মুক্তারপুরে জোড়পুকুরপাড়ে ধর্ষণের বিচারে ১০০ জুতার বাড়ি

মোহাম্মদ সেলিম:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুরে জোড়পুকুরপাড়ে ধর্ষণের বিচারে ১০০ জুতার বাড়ি দেয়া হয়েছে ধর্ষককে। এভাবে থামিয়ে দেয়া হয়েছে ধর্ষণের শিকার হওয়া পরিবারকে। আর এ ঘটনার পর থেকে এ পরিবারটি ভয়ের মধ্যে এখানে দিনযাপন করছে বলে জানা গেছে। তবে ভয়ে তারা কোনভাবেই মুখ খুলছে না বলে শোনা যাচ্ছে।

তারা যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন সেই বাড়িওয়ালার চাপের মধ্যে রয়েছেন তাদের পুরা পরিবার। চলতি মাসের ২২ ডিসেম্বর গত মঙ্গলবার পুর্নিমা পেট্টোল পাম্পের পাশে বাড়িওয়ালা নাসির মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনায় সালিশ বৈঠকে এ জুতার বাড়ির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। সালিশ বৈঠকের তিন থেকে চারদিন আগে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে আভাষ পাওয়া যাচ্ছে। বাড়িওয়ালা নাসির এ ঘটনায় আইনের পদক্ষেপ না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপ দেয়ার লক্ষ্যে এ ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ ধরণের ঘটনায় বাড়িওয়ালা এ ধরণের উদ্যোগ নিতে পারে না বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। তার উচিত ছিলো বিষয়টি আইন শৃংখলা বাহিনীকে জানানো। ধর্ষণকারীর নাম হচ্ছে নুরা। সে স্থানীয় দুলাভাই ভান্ডারির হোটেলে কাজ করে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, জোড়পুকুরপাড়ের পঞ্চসার ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সকালের শিপটের কিন্ডার গার্ডেনে নাসির মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকা লিটনের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এবার সেই শিক্ষার্থী একই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে বলে তার পিতা লিটন জানান। এখানে তার মামা লাল মিয়া প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করেন। লিটন এখানে এক যুগ ধরে বসবাস করছেন। লিটন এখানে একটি সুতার মিলে অপরেটরের কাজ করেন বলে জানা গেছে। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। ইতোমধ্যে তার দুই ছেলের বিয়ে হয়ে গেছে।

তাদের আদি বাড়ি হচ্ছে পটুয়াখালী জেলায়। নুরার সাথে মেয়েটির পূর্ব থেকে পরিচয় ছিলো বলে শোনা যাচ্ছে। সেই সুবাধে তারা ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক গড়ে তোলে বলে জোর দাবি শোনা যাচ্ছে। ঘটনার রাতে তারা উভয়ে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলায় মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানা গেছে। মেয়েটির শরীরের বিশেষ জায়গায় ব্যথা অনুভব করায় তার পরিবার প্রথমে বিষয়টি জানতে পারে।

এরপর তার বাড়ির মালিকের কাছে ছুটে যান। এই সময় এখানে মধ্যস্থা করতে খালেক নামের এক লোক ছুটে আসেন। সেসহ বাড়ির মালিক ধর্ষণের বিচার হিসেবে সালিশি বৈঠকে নুরাকে ১০০ জুতার বাড়ি মারার আদেশ প্রদান করেন। নুরার দুলাভাই ভান্ডারি প্রকাশ্যে নুরাকে জুতা মেরে সেই সালিশ বৈঠক থেকে ফিরে যায় বলে জানা গেছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here