় গেলে নৌকার চালকরা গজারিয়া লঞ্চ টার্মিনালটি যাত্রী নামার সময়ে ব্যবহার করে থাকেন।

তখন সেখানে একাধিক নৌকা ভাসমান থাকলে যাত্রীদেরকে সেই নৌকার ওপর দিয়ে তবেই ডাঙায় উঠতে হয়। তখন নারী ও শিশু যাত্রীরা অনেকটা অসুবিধার মধ্যে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাতে কারণ হচ্ছে নদীতে সারাক্ষণ ঢেউ থাকে। তখন ঢেউয়ের কারণে পাড়ের নৌকা সারাক্ষণ ধুলতে থাকে। তখন নারী ও শিশু যাত্রীরা কোনোভাবেই নামতে পারে না।

5কখনো কখনো এ সময় যাত্রীরা হুমরি খেয়ে পড়েন বলে শোনা যাচ্ছে। এদিকে এখানে রাত বাড়ার সাথে বাড়াও বাড়তে থাকে। কখনো কখনো রাতে এ পথে বিপাকে পরে যাত্রীরা ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে এ নদী পথ পাড় হন বলে শোনা যাচ্ছে। গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যন মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে পারাপারে জন্য আমি নিজের অর্থ দিয়ে ইতোমধ্যে বয়া কিনে দিয়েছি।

আগামী মার্চে আরো বয়া দেয়ার পরিকল্পনা আমার রয়েছে। নৌকাতে বয়াটি থাকলে পারাপারের সময়ে মনের জোর থাকে অনেকটা। আমি এখানকার নৌকার চালকদের অনিয়মের বিষয়টি দেখ বলে তিনি প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here