মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সমগ্র এলাকা বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসছে

6মোহাম্মদ সেলিম :

অবশেষে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সমগ্র এলাকা বিশুদ্ধ পানির আওতায় আনা হচ্ছে খুব শীঘ্রই। সেই লক্ষ্যে জোরেসোরে এখানে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ কর্মকান্ড নিয়ে এখানে মহাযজ্ঞ চলছে। এ বিষয়টি ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার পানি বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এ বছরের শেষ দিকে ডিসেম্বর মাসের দিকে এখানে সেই বিষয়টি আলোর মুখ দেখতে পারে বলে জানা গেছে।

7এদিকে এ কাজে নতুন করে নকশায় আরো এক দফা পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এজন্য এখানে এ কাজে নতুন করে আরো ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সর্ব শেষ সূত্রে জানা গেছে। মুন্সীগঞ্জ ধলেশ্বরী নদী থেকে যে পানি উত্তোলন করার কথা ছিলো, সেই নকশায় এ কাজের জন্য এ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র মতে জানা গেছে।

8ধলেশ্বরী নদীর পানি বছরের ছয় মাস ভালো থাকলেও পরের ছয় মাস পানি থেকে র্দুগন্ধ ছড়ায়। এর কারণ হচ্ছে যে, শুস্ক মৌসুমে পানিতে র্দুগন্ধ ও কালো রংয়ের পানির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় এ জন্য এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

9এ জন্য এখান থেকে প্রথম নকশার কাজ পরিবর্তন করে দ্বিতীয় নকশায় পরিবর্তন এনে প্রধান ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর মোল্লাপাড়ার কবরস্থানের পূর্ব দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে মতে জানা গেছে। আর এ জন্য আগের বরাদ্দের সাথে নতুন করে আরো ৩ কোটি টাকা এ কাজে যোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়টি এখানে বাস্তবায়ন হলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বিশুদ্ধ পানি সংকট একে বারেই কেটে যাবে বলে শোনা যাচ্ছে।

10মোল্লাপাড়া থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র পল্টুনের মাধ্যমে সারফেইজ প্লানের পাইপের মাধ্যমে হাটলক্ষিগঞ্জের মুলধারা অফিসে প্রথমে পানি আনা হবে বলে জানা গেছে। সেখান বেসিনে জমানো পানি বিভিন্ন যন্ত্রের একাধিক ধাপের প্রক্রিয়ার সাহায্যে পানি শোধন করে মুন্সীগঞ্জ শহরস্থ জমিদারপাড়ার পানির ট্যাংকিতে পাঠানো হবে। হাটলক্ষিগঞ্জে এ কর্মকান্ডে ৩৫০ এম ধারণ ক্ষমতা সারফেইজ করার নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে মোল্লাপাড়া থেকে যে পাইপ লাইন হাটলক্ষিগঞ্জে আনা হচ্ছে, সেটি ফরাজীবাড়ির ঘাট দিয়ে এখানে আনা হবে বলে জানা গেছে।

11এক্ষেত্রে এ ফরাজী বাড়ির ঘাটে উঁচু করে স্টীলের পুল বসানো হবে বলে শোনা যাচ্ছে। নকশায় দ্বিতীয় দফায় পরিবর্তন আসায় এর কর্মকান্ড কাজ চলতি বছরের শেষের দিকে চলে গেছে। তা না হলে এ চলতি অর্থ বছরের এপ্রিল মাস থেকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভারবাসীরা বিশুদ্ধ পানির সুবিধা ভোগ করতে পারতেন বলে জানা গেছে। এদিকে এ বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে এক শ্রেণির দালাল গ্রুপ মোল্লাপাড়ায় পানির এ সুবিধা পাওয়ার আওয়াজ তুলে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন টাকা তোলার জন্য।

12মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসীর বসবাসের পানির চাহিদা অনুযায়ি চারভাগের একভাগ পানি পৌর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সরবরাহ করছে। আর তিনভাগ পৌরবাসী এর সুবিধা থেকে বর্তমানে বঞ্চিত রয়েছে। বৃহত্তর পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি বন্টনের আওয়াতায় আনতে পৌর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

13এ বিষয়ে চিঠি চালাচালি শেষে এ প্রকল্পের কাজ আলোর মুখের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বৃহত্তর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ শহরে পানির পাইপ বসানোর কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

14জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ধলেশ্বরী নদীর তীরে পৌরসভার বৃহত্তর জনবাসীকে বিশুদ্ধ পানির আওয়াতায় আনার লক্ষ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ সারফেইজ ওয়াটার প্লান ট্রিটমেন্ট নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ইতোপূর্বে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাকে সেখানে জমি দেয়ার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন মুন্সীগঞ্জ মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ৩৭৬ নং দাগের ৮৫ একর জমি অধিগ্রহণের জন্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ পাঠান। যার স্মারক নং হচ্ছে ৮৫৬। আর এর পত্রের ইস্যু তারিখ হচ্ছে ১৭/৮/২০১৬। এই জমিটি নাম মাত্র মূল্যে জেলা প্রশাসন পৌর কর্তৃপক্ষের অনুকূলে দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন।

15এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটির নাম হচ্ছে ৩৭ জেলা শহর পানি সরবরাহ প্রকল্প। দেশের ৩৭টি পৌরসভাকে এ প্রকল্পের আওয়াতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ পৌরসভায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার পানি বিভাগের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান,

16এ প্রকল্পের জন্য সময় বেধে দেয়া হয়েছে ছিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত। পরে দেরি হওয়ার কারণে এর মেয়াদ আরেক দফা বৃদ্ধি করে ২০১৭ সাল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সমগ্র এলাকায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় ২৫ লাখ গ্যালন পানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর বিপরিতে মাত্র সাড়ে ৮ লাখ গ্যালন পানি বিতরণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রমজানবেগ, খাসকান্দি, পারুলপাড়া, বৈখর এলাকা গুলোকে পানির আওয়াতায় আনা সম্ভব হবে।

পানি সরবরাহের মাস্টার প্লানের মধ্যে রয়েছে কাটাখালির মুন্সীগঞ্জ টিবি হাসপাতালে (নতুন), দেওভোগ বাজারে (পুন: সংযোগ), জমিদারপাড়া (পুন: সংযোগ), মুন্সীগঞ্জ পুলিশ লাইনের কাছে (নতুন) পানির পাম্প মেশিন বসানো হবে।

17এগুলো বাস্তবায়ন হলেই মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা সমগ্র এলাকা তবেই পানির আওয়াতায় আসবে। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় ৫টি এলাকায় পানির পাম্প সচল আছে। সেগুলো হচ্ছে জমিদারপাড়ায় ২টি। দেওভোগ ১টি। হাটলক্ষিগঞ্জ ১টি। খালইস্ট ১টি। কাচারীর বালুর মাঠে ১টি। এদিকে ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে বিপুল অর্থ বয়ে পানির পাম্প বসাতে গিয়ে সেখানে আর পানি উঠেনি। তবে কয়েকটি পাম্প স্টেশনে কিছুদিন পানি উঠলেও পরে আর কখনো পানি উঠেনি।

এখানে পৌর কর্তৃপক্ষ বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সেই অর্থ পানির জলে বেসে গেছে। এক্ষেত্রে অনেকের অভিযোগ সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এমনটি হয়েছে। অনেকের দাবি এই বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিপুল অর্থ ব্যয় করে সুপার মার্কেটের কাছে সাবেক শিবুর চায়ের দোকান সংলগ্ন পৌর কর্তৃপক্ষ একটি পাম্প স্টেশন বসায়। কিন্তু সেখানো কোনোদিনই পানি উঠেনি।

বরং এক সময় সেখানে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রয়াত খালেকুজ্জামান খোকার স্মৃতি পাঠাগার হয়। সেটিও এক সময় লাপাত্তা হয়ে যায়। এভাবেই মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নামে অর্থ অপচয় করে যেসব পাম্প স্টেশনে কখনো পানি উঠেনি সেগুলো হচ্ছে দেওভোগের অনির্বাণ ক্লাব সংলগ্ন, দেওভোগ বাজার, জমিদারপাড়ার পানির ট্যাংকি, খালইস্টের নিমুকাজির বাড়ি সংলগ্ন, মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালের ভেতরে।

এসব পাম্প স্টেশনে গভীর তলদেশ থেকে পানি টেনে তোলার বিষয়ে নিশ্চিত না হয়েই সেখানে বিপুল অর্থে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। পরে পানি না উঠার কারণে সেই অর্থের শ্রাদ্ধ ঘটেছে।

মুহাম্মদ ইউনুস এন্ড বাদ্রার্স প্রা:লি: এর সাইড প্রকৌশলী জাহিদ জানান, এ প্রকল্পের কার্যাদেশ হয়েছে ১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এখানকার সিংহভাগ কাজই শেষ। ছোটখাটো কাজ শুধুমাত্র বাকি আছে। সেই হিসেবে এ বছরের মার্চ কিংবা এপ্রিল মাসের দিকে হাটলক্ষিগঞ্জের সব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। মোল্লাপাড়াতে পরিবর্তনকৃত পরের দফার কাজের অর্ডার এখনো আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here