বায়ান্নতে ভবেরচর ওয়াজীর আলী হাই স্কুলের ছাত্ররা উত্তাল ছিল ভাষা আন্দোলনে

download

বর্তমানে সড়ক পথে রাজধানী ঢাকা থেকে গজারিয়া উপজেলার দূরত্ব হচ্ছে ৩৬ কি.মি। তবে বায়ান্ন সালে এখানকার মানুষ নৌকা ও অন্যান্য যানবাহনে এবং অন্য সড়ক পথে ঢাকায় যাতায়াত করতো। এর ফলে সময় ও অর্থ ব্যয় হতো অনেক বেশি। তাতে ঢাকার সাথে সেই সময়ে গজারিয়ার দূরত্ব ছিল বিশাল। সেই সময়ে সড়ক পথে কয়েক ভাঙ্গা দিয়েই তবেই গজারিয়ার মানুষ ঢাকায় পৌঁছতো।

এখনকার মতো এতো সুযোগ ও সুবিধা সেই সময়ে ছিল না। অনেক কষ্ঠ করে সেই সময়ে এখানকার মানুষেরা ঢাকায় যাতায়াত করতো। এতো অসুবিধার মধ্যে দিয়েও গজারিয়ায় ভাষা আন্দোলনে এখানকার শিক্ষার্থীরা উত্তাল হয়ে উঠে ছিল। যা ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁরা। বায়ান্ন সালে এখানকার সাধারণ মানুষের সংবাদপত্রের ভাবনা ছিল আকাশ কুসুম। তাই দ্বীপ সদৃশ্য এই এলাকায় দেশের কিংবা ঢাকার কোন খবরই এসে পৌঁছাতোনা সেই সময়ে।

তবে গজারিয়াবাসী ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনা জানতে পারে পরের দিন সকাল বেলা। তাও আবার চর বাউশিয়া গ্রামের মমতাজ উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে তৎকালীন সময়ের ঢাকা মেডিকেল কলেজ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র হেলাল উদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে। যতদুর জানা গেছে, ষ্টিমারে করে ২২ ফেব্রুয়ারি ওয়াজীর হাই স্কুল চত্বরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকা নিয়ে সেই দিন হাজির হন হেলাল উদ্দিন।

এদিকে আজাদ পত্রিকার খবর দেখে ছাত্ররা ক্ষীপ্ত, উত্তোজিত ও আবেগ প্রবণ হয়ে উঠে সেই দিন। বিক্ষোভে ফেটে পরে সেই দিন এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

তাৎক্ষনিকভাবে ক্লাস বন্ধ করে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের জামতলায় অবস্থান নেয়। ছাত্রদের সাথে মিটিংয়ে বসেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম মিয়া। সেই মিটিংয়ে মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজর বি.এ’র শেষ বর্ষের ছাত্র মুয়ায্যম হুমায়ুন খানকে আহবায়ক ও এস.এস.সি পরীক্ষার্থী সালাউদ্দিন খান বকুলকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।

সিদ্ধান্ত হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়াজীর হাই স্কুলের ৩০জন ছাত্র ঐতিহাসিক জামতলা থেকে হাড়িখালি হয়ে রসুলপুর নদী পার হয়ে বাঁশগাঁও হালট ধরে মেঘনা নদীর তীরের কাছে গজারিয়া ফাঁড়ি ঘেরাও করবে। এমনকি, হয়েছেও তাই, ফাঁড়ির সামনে গিয়ে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, নুরুল আমিনের কল্লা চাই, বিভিন্ন শিরোনামে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলে সেই সময়ের শিক্ষার্থীরা। সেই সময় মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন ভিটিকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, গুয়াগাছিয়ার আবদুল লতিফ ফারুকী, পুরান বাউশিয়ার রেজা জাহাঙ্গীর, এ.এফ. এম আরশাদ আলী, আবদুল কাদির ভাষানী, আব্দুর রশিদ বেপারি, ইমামপুরের আবদুল গফুর খান, রসুলপুরের সালেহ আহমেদ চৌধুরী রেনু মিয়া,

কালীপুরার সানাউল্লাহ চৌধুরী, আরসুরুদ্দিন, জষ্টিতলার আউয়াল খান, বাঘায়কান্দির আবদুল লতিফ, ষোলআনীর হাফিজ উল্লাহ, কামাল উদ্দিন, লক্ষীপুরের আব্দুর রব সরকার, আসলাম মিয়া, মো: হানিফ প্রধান, বোরহান উদ্দিন ফরাজি। তৎকালীন সময়ে হানিফ প্রধান ষষ্ঠ ও বোরহান ফরাজি ছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।। সেদিন রাতেই ইমামপুর গ্রাম থেকে সালাউদ্দিন খান বকুলকে গ্রেফতার কওে পুলিশ।

কিন্তু তৎকালীন সময়ে বুকুল খানের বাবা হাফেজ উদ্দিন খান ছিলেন ইমামপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। ইচ্ছে করলেই বকুল খানকে গ্রেফতার করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশ তার বাবার জিম্মায় রেখে যায় বকুল খানকে। তবে শর্ত জুড়ে দেয়া হয় ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রদ্রোহের কাজে না জড়ায়।

তথ্য সুত্রে:মোহাম্মদ আতাউর রহমান, পিতা:মৃত-মো:সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাম: ভিটিকান্দি, পো: ভবেরচর, উপজেলা:গজারিয়া ও জেলা মুন্সীগঞ্জ।
অনুলিখন মোহাম্মদ সেলিম, সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ নিউজ ডটকম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here