ক্যান্সারে আক্রান্ত একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বিপাকে মা, বাবা

1620212955223মো. নাজির হোসেন
একমাত্র সন্তানকে লিখাপড়া শিখিয়ে বড় মানুষ করার স্বপ্ন ছিলো রাজিয়া সুলতানা শ্রাবনীর (২১) বাবা, মায়ের। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে শুধুমাত্র মেয়েকে লিখাপড়া শিখানোর জন্য গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমান মুন্সীগঞ্জ শহরে। শহরের সুনামধন্য মুন্সীগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজে ভর্তি করেন শ্রাবনীকে। শ্রাবণী ওই কলেজের ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্রী৷ কর্মাস নিয়ে লিখাপড়া শিখতে থাকা শ্রাবণীর ইচ্ছা ছিলো বড় হয়ে ব্যাংকার হওয়া।
কিন্তু হঠাৎ মেয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবরে স্বপ্ন বাস্তবায়নতো দূরের কথা এখোন চিকিৎসার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রাবণীর বাবা, মাকে। এ পর্যন্ত ৫/৬ লক্ষ টাকা খরচ করে সব খুইয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন শ্রাবনীর বাবা মা। শহর হতে আবারো গ্রামে ফিরে যাবার সিন্ধান্ত নিয়েছে শ্রাবনীর পরিবার।
যে মেয়েকে শিক্ষিত করার জন্য শহরে আসা সেই মেয়েই যেহেতু জীবন মরনের সন্ধিক্ষণে সেখানে কোন আশায় শহরে থাকবেন তারা। তাছাড়া শহরে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। মেয়ের চিকিৎসার ব্যায় ভার প্রতিমাসে ৪০/ ৪৫ হাজার টাকা। ক্ষুদ্র ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী শ্রাবণীর বাবার এখোন চোখে শুধুই অন্ধকার।
শ্রাবনীর বাবা হানিফ মোল্লা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের ইউনুস আলি মোল্লার ছেলে। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন তিনি।
মালয়েশিয়া থাকা অবস্থায় তার পরিবার গজারিয়া গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করতো। এসএসসি পাশ করার পরে শ্রাবনীর লিখাপড়ার কথা ভেবে চলে আসেন শহরে। শ্রাবণীর পরিবার এখোন মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর এলাকার কালিপাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
শ্রাবনী বর্তমানে ঢাকাস্থ ধানমন্ডির আহমেদ মেডিকেল সেন্টারের ডা: প্রফেসর জাফর মো. মাসুদ এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা: তাকে কেমো দিচ্ছেন। ৮ টি ক্যামো দেওয়ার পরে পরিস্থিতি উন্নতি হলে অপরেশন করবেন বলে জানিয়েছেন।
অপরেশনতো দূরের কথা কেমো কিনার টাকা দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রাবনীর পরিবারকে। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা চান তার পরিবার।
সরেজমিনে বুধবার (৫ মে) মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর (কালীপাড়া) এলাকার শ্রাবনীর বাসায় গেলে শ্রাবনীর বাবা হানিফ মোল্লা বলেন, শ্রাবনী ছোট বেলা থেকে খুব সুস্থ একটা মেয়ে ছিলো। ওর জীবনে বড় অসুখ বলতে একবার সুধু ডেংঙ্গু জ্বড় হয়েছিলো।
তাছাড়া অন্য সময় ওকে কখনো নাপা ট্যাবলেডও কিনে দিতে হয়নি আমার। কিন্তু গত অক্টোবর মাস হতে শ্রাবনী খুব অসুস্থ হয়ে পরলে আমরা ওর রোগ নির্নয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে থাকি। ৩ মাস বিভিন্ন পরিক্ষা করার পরে জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে জানতে পারি ওর টিউমার ক্যান্সার হয়েছে। ডাক্তার বলছে টিউমারটির জীবানু সমগ্র শরীরে ছড়িয়ে পরেছে। টিউমারের কারনে শরীর হারগুলো শুকিয়ে গেছে।
শ্রাবনী জানান, এখোন আমার সমস্ত শরীরে খুব ব্যাথা হয়। বুক ভার হয়ে থাকে। প্রায়ই সোয়া থেকে একা উঠতে পারিনা। বুকের মধ্যেও ব্যাথা করে। এখোন কাশিও হচ্ছে। সে আরো জানায় আমি বাচঁতে চাই। দ্রুত সুস্থ হতে চাই।
শ্রাবণীর মা পারভীন বেগম জানান, প্রাইভেট চিকিৎসা করানোর মতো আমাদের এখোন আর টাকা নেই। সরকারীভাবে আমি আমার মেয়ের চিকিৎসা করাতে চাই। কিন্তু কোথায় কিভাবে করাবো জানানেই আমার। আমি সকলের সহযোগীতা চাই।
সহযোগীতায় জন্য তিনি তার পূবালী ব্যাংকের গজারিয়া শাখার নাম- পারভীন একাউন্ট নং-১১১২১০১০৫৪৭৭১। নাম্বারে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র হীরা বলেন, রাজিয়া আমাদের কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অল্পো বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সকলে ও সমাজের বৃত্তবানরা এগিয়ে আশা দরকার। তার ও তার পরিবারে সকলকে পাশে থাকার আহবান জানাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here