গঞ্জকুমারিয়া-তেলক্ষীরার মানুষেরা আলীরটেক ইউনিয়নের ভোটার

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মিরকাদিম পৌরসভার নির্বাচন

9

মোহাম্মদ সেলিম:
আলোচিত গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরার ভোটার বিষয়ে বির্তকের অবসান হওয়া খুবই জরুরী। তা নাহলে এ বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষ এর থেকে বিশেষ সুবিধা নেয়ার চেষ্ঠা করবে সব সময়ে। এদিকে গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরা মানুষেরা মুলত নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের ভোটার। যারা সুবিধা নেয়ার লক্ষ্যে ভোটার নিয়ে মিথ্যা দাবি নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়ে আদালতের মূল্যবান সময় ও সরকারকারের কর্মকান্ডের আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে তাদের বিচার হওয়া দরকার আগে।

3 (1)যেমন চলমান নির্বাচন নিয়ে জেলা নির্বাচন অফিস এক্ষেত্রে অনেকগুলো কাজা এগিয়ে আনেন। আর তাতে বাঁধা পড়লে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায় বলে অনেকেই মনে করছেন। এক্ষেত্রে তাদের মদদ দাতাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে অনেকই মনে করছেন। আলোচিত দুটি গ্রামের ব্যক্তিরা ভোটার থেকে বাদ পড়েছেন বলে যে ব্যক্তিরা দাবি করছেন, তবে ইতোপূর্বে এখানে একাধিক নির্বাচন কিভাবে সম্ভব হলো?

8তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তখন ঐ ব্যক্তিরা কোথায় ছিলেন? এছাড়া ইতোপূর্বে নির্বাচন বন্ধের দাবিতে যারা উচ্চ আদালতে গিয়েছেন তারা কেউই ঐ দুটি গ্রামের ভোটার ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া নির্বাচন অফিসে গিয়ে ইতোপূর্বে কেউ বলেনি যে ঐ দুটি গ্রামের বিপুল পরিমাণ ভোটাররা এখনো ভোটার হতে পারেনি। তবে কেন এভাবে একটি বিশেষ মহল মাঝ পথে চলমান নির্বাচন নিয়ে সরকার বিরোধী এ ধরণের খেলায় মেতে উঠে। এমন প্রশ্ন মিরকাদিম পৌরসভার ভোটারের মাঝে কথা ঘুরপাক খাচ্ছে।

মিরকাদিম পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে এক সময়ে যেসব প্রার্থীরা মনে করছেন এ নির্বাচনে তার জয়ের সম্ভাবনা নেই তখন তারা দাবি করছেন গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরার জনগণরা এ নির্বাচনে ভোটার হতে পারেননি এ মর্মে অভিযোগ নিয়ে তারা উচ্চ আদালতে আর্জি নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তবে তারা আগে কেন এ বিষয় নিয়ে যান না নির্বাচন অফিসে। আর এ ইস্যুর ভিত্তিতে চলমান প্রক্রিয়ায় নির্বাচন বন্ধ হচ্ছে যাচ্ছে বারবার।

একাধিকবার এখানকার নির্বাচন নিয়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মিরকাদিম পৌরসভার চলমান নির্বাচনের মধ্যে উচ্চ আদালত নির্বাচনের উপর নিষেজ্ঞা জারি করেন তিন মাসের জন্য। তবে আশার আলো এই যে, বৃহস্পতিবার এ নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এখন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মিরকাদিম পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এরা কারা যে নির্বাচন বন্ধের পক্ষে প্রতিবার কাজ করছে। তাদেরকে আগে চিহ্নিত করতে হবে। তাদেরকে আগে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেছেন মিরকাদিম পৌরসভার অনেক ভোটাররা।

বিগত ও আজকের দিনে গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরা গ্রামের কোন ভোটার দাবি করেননি যে, তারা চলমান নির্বাচনের ভোট থেকে বাদ পড়েছেন। মিরকাদিম পৌরসভার পূর্বপাড়ার কিংবা পশ্চিমপাড়ার কোন কোন ব্যক্তিরা দাবি করছেন ঐ এলাকার ভোটাররা নির্বাচন থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি করে উচ্চ আদালতে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে তাদের স্বার্থ কি? কারা ইন্ধন দিচ্ছে এ বিষয়ে।

তাতে তাদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নেয়া হউক বলে অনেকেই দাবি করছেন। ভৌগলিকভাবে মিরকাদিম পৌরসভার উত্তরের ইছামতি নদীর ওপারে হচ্ছে গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরা গ্রামের অবস্থান।

এ গ্রামের মানুষ কোনভাবে মিরকাদিম পৌরসভার ভোটার না। তারা হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ভোটার। আলীরটেক ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড হচ্ছে এই গঞ্জকুমারিয়া, তেলক্ষীরা ও দক্ষিণ কুড়েরপার নিয়ে। গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরাতে ১২শ’ থেকে ১৪শ’ ভোটার রয়েছে। দক্ষিণ কুড়েরপাড়ে ভোট রয়েছে প্রায় দেড়শতোর মতো। আলোচিত গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরা গ্রামের এমন কোন ব্যক্তি নেই যারা ভোটার হয়নি। সবাই ভোটার হয়েছে। আর সেই ভোটাররা আলীরটেক ইউনিয়নে ভোট দিচ্ছে।

আলীরটেক ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সোবহান জানান, গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরা গ্রামের ভোটাররা এই ইউনিয়নের ভোটার। এ গ্রামের গঞ্জকুমারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখানকার ভোটাররা বছরের পর ধরে ভোট প্রদান করে আসছে। তারা কেউই মিরকাদিম পৌরসভার ভোটার না। তবে তিনি জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে এই দুটি মৌজার ভূমির বসতভিটা মিরকাদিম পৌরসভায় অর্šÍভূক্ত রয়েছে।

সেই হিসেবে জমি সংক্রান্ত খাজনাপাতি দিতে কিংবা নবায়ন করতে হলে তাদেরকে মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবীবাজার ভূমি অফিসে যেতে হয়। এছাড়া জমি সংক্রান্ত মামলার জন্য তাদেরকে মুন্সীগঞ্জ ভূমি অফিস ও মুন্সীগঞ্জ আদালতে যেতে হয়। এখানে নাম প্রকাশ না করা সত্বে অনেকেই বলেছেন যে, যদি কখনো আইনের মাধ্যমে আলোচিত গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরা গ্রাম দুটির আলীরটেক এর ভোটারদের মিরকাদিম ভোটার হিসেবে

অন্তভুক্ত করা হয় তবে তাদের কোন আপত্তি থাকবে না। তবে এক্ষেত্রে তারা নতুন করে শর্ত বেধে দিয়েছেন যে, এ গ্রামে একটি স্বতন্ত্র ওয়ার্ড ঘোষণা করা হলেই তবে তারা মিরকাদিম পৌরসভার ভোটার হতে আগ্রাহী। তা না হলে তারা কখনো মিরকাদিম পৌরসভার ভোটার হয়ে ফিরে যেতে চান না।

তারা দাবি করেন এ বিষয়ে আগে জেলা প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানকার অনেক ভোটার বলেছেন যে, যোগায়োগ ব্যবস্থা উন্নতির কারণে এ জনপদের মানুষেরা সকল ধরণের বাজার হাট ও ব্যবসা বাণিজ্য করে থাকেন মিরকাদিম ও মুন্সীগঞ্জে। একটি সূত্র মতে জানা গেছে যে, এ দুটি গ্রামের অনেকেই আবার বেতকা

ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের ভোটার হিসেবে সকল ধরণের সুবিধা ভোগ করছেন। আব্দুস সোবহান জানান যে, এই দুটি গ্রামের মানুষের জমি সংক্রান্ত কাগজ পত্রে মুন্সীগঞ্জ লেখা থাকার কারণে এবার এখানে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয় প্রকল্পের কোন ঘর পায়নি। এ বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গঞ্জকুমারিয়া ও তেলক্ষীরায় ঘুরে কোথায়ও মিরকাদিম লেখা এ রকম অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং এখানকার বাজারে শাহ পরান মার্কেট রয়েছে। সেখানে গঞ্জকুমারিয়া, আলীরটেক, নারায়ণগঞ্জ লেখা রয়েছে। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেখানেও অনুরূপ লেখা দেখতে পাওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here