উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি বিপণিকেন্দ্রে ‘ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই’ অবস্থা

IMG_20210511_113409মো.নাজির হোসেন

আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই খুলে দেয়া হয় মার্কেট। শর্ত ছিলো-মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কিন্তু মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধিতো মানা হচ্ছেই না; উপরন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এতো বেশি যে তিল ধারনের জায়গা পর্যন্ত নেই। এ অবস্থায় সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ককরোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকার গত মাসের ১৪ তারিখ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন ঘোষণা করে। এ সময়ে গণপরিবহনসহ মার্কেটগুলোও বন্ধ ছিলো। কিন্তু ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন বৃদ্ধি করলেও শর্তসাপেক্ষে মার্কেট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে বেচাবিক্রি করতে বলা হয়। তবে সরকারের সে নির্দেশনা সীমাবদ্ধ কাগজে কলমেই।

দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোতে যেন জনস্রোত বইছে। তীব্র ভিড় উপেক্ষা করে কেনাকাটা করছেন সবাই। অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া। কোলে করে আনছে সন্তান তার নেই সামাজিক সুরক্ষা বা মাস্ক!

মঙ্গলবার (১১ মে) মুন্সীগঞ্জর মসজিদ মার্কেট, আকতাফ উদ্দিন কমপ্লেক্স, জেলা পরিষদ মার্কেট, জি.এইচ. সিটি সেন্টার,খন্দকার ম্যানশন,সুপার মার্কেটের চিত্র যেন ‘ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই’ অবস্থা। শুধু মার্কেটই নয়, ফুটপাত,  মানুষের ভিড় ছিলো অস্বাভাবিক। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হতে দেখা গেছে অনেককে। এছাড়াও জেলার ৫ টি উপজেলার প্রধান মার্কেট গুলোর চিত্র একই।

মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শেষ সময়ে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুন। সুযোগ বুঝে বিক্রেতারাও কিছুটা বেশি দাম নিচ্ছেন। অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্ক পড়ার প্রয়োজনও বোধ করেননি।

বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতার চাপ সামলাতে গিয়ে শতভাগ স্বাস্থ্যববিধি মানা সম্ভন হচ্ছে না। ক্রেতারাও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘণের বিষয়টি স্বীকার করছেন।

শহরের আকতাফ উদ্দিন প্লাজার ব্যবসায়ী এস.এম. ফাহাদ রজত রেখাকে বলেন, ঈদের আগে শেষ মূহুর্তে ভিড় একটু বেশি। মাঝে মাঝে আমাদের নিজেদেরও ভয় লাগছে। আমরা চাই ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব মেনেই আসুক। তবে আমরা চেষ্টা করি সবাইকে সচেতন করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম চালাতে।

মো. আল-আমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, লকডাউন দেওয়ায় সব মার্কেট বন্ধ ছিল। তখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো কেনা হয়নি। এখন সুযোগ পেয়ে মার্কেটে আসছি।

আরেক ক্রেতা আশিকুর রহমান বলেন, লকডাউনের মধ্যে ঘরের বাইরে তেমন বের হইনি। যেহেতু এখন লকডাউন শিথিল করা হয়েছে, তাই একটু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মার্কেটে এসেছি।

রাসেল নামের এক ক্রেতা বলেন, যে পরিমাণ ভিড়, তাতে ইচ্ছা থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব না।

এদিকে, মূল মার্কেটের ব্যবসার পাশাপাশি ফুটপাতের ব্যবসাও জমে উঠেছে। ফুটপাতগুলোতেও ক্রেতার উপস্থিতি বেশি। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা একে অন্যের গায়ে ঘেঁষে কাপড় কেনাবেচা করছেন। মার্কেটের এই ভিড়ের কারণে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে ধারনা করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মুন্সীগঞ্জ (বিএমএ) সভাপতি- ডা: মো. আকতার হোসেন বাপ্পী বলেন, ঈদ মার্কেটিং এ স্বাস্থ্যবিধি চরমভাবে উপেক্ষিত। মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা, সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। সত্যিকার অর্থে ছোট ছোট দোকান ও এত লোকের সমাগম যে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব নয়। মার্কেট কমিটিকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জনগনকে সচেতন হতে হবে।

যারা মার্কেটে আসছেন তারা সংক্রমিত হলে বাড়ি যেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সংক্রমিত করার ঝুকি বৃদ্ধি পাবে। অনথ্যায় ঈদ পরবর্তী সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবার আশংকা। ভারতীয় ধরন দেশে সনাক্ত হয়েছে। এই ধরনের একজন ৪০০ জনের বেশিকে সংক্রমিত করতে পারে। সুতরাং আমাদের সচেতন হওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মানা জরুরি। বেঁচে থাকলে ঈদ অনেক পাওয়া যাবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here