সৌদিফেরত যাত্রী মুন্সীগঞ্জের রবিন সোনাসহ ঢাকায় গ্রেফতার (ভিডিওসহ)

img-c9e4dff280a02cde3d00d4fe8994d6a9-v-278270মোহাম্মদ সেলিম:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টম হাউস সৌদি ফেরত যাত্রী মুন্সীগঞ্জের রবিন মাতবর এর ব্যাগ স্ক্যানিংয়ে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার ১১ মে বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটে এ সোনা উদ্ধার করা হয়েছে বলে কাস্টম হাউস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটে সৌদি আরব থেকে আগত ফ্লাইটে (এস ভি ৩৫৮০) আসা যাত্রী রবিন মাতবর গ্রীন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তার সাথে থাকা ব্যাগে কোনো সোনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রবিনের ব্যাগ স্ক্যানিং করলে সোনার অস্তিত্ব পায়। পরে কাউন্টারে ওই ব্যাগ এনে ব্যাগের লক খুলে প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পাসপোর্ট অনুসারে যাত্রীর নাম রবিন মাতবর এবং তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে। আটককৃত সোনার বিষয়ে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাত্রীকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানা পুলিশ ব্যাপক তদন্তে নেমেছেন। সেখান থেকে পুলিশ রবিনের বাড়িসহ একাধিক স্থান বৃহস্পতিবার ঘুরে গেছেন। মুন্সীগঞ্জের অনেকেই এখন পুলিশের নজরধারীতে রয়েছেন।
জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের কেবিবাগের নাসির ২০১৭ সালের দিকে সৌদি আরবে যায়।

প্রথম বছরে আকামা নবায়ন করলেও পরে সে সেখানে অবৈধভাবে বসবাস শুরু করেন। সাধারণত সৌদি আরবে অবৈধ বসবাসকারীরা ধরা পড়লে কিংবা স্বেচ্ছায় ধরা দিলে জেল না গেটে দেশে ফিরতে পারেন না। কিন্তু অভিনব কৌশলে নাসির সাধারণভাবেই গত ৩ মে দেশে ফিরে আসেন।

নাসির জানান, ফেনির কালামের মাধ্যমে সে কোন রকমের ঝুট ঝামেলা ছাড়াই দেশে ফিরতে পেরেছেন। তার ফিরে আসার একদিন পর ৪ মে সৌদি থেকে রবিন কিভাবে বা কার মাধ্যমে সে দেশে ফিরেছেন তা জানতে চান।

পরে রবিনও সেই ফেনির কালামের মাধ্যমে এ ঘটনার দিন দেশে ফিরেন। আর সোনাসহ গ্রেফতার হন। গ্রেফতারকৃত রবিনের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটদের খুঁজে ফিরছেন। সৌদিতে কালাম থাকেন জেদ্দায়। এ ঘটনার পর থেকে কালামের মোবাইল বন্ধ রয়েছে।

নাসির আরো জানান, ঘটনার দিন রবিনকে আনতে নাসির এয়ারপোর্টে গিয়ে ছিলেন। ফেনির কালামের এক আত্নীয় ফাহিম তাকে এয়ারপোর্টে আসতে বলে। আর সেই কারণে সে এয়ারপোর্ট যান। কিন্তু এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে পরে ফাহিমের মাধ্যমে সে জানতে পারে রবিন গ্রেফতার হয়েছে। এরপর নাসির বাড়ি ফিরে আসে।

185269374_506928766996714_5758444108652479248_nএখানে একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ফাহিম কিভাবে যানতে পারলো যে রবিন গ্রেফতার হয়েছে। ফাহিমকে গ্রেফতার করতে পারলেই এ ঘটনার আসল রহস্য পুলিশ খুঁজে পাবে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। এদিকে রবিনের বাড়ির কেউ এয়ারপোর্টে গেল না তাকে এগিয়ে আনতে। অথচ নাসির কেন যেতে চাইলো এয়ারপোর্টে।

এ বিষয়টি রহস্যের দানা বেধে উঠেছে। নাসির রবিনের মাকে বলে ছিল যে সে রবিনকে আনতে এয়ারপোর্টে যাচ্ছে। অথচ রবিন গ্রেফতার হলেও, সে বিষয়টি নাসির জানা সত্বেও রবিনের মাকে জানায়নি। এ বিষয়টিও সবার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। অথচ রবিনের মা ছেলে বাড়ি ফিরবে সে অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

রবিনের মা বলেন, তার ছেলে রবিন রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দর থানা থেকে থানার মাধ্যমে যোগাযোগ করে। সেই সময় তারা জানতে পারেন রবিন গ্রেফতার হয়েছেন।

রবিনের মা আরো বলেন, রবিনকে সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটরা ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। ঘটনার দিন রবিন এয়ারপোর্টে নেমে তার কাছে বাংলাদেশের সিমের মাধ্যমে ফাহিমের সাথে যোগাযোগ করেন। সেই সময় ফাহিম এয়ারপোর্টে অবস্থান করছিলেন। পূর্ব থেকে তথ্য দেয়া মতে ফাহিম রবিনকে চিনতে পেরে ছিলেন। গ্রেফতারকৃত রবিন পুলিশের ঘেরাটোপে ফাহিমকে দেয়া ব্যাগ ছাড়াই কথা বলতে থাকে।

কিন্তু ফাহিম রবিনের কাছে জানতে চান যে, তার কাছে যে বিশেষ ব্যাগ দেয়া হয়েছে সেটি কোথায়? এ বিষয়ে সঠিক উত্তর রবিন দিতে না পারায় চতুর ফাহিম রবিনের গ্রেফতারের বিষয়টি বুঝে ফেলে। আর সে সেখান থেকে চম্পট দেয়। এরপর থেকে ফাহিমের মোবাইলটি বন্ধ রয়েছে।

রবিনের দেয়া তথ্য মতে আরো দুইজনের নাম এ তদন্তে চলে এসেছে। তারা হচ্ছেন পঞ্চসার ইউনিয়নের জুমন ও জামান। তারা দুই ভাই সৌদিতে থাকেন।

এ প্রতিবেদকের সাথে সৌদিতে জুমনের সাথে কথা হয়। জুমন জানান, সৌদিতে সে দর্জির কাজ করেন। সেখানে তার কারখানা রয়েছে।

184389190_240208991188551_433531546985397114_nরবিনকে সে চেনেন না। তবে রবিনের বাড়ির কাছে রিদয় নামের ব্যক্তিকে সে চিনে। সৌদির ২৬শে রোজার দিন রিদয়ের মাধ্যমে রবিন ও কালাম তার কারখানায় আসে। সেখানে তারা সামান ঠিকঠাক করেন। তবে জুমন সে সময় কারখানায় ছিলেন না। আর এ সোনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here