মিরকাদিম লঞ্চঘাটের ধলেশ্বরী নদীতে চরপড়ায় লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে

7মোহাম্মদ সেলিম ও তোফাজ্জ্বল হোসেন:

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম লঞ্চঘাটের ধলেশ্বরী নদীতে ব্যাপকভাবে চর পড়ায় লঞ্চ চলাচলে বর্তমানে অনেক ধরণের অসুবিধা দেখা দিয়েছে লঞ্চ যাত্রীদের। অনেক দিন ধরেই এ অবস্থা বিরজমান থাকলেও গত ৫দিনের আগ থেকে এখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এ কাজ কবে লাগাত শেষ হবে সেই বিষয়ে এখানকার কেউ কিছুই বলতে পারেনি বলে শোনা যাচ্ছে।

তবে লাগাত লঞ্চ যাত্রীরা এ যাতনা থেকে মুক্তি পাবে তা নিয়ে এখানকার অনেকেই শংকা প্রকাশ করেছে। বরং এক শ্রেণির সুবিধাবাদিরা এ বিষয়টি জিইয়ে আরো রেখে বাড়তি সুযোগ ও সুবিধা ভোগ করছে বলে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেছেন। মিরকাদিম লঞ্চঘাট থেকে পঞ্চসার ইউনিয়নের ফিরিঙ্গিবাজার স্টিমারঘাট পর্যন্ত ব্যাপক এলাকা নিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে চর পড়েছে।

এর ফলে ধলেশ্বরী নদী এখন অনেকটাই ছোট হয়ে আসছে। এখানকার চর পড়ার স্থান থেকে ধলেশ্বরী নদীটি খুব কাছেই অবস্থান করছে এ জেলার সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ মুক্তারপুর সেতুটি। সেই হিসেবে চরের স্থানে নিয়মিত ড্রেজিং করা না হলে ধলেশ্বরী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ যেকোন ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছে। এ কারণে এখন এখানে দক্ষিণ বঙ্গের বরিশাল ও চাঁদপুরের বড় বড় লঞ্চ এ ঘাটে কোনভাবেই ভিড়তে পাড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

তাতে এখানকার ঐতিহ্যবাহী মিরকাদিমের কমলাঘাট বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। হুমকির মুখে আরো পড়েছে রিকাবিবাজার ও ফিরিঙ্গিবাজারের ব্যবসা বাণিজ্য। দক্ষিণ বঙ্গ থেকে লঞ্চে করে আসা বিভিন্ন পণ্য মিরকাদিম লঞ্চঘাটেই নামানো হয়ে থাকে। আর সেই সবপণ্য এ জনপদের জেলার বিভিন্ন স্থানে বেচা কিনার মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়।

কিন্তু এখন সেই কাজে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এ পরিস্থির মধ্যে দিয়ে ধলেশ্বরীর মাঝ নদীতে সেইসব লঞ্চ চলতি পর্যায়ে যাত্রী উঠা নামা করছে অনেকটাই ঝুঁকি নিয়ে। দক্ষিণ বঙ্গের বরিশাল ও চাঁদপুরের এসব লঞ্চ এখানে পৌঁছলে চলতি পর্যায়ে চলমান অবস্থায়ই সেইসব লঞ্চ ধীর গতিতে চলতে থাকে।

আর সেই সময়ের মধ্যে আগে থেকেই অপেক্ষমান লঞ্চ যাত্রীরা কে কার আগে লঞ্চে উঠতে তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন অনেক লঞ্চ যাত্রীরা। এর মধ্যেই লঞ্চে অপেক্ষমান যাত্রীরা ট্রলারে নামার জন্য হুরমুর করতে থাকে। এদিকে আবার এ ট্রলারে দ্রুততার সাথে লেবাররা একদিক থেকে লঞ্চে থাকা মালামাল ও ট্রলারে থাকা মালামাল উঠাতে ও নামাতে থাকে।

এ সময়টাতে বিপদজনক পরিস্থিতি নিত্য দিনই বিরজমান থাকে। এর ফলে এ পদ্ধতির কারণে বর্তমানে যাত্রীদের অতিরিক্ত পকেটের টাকাও কাটা যাচ্ছে বলে আরো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ হচ্ছে লঞ্চ টার্মিনাল দিয়ে এসব লঞ্চে যাত্রীরা উঠতে গেলে শুধুমাত্র ৫ টাকা দিলেই হতো।

কিন্তু এখন এখানে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। এ পদ্ধতির কারণে যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে গেলে ট্রলারের চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা করে আদায় করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ ধরণের যাতনার পরেও এ যাত্রীদের আরেক দফার শিকার হতে হচ্ছে মালামাল নিয়ে সেখান থেকে পাড়ে আসতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এখানে দফায় দফায় ভোগান্তিতে লঞ্চ যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কারণ হচ্ছে যে ঘাটের কাছ থেকে অনেক দূরে লঞ্চ নদীতে অপেক্ষামান থাকে। সেখানে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য কোন পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। এ কারণে এখানে লঞ্চ যাত্রীরা ভোগান্তি রয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া এখানে বর্তমানে ছোট ছোট লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়ছে অনেকটাই কষ্ট করে। টার্মিনালে একাধিক লঞ্চ জরো করে রাখতে দেখা গেছে। তবে চরের কারণে এখানেও অনেকটাই সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এখানে একটি বড় সরো আধুনিক টার্মিনালের পল্টুন দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি এখন কোন কাজেই লাগছেনা লঞ্চ যাত্রীদের। কারণ হচ্ছে এখন চরের কারণে অনেকেই এ টার্মিনাল ব্যবহার করছেন না। এদিকে টার্মিনালের নতুন পল্টুনটি এখন চরের কারণে পূর্ব পশ্চিম দিক করে রাখা হয়েছে।

এটি মুলত উত্তর দক্ষিণ দিক করে রাখার কথা ছিলো। কিন্তু প্রকৃতির কারণে এটি এখন সেই ভাবে রাখা যাচ্ছে না বলে শোনা যাচ্ছে। নদীর মাঝখান থেকে লঞ্চে যাত্রীদের উঠার কারণে জীবনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এখানকার লঞ্চ যাত্রীদের।

ইতোমধ্যে এ ধরণের ঘটনায় এখানে একজনের প্রাণহানী হয়েছে। এখানে নদীতে চরে ড্রেজিং করা হবে বলে সেখানে বিশাল এলাকা নিয়ে চরের মাঝে বালু রাখার জন্য বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। আর ড্রেজিংয়ের যন্ত্রপাতিও অনেক দিন ধরে এখানে আনা হয়েছে। কিন্তু চলমান কাজ করার জন্য বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মিরকাদিম নদী বন্দরের বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মো: মাহবুবুর রহমান মুন্সীগঞ্জ নিউজ ডটকমকে জানান যে, এখানে বর্তমানে ড্রেজিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মিরকাদিমে নৌ পুলিশের জন্য বড় আকারে সরকারিভাবে একটি অফিস হচ্ছে।

এখানকার ড্রেজিংয়ের উত্তোলিত বালু সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। এ বিষয়ে উভয় অফিসের উর্ধ্বতন অফিসারদের মধ্যে ইতোমধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। এখানকার ড্রেজিং কতদিন স্থীয় হবে তা এ মূহুর্তে বলা সম্ভব না বলে তিনি জোর দাবি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here