মুন্সীগঞ্জের নমকান্দিতে সরকারি কড়ই গাছ কেটে নিয়েছে দুবৃত্তরা

7মোহাম্মদ সেলিম:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার শেষ প্রান্তের দক্ষিণ সীমান্তের নমকান্দি গ্রামের সরকারি হালটের পাশে দীর্ঘ বছরের পুরাতন কড়ই গাছ দিন দুপুরে কেটে নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা। কেটে ফেলা গাছের গুড়ি বালি মাটি দিয়ে ডেকে ফেলেছে সেই দুবৃত্তরা। যাতে প্রমাণ করতে না পারে এখানে কোন দিন কোন গাছ ছিল। কেটে ফেলা গাছের বাজার মূল্য হচ্ছে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো বলে দাবি করছে গ্রামবাসীরা।

এদিকে কেটে ফেলা গাছের বেশির ভাগ অংশই ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে মুল জায়গা থেকে। বাকি অংশ গুলো শুধুমাত্র এখন সরকারি হালটের অবৈধভাবে বালু ভরাটের স্থানে পরে রয়েছে। তবে দুই একদিনের মধ্যে এগুলোও সরিয়ে ফেলা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। সরকারি হালটে বিশাল ভবন তৈরি করার লক্ষ্যে সরকারি গাছ এখান থেকে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এখানে এর আগে একটি বড়সরো বাঁশ ঝাড় ছিলো। সেটিও টাকার বিনিময়ে সরকারি হালট দখলদারা বিক্রি করে দিয়েছেন বলে আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি হালটে পাঁচতলা ভবন তৈরি করার লক্ষ্যে চট জলদি এ কড়ই গাছ কর্তন করা হয়েছে। নমকান্দির এ হালটটি বছরের পর বছর দখল প্রক্রিয়া চলার কারণে এ হালটের খালের চিহ্ন এখন আর চোখে পড়ছে না।

ভূমি দস্যুরা সম্পূর্ণ খালটি এখন দখলে নিজেদের কবজায় নিয়ে নিয়েছে। এ খালের ওপর বিপুল অর্থ ব্যয়ে যে কালভার্ট তৈরি করা হয়ে ছিলো ভূমি দস্যুদের খাল ভরাটের কারণে এখন সেই আয়োজন কোনভাবেই কাজে লাগছে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে সরকারি অর্থ এখন জলে গেছে।

নমকান্দির মোফাজ্জল দিদার ৪ শতাংশ পতিত জমি চরকেওয়ারের বিএনপি নেতা শাহজাহান দেওয়ানের কাছে বিক্রি করেন। বিক্রি জমির দেওভোগ মৌজার সি.এস.নং হচ্ছে ১৪৭৫, এস.এ.নং হচ্ছে ১৪৭৫ ও আর.এস নং হচ্ছে ২৩২৭। বিক্রিকৃত জমির পাশেই ছিল সরকারি হালটের খালের জমি। শাহজাহান উদ্যেশ্য প্রনিতভাবে সেই জমি মাটি ভরাটের সময় খালের জমিও ভরাট করে নেন।

মাটি ভরাটের সময়েও এখানকার আরো দুটি সরকারি জায়গার কড়ই গাছ বিক্রি করে দেন বিএনপি নেতা শাহজাহান দেওয়ান। এমনই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শাহজাহান দেওয়ান জানান, এখানে মাটি ভরাট করতে যেয়ে তার প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচা হয়ে গেছে।

6এখানে মাটি ভরাটের সময় সরকারি খালটিও তিনি কৌশলে মাটি ভরাট করে নেন নিজের দখলে রাখার জন্য। এখন সরকারি জায়গায় দোকান ঘর উঠানোর জন্য সিমেন্টের খাম বসানো হয়েছে। তবে খাম যাতে দূর থেকে না দেখা যায়, তা আবার টিনের বেড়া দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক সময়ে কালিদাস সাগর নামের শাখা নদীর পশ্চিম তীর দিয়ে প্রবাহিত হতো এই নমকান্দি গ্রামের খালটি। এ খালের দাগ নম্বর হচ্ছে ২৩৩৮। এটি সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত একটি জায়গা। এর পাশে ২৩২৬ নম্বর দাগের হালটও সরকারি সম্পত্তি। এ দাগের সম্পূর্ণ অংশ গুলো মাটি ভরাট করে দখলে আছেন বিএনপি নেতা শাহজাহান।

মুন্সীরহাট কাটাখালি সড়কের নমকান্দি গ্রামের প্রবেশ মুখে সরকারি খালের পানি প্রবাহের জন্য নির্মিত কালভার্ট থাকলেও বর্তমানে বিশাল খালের কোন চিহ্নি এখন কোথাও আর নেই। খাল দখলের মাত্রা এতো বেড়েছে যে খালের সবটুকু অংশই এখন দখলদারদের দখলে চলে গেছে। এদিকে খাল দখলের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এর পশ্চিম দিকের ফসলি জমির অংশ গুলো এখন মাটি ভরাট করে বসতি গড়ে উঠছে এসব কারণে।

চরকেওয়ারের টরকি গ্রামের আবুল হাশেমের প্রবাসী ছেলেরা ক্রয়কৃত সম্পত্তি ভরাটের সময় সরকারি খাল ও হালটে মাটি ভরাট করে সেখানে তৃতীয় তলা ভবন তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। এখানে একাধিক ব্যক্তি সরকারি খাল ও হালট দখল করে বসবাস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখানে খাল ভরাট করার কারণে এর পশ্চিম পাশের আবাদি জমিতে এখন কৃষকরা পানি দিতে পারছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here