সিরাজদিখানে বাড়ি দখলের চেষ্টা ও ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ!

সিরাজদিখানে জোড় করে বাড়ি দখল ও ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের বাহেরকুচি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেনে ভূক্তভোগীর পরিবার।

ভূক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাহেরকুচি গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ৩৫ শতাংশ জায়গা দখল নেওয়ার চেষ্টা করে ঢালি আম্বার নিবাস রিসোর্ট মালিক নজরুল ঢালির লোকজন। এসময় ইদ্রিস মিয়ার একটি বসতঘর ও বাড়িটির টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং বেশ কিছু কলাগাছ কেটে ফেলে। ভাংচুরে বাধা দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ইদ্রিস মিয়া, স্ত্রী পারভীন (৪৫) বেগম, মেয়ে এনি আক্তার (২৪), ছেলে সাব্বির (১৯) ও বোন তাসলিমা (৪০)। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

তিন বছর আগে বাড়ির কেনার প্রস্তাব দেয় নজরুল ঢালীর লোকজন। ইদ্রিস মিয়া বাড়ি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হচ্ছে বলে অনেকে জানান। প্রায় তিন বছর আগে ইদ্রিস মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলাও করেছেন।

ইদ্রিস মিয়া জানান, আমি ২০০৭ সালে জমি কিনে ভরাট করেছি, বাড়ি করেছি কলা ও গাছ লাগিয়েছি। এখন তারা আমার জায়গা তারা নিতে চায়। আমি তাদের কাছে বিক্র করতে না চাইলে তারা আমার উপর অত্যাচার শুরু করেছে। তারা বর্তমানে ওয়ারিশ বানিয়েছে ঝামেলা করায় আমি আদালতে মামলা করেছি। বর্তমানে মামলা চলমান আছে।

ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম জানান, উপজেলার মলপদিয়া গ্রামের মৃত মোঃ মোজ্জাফরের ছেলে মাসুম(৪০) হল নজরুল ঢালী মূল দালাল। তার নেতৃত্বে জগদীশ (৪৭), আক্তার (৩৮), আলামিন (৩৫), মুন্না (২৯), মিজান (৪৬) সহ দুই শতাধিক লোকজন এসে আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করে। বাড়ির বাউন্ডারি টিনের বেড়া ভেঙ্গে ফেলে। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের চার-পাঁচজনকে মারধোর করে।

ছেলে সাজিদ জানান, নজরুল ঢালী জোর করে আমাদের জমি নিতে চায়। আমাদের বলে বিলের সাথে এই পরিমান জায়গা দিবে। এই যায়গা তাকে ছেড়ে দিতে হবে সাথে আমাদের পাঁচ লাখ টাকা দিতে চায়। আমার বাবা তাতে রাজি না হওয়ায় তার লোকজন আমাদের অত্যাচার করছে।

আমাদের থাকার ঘর ভেঙে দিয়েছে তারা। তারা অনেক ধনী ও ক্ষমতাধর। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। থানায় অভিযোগ দিয়েছে পুলিশ আমাদের তেমন গুরুত্ব দেয় না।

নজরুল ঢালীর লোক মাসুমের মুঠো ফোনে একাধিকার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি বন্ধ দেখায়।

এবিষয়ে নজরুল ঢালীর মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত এসএম জালাল উদ্দিন বলেন,

সেখানে কেও ভাংচুর করেছে এমন কোন তথ্য আমরা পই নাই। কিন্ত ইদ্রীস মিয়া ও মাসুম উভয়ই এই জায়গার দাবি করে তাই আমরা তাদের কাগপত্র নিয়ে উভয় পক্ষকে আশার জন্য বলেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here