মিরকাদিমে ফিরোজ হত্যাকান্ডে একজন গ্রেফতার

logo png-full-sizeনিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভায় সহিংস ঘটনায় নিহত আ’লীগ কর্মী ফিরোজের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মিরকাদিম। সেখানে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনী সহিংস ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

তবে এর সাথে রাঘব বোয়ালরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ফিরোজের হত্যাকারীরা একজন বিশেষ ব্যাক্তির বাড়িতে বর্তমানে অবস্থান করছেন বলে একাধিক সূত্র অভিমত প্রকাশ করেছেন।

সেখানে হানা দিলে পুলিশ এ হত্যাকান্ডের অনেক আলামত উদ্ধারসহ অনেকেই গ্রেফতার করতে পারবে বলে অনেকেই মনে করছেন। ফিরোজের হত্যাকান্ডটি এখানে পরিকল্পিতভাবে ঘটনো হয়েছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার থেকে সাধারণ জনতা এখানে এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পরেন। দফায় দফায় তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এরপর তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সেই সমাবেশে তারা আজ রবিবার অর্ধ দিবস দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

সেই প্রেক্ষিতে মিরকাদিমে ঘোষাণা অনুযায়ি দোকানপাট আজ রবিবার বন্ধ রয়েছে। গতকাল শনিবার বিক্ষোভ মিছিলের সময় দোকানপাট ভাঙ্গচুরের শিকার হয় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এঘটনার পর থেকে পুরো পৌর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে বিকালে আ’লীগ কর্মি ফিরোজের মরদেহ নিয়ে তার হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাধারণ জনতা। মিছিলটি পৌরসভার মিরাপাড়া থেকে বের হয়ে রামগোপালপুর হয়ে বটতলা দিয়ে ঈদ গা মাঠে এসে শেষ হয়।

মিরকাদিমে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেখানে কয়েক বছর ধরেই সদ্য বিদায় নেয়া পৌর মেয়র মো. শহিদুল ইসলাম শাহীন ও জেলা আ’লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পাদ বিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহম্মেদ কালামের সমর্থকদের মধ্যে বিগত সময়ের মধ্যে দফা দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেই সংঘর্ষে কোন প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে নির্বাচনী বিরোধের জের হিসেবে শহিদুল ইসলাম শাহীন এর সমর্থকরা গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে মিরাকাদিম পৌরসভার মিরাপাড়া রামনগর এলাকায় ফিরোজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে ঢাকা

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে গত শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে ফিরোজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত ফিরোজ মিরকাদিমের মিরাপাড়া এলাকার প্রয়াত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে।

হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আল আমিন

নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পৌরসভায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here