রাজশাহীতে জাহানারা জামানের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

FB_IMG_1612600030248-800x445মাসুদ রানা রাব্বানী :

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানের সহধর্মিণী এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের মাতা জাহানারা জামানের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কাদিরগঞ্জস্থ পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন পরিবারের সদস্যবৃন্দ। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কবরস্থান সংলগ্ন মাঠে মরহুমার আত্নার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পরম আরাধ্য ব্যক্তি মা। মা সন্তানের সুখের জন্য অনেক ত্যাগতীতিক্ষা করে থাকেন। আমার বাবা শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে সকল চড়ায় উৎরায়ে মা ছিলেন আজীবন সঙ্গী। রাজনৈতিক জীবনের সকল কর্মকাণ্ডে পরামর্শ প্রদান করেছেন।

মেয়র আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাবার মৃত্যুর পর অনেক কষ্টের জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে। বাবা শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান মন্ত্রী থাকার পরও তেমন কোন অর্থসম্পদ ছিলনা। বাবার দুটি ব্যাংকে মাত্র ৭ হাজার ২৫০ টাকা ছিল। আমার পিতার অবর্তমানে পিতার ভূমিকায় ছিলেন আমার মা জাহানারা জামান। আমার পিতার রেখে যাওয়া আদর্শে মা আমাদের বড় করেছেন। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু আমাদের জন্য রেখে গেছেন আদর্শ। সেই আদর্শ ধারণ করে আমি ও আমার পরিবার মানুষের পাশে আছি।

তিনি আরও বলেন, বাবার মৃত্যুর পর আমি যখন কোলকাতা থেকে বাংলাদেশে আসি তখন মনে হয়েছিলো মাথার উপর ছাদ নেই। সেই সময় আমার মা পরিবারের সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। যার জন্য তাঁকে অনেক উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে হয়েছে। বাবা সংসদ সদস্য থাকাকালিন যে সম্মানি পেতেন তিনি মাকে সেটা দিয়ে দিতেন। মা সেখান থেকেই কিছু টাকা প্রতিমাসেই সঞ্চয় করতেন।

মা পরিবারের খরচের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিতেন। আমি তখনও কোথাও টাকা পরিশোধ করে না আসলে মা আমাকে বকাবকি করতেন কিন্তু সেই ঋণ তিনিই পরিশোধ করে দিতেন। তিনি এত বড় নেতার সহধর্মিণী হয়েও রাজনীতি থেকে কোন সুবিধা নিতে চান নি। আমার শিক্ষাজীবন থেকে প্রতিষ্ঠালাভ অবধি প্রেরণার মূল উৎস আমার মা। তাঁর এই ঋণ আমি কখনও পরিশোধ করতে পারবো না। আমি তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধরণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

রাজনীতি করার সময় তিনি যখন পরিবারকে তেমন দেখাশোনা করতে পারতেন না। তখন তাঁর সহধর্মিণী জাহানারা জামান তাঁর ছেলে-মেয়েকে অতি যত্ন সহকারে লালন পালন করেছেন। আমাদেরকে বাবার অনুপস্থিতি অনুভব করতে দেন নি। তাঁর সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রথমে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে মরহুমার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগ।

এসময় মরহুমার পুত্রবধূ রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জাহানারা জামানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মরহুমার দৌহিত্র আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিয়ষক উপ-কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা এবং অর্ণার স্বামী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক মো. রেজভী আহমেদ ভূঁইয়া।

মরহুমা জাহানারা জামানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দ, মহানগর যুবলীগ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহানগর কৃষক লীগ, মহানগর তাতীঁ লীগ, মহানগর মহিলা যুবলীগ, মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগ, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, মহানগর ছাত্রলীগ, রাবি ছাত্রলীগ, রুয়েট ছাত্রলীগসহ অন্য নেতাকর্মীরা। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন রাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাওলানা মুহাঃ বারকুল্লাহ বিন দুরুল হুদা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, মাহ্ফুজুল আলম লোটন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, রেজাউল ইসলাম বাবুল, ডাঃ তবিবুর রহমান শেখ, নাঈমুল হুদা রানা,

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আসাদুজ্জামান আজাদ, আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার, মীর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন, কৃষি সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, প্রচার সম্পাদক দীলিপ কুমার ঘোষ, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here