মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন

মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন:

আজ সোমবার মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী প্রার্থীদের মাঝে অর্ধ বেলা পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দ কাজ করেছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস। নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারীরা প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্রে যে যার মতো প্রতীক চেয়েছেন তাদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থীরা একই প্রতীক চেয়েছেন শুধুমাত্র তাদের মাঝে লটারীর মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।

আর যাদের বিপরীতে কোন একাধিক প্রার্থী নেই, তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীদের পক্ষে তাদের সমর্থকরা দুপুর ২টার পর থেকে শহরে দলবেধে মিছিল বের করতে থাকে। অনেকে আবার বাদ্যযন্ত্র নিয়েও বের হয়। এরমধ্যে যেসব প্রার্থীরা নিশ্চিত ছিলেন যে তারা তাদের পছন্দ মতোই প্রতীক পাবেন, তারা আগে ভাগেই সেই প্রতীকসহ পোস্টার ছেপে রেখে ছিলেন পূর্বে। প্রতীক বরাদ্দের ঘোষণার পর থেকে শহরে ও মহল্লাতে তাদের প্রতীকসহ পোস্টার এখন শোভা পাচ্ছে।

আজ থেকেই জমে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের পৌনসভার নির্বাচন। আগামী ৩০ জানুয়ারি শনিবার ৩ ধাপে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব। নির্বাচনে তার প্রতীক হচ্ছে নৌকা। গত নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ের মালা গলায় পড়েন। এ নির্বাচন তার দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ শহর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শহিদুল ইসলাম শহিদ কমিশনার। তার প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ। এ নির্বাচনে তিনি এ পদে নতুন মুখ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হচ্ছেন আ: রাজ্জাক হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে হাত পাখা। এ নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী হচ্ছে তিনজন। আর স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হচ্ছে মাত্র দুইজন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হচ্ছেন এডভোকেট মুজিবুর রহমান। তার প্রতীক হচ্ছে নারকেল গাছ ও আর অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন এম.এ. কাদের মোল্লা। তার প্রতীক হচ্ছে মোবাইল ফোন।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ১, ২ ও ৩ নংয়ে তিনজন নারী প্রার্থী রয়েছে। তারা হচ্ছেন গত দুই দুইবারের সফল কাউন্সিলর নার্গিস আক্তার। তার প্রতীক হচেছ আনারস। অপর দুই প্রার্থী এ নির্বাচনে নতুন মুখ। তারা হচ্ছেন এড. নাজমা আক্তার নীরা। তার প্রতীক হচ্ছে চশমা ও হুমায়রা আক্তার রিমা। তার প্রতীক হচ্ছে অটোরিক্সা।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নংয়ে দুইজন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর হোসনে আরা। তার প্রতীক হচ্ছে অটোরিক্সা। আর নতুন মুখ হিসেবে পারভিন আক্তার। তার প্রতীক হচ্ছে আনারস।

মুন্সীগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ৭, ৮ ও ৯ নংয়ে চারজন প্রার্থী রয়েছে। নারীদের মধ্যে এখানেই সবচেয়ে বেশি প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা হচ্ছেন নাসিমা আক্তার সিমা। তার প্রতীক হচ্ছে অটোরিক্সা। তিনি এর আগেও এখানে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন। অন্যান্য প্রার্থীরা এখানে নতুন মুখ। তারা হচ্ছেন পাখি বেগম। তার প্রতীক হচ্ছে টেলিফোন। রুমা বেগম। তার প্রতীক হচ্ছে জবা ফুল ও সেলিনা বেগম। তার প্রতীক হচ্ছে আনারস প্রতীক।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় সাধারণ ওয়ার্ডের ১ নংয়ে আটজন প্রার্থী নির্বাচনে মাঠে নেমেছেন। তারমধ্যে ছয়জন প্রার্থী নতুন মুখ হিসেবে এ নির্বাচনে লড়াইয়ে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। তারা হচ্ছেন মো. খায়রুল ইসলাম। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি। এড. মো. নাহিদ হাসান। তার প্রতীক হচ্চে ব্ল্যাক বোর্ড। বর্তমান কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন আবির। তার প্রতীক হচ্ছে পানির বোতল)।

মজিবুর রহমান খোকা। তার প্রতীক হচ্ছে গাজর। মো. মনির হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প। গত পৌর নির্বাচনে তিনি অংশ গ্রহণ করে ছিলেন। মো. মিরাজুল ইসলাম। তার প্রতীক হচ্ছে পাঞ্জাবী। হিরন। তার প্রতীক হচ্ছে ডালিম।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীই নতুন মুখ। আবু জাফর মো. সাইফুল বিন সামাদ। তার প্রতীক হচ্ছে ব্ল্যাক বোর্ড। এ নির্বাচনে তিনি নতুন মুখ। এস.এম. মশিউর রহমান ববি। তার প্রতীক হচ্ছে ডালিম। এর আগেও তিনি এখানে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেন। এস.এম. আরিফ।

তার প্রতীক হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প। মোহাম্মদ মাহাবুব আলম। তার প্রতীক হচ্ছে পাঞ্জাবী। এ নির্বাচনে তিনি নতুন মুখ। সোহেল রানা রানু। তার প্রতীক হচ্ছে পানির বোতল। এ নির্বাচনে তিনি নতুন মুখ। বর্তমান কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান দর্পন। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি। হুমায়ুন কবির। তার প্রতীক হচ্ছে ব্রীজ। এ নির্বাচনে তিনি নতুন মুখ।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি। বর্তমান কাউন্সিলর মো. মকবুল হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে ডালিম।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে ব্ল্যাক বোর্ড। এডভোকেট মাহবুবুর রশীদ। তার প্রতীক হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প। মিলন হাওলাদার। তার প্রতীক হচ্ছে ডালিম। মো. আলী আকবর চায়না। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন দীন ইসলাম। তার প্রতীক হচ্ছে ব্ল্যাক বোর্ড। বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান স্বপন। তার প্রতীক হচ্ছে পাঞ্জাবী। মো. মনির হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন আবু সাত্তার মুন্সী।

গত নির্বাচনে তিনি অংশ নিলেও জয় লাভ করতে পারেননি। এ নির্বাচনে তার প্রতীক হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প। গাজী মশিউর রহমান। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি। পান্নু গাজী। তার প্রতীক হচ্ছে পাঞ্জাবী। বর্তমান কাউন্সিলর মো. আওলাদ হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে ডালিম। মো. শহীদুল ইসলাম (লিটন)। তার প্রতীক হচ্ছে ব্ল্যাক বোর্ড।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন আবু সুফিয়ান। তার প্রতীক হচ্ছে ব্ল্যাক বোর্ড। মো. আওলাদ হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে ডালিম। মো. স্বপন। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি। মো. আফজাল হক। তার প্রতীক হচ্ছে পাঞ্জাবী। গত নির্বাচনে সাবেক জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল হাসান তুষার অংশ গ্রহণ করে ছিলেন। এ নির্বাচনে তার প্রতীক হচ্ছে পানির বোতল। বর্তমান কাউন্সিলর সুলতান বেপারী। তার প্রতীক হচ্ছে ব্রীজ। রাজিব হোসেন বাবু। তার প্রতীক হচ্ছে টেবিল ল্যাম্প।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন মোস্তফা হাবিবে আলম। তার প্রতীক হচ্ছে পাঞ্জাবী। এছাড়া এখানে অপর প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর মো. আওলাদ হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি। অন্য প্রার্থী হচ্ছেন মো. জুনায়েদ মিয়া। তার প্রতীক হচ্ছে ডালিম।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের প্রার্থীরা হচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর হাজি মো. জাকির হোসেন। তার প্রতীক হচ্ছে পাঞ্জাবী। এছাড়া রয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা মো. সাজ্জাদ হোসাইন। তার প্রতীক হচ্ছে উটপাখি।

প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি জেলা রিটানিং অফিসার মো. আরিফুল হক নিশ্চিত করছেন। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে এবারের নির্বাচনে ২৫টি কেন্দ্র করা হয়েছে। তারমধ্যে ১৫০টি বুথ রয়েছে।

এখানে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৫৩ হাজার ৩শ’৭৪ জন। এ নির্বাচনে ২৫টি ভোট কেন্দ্রে ২৫জন প্রিজাইডিং অফিসার কাজ করবেন বলে জানা গেছে। তাকে সহযোগিতা করার জন্য এখানে ১৫০জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩০০ জন পোলিং অফিসার কাজ করবেন বলে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here