মুন্সীগঞ্জে বল্লাল বাড়িতে বল্লাল সেনের রাজ প্রাসাদের অস্তিত্ব নেই (ভিডিওসহ)

mnews-groupমোহাম্মদ সেলিম:

রাজা বল্লাল সেন দ্বাদশ শতকে বঙ্গের প্রভাবশালী রাজা ছিলেন। রামপাল থেকে গৌড় পর্যন্ত তাঁর রাজত্বের বিস্তৃত ছিল। সেই সময়ে রামপালের বল্লাল বাড়িতে ছিল তাঁর রাজধানী। বল্লাল বাড়ির চারিদিকের পরিখাই প্রমাণ করে এখানেই তার রাজ প্রাসাদ ছিল।

তবে বর্তমানে রাজ প্রাসাদের কোন চিহ্ন বল্লাল বাড়িতে নেই। শুধুমাত্র বল্লাল বাড়ি’র নামটিই বর্তমানে ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করছে।

এক সময়ে বল্লাল বাড়ি পরিখা বেষ্টিত থাকলেও বর্তমানে অনেক পরিখা দখল কিংবা মাটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাতে ইতিহাসের পাতা থেকে রাজা বল্লাল সেনের সেই সময়ের স্মৃতি চিহ্ন খুব দ্রুত মুছে যাচ্ছে। বল্লাল বাড়িতে যে কোন জায়গায় মাটি খুঁড়লেই পাওয়া যায় শুধু পুরনো আমলের ইটের গুড়া।

এতে অনুমান করা যায় যে, রাজা বল্লাল সেনের মৃত্যুর পর এখানকার রাজ প্রাসাদটি উগ্র বিক্ষুব্দ মানুষেরা ভেঙ্গে ফেলেছে। তবে প্রাসাদের নিচের অংশ মাটি খুঁড়াখুঁড়ি করলে এর প্রমান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইতিহাসবিদরা মনে করে।

এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে রাজ প্রাসাদের স্মৃতি চিহ্ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইতিহাসবিদরা আরো মনে করেন।

যোগেন্দ্র নাথ গুপ্তের বিক্রমপুরের ইতিহাস বইয়ের সূত্রে জানা যায় যে, বল্লাল বাড়িতে রাজা বল্লাল সেনের রাজ প্রাসাদ ছিল। বল্লাল বাড়ির চারিদিকে প্রাচীন চিহ্ন নানাভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার বিষয়টি প্রমান করে এখানে এক সময়ে রাজা বল্লাল সেনের রাজ প্রাসাদ ছিল।

রাজা বল্লাল সেনের নামেই সেই সময়ে বল্লাল বাড়ি হিসেবে এ এলাকাটি পরিচিতি লাভ করে। তাতেও প্রমান করে এখানে রাজা বল্লাল নামে কেউ ছিল। রাজা বল্লাল সেন নামে যদি কেউ থেকে থাকে তবে তাঁর রাজ প্রাসাদও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

১২১ বছর আগে বল্লাল বাড়িতে যেসব অট্টলিকা ছিল ইতিহাসের অংশ। সে গুলো বর্তমানে ভেঙ্গে চুরে গুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বল্লাল বাড়ির চারিদিকে প্রায় ২০০ ফিট প্রশস্ত পরিখা ছিল। এ পরিখা প্রমাণ করে এখানে এক সময়ে রাজা বল্লাল সেনের রাজ প্রাসাদ ছিল।

এ রাজ প্রাসাদের আয়তন হচ্ছে ৭৫০ ফুট বাই ৭৫০ ফুট। রামপালের সমগ্র এলাকাটি গুগুল ম্যাপেও স্কয়ার হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ১৮৬৭ সালের দিকে প্রায় আশি বছর বয়সের বৃদ্ধারা জানান,

রাজা বল্লাল সেন রামপালে বসবাস করার লক্ষ্যে তাঁর রাজ প্রাসাদের চারিদিকে ছয় হাজার দৈঘ্য ও ৮০০ প্রস্ত পরিখা খনন করেন। আর এ কারণে সেই সময়ে এটি বল্লাল বাড়ি নামে এ জনপদে খ্যাতি পায়।

১২১ বছর আগে বিক্রমপুরের ইতিহাসের বইয়ে বল্লাল বাড়ির পূর্ব দিকে বৃহৎ এক খিড়কির গেইট ছিল বলে লেখা হয়েছে। এটিও প্রমাণ করে এখানে রাজা বল্লাল সেনের রাজ প্রাসাদ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি আর এখানে নেই। সুপরিকল্পিত ভাবে সেটিও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

বল্লাল বাড়ির দক্ষিণে রয়েছে গজারি গাছ। সেখানে রাজা বল্লালের পোষা হাতি বেঁধে রাখা হতো। বল্লাল বাড়ির দক্ষিণ দিকের পরিখার কাছের একটি ছোট পুকুরে নটরাজ মূর্তিউদ্ধার করা হয়। সেন রাজারা মূলত শৈব ছিলেন। এখানকার কোন দেব মন্দিরে নটরাজ দেবের মূর্তিখানি প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেন রাজারা ভক্তি ভরে নটরাজ মূর্তির অর্চ্চনা করতেন।

বল্লাল সেনের মার নাম হচ্ছে বিলাস দেবি। তিনি শুর বংশের কন্যা ছিলেন। তার বাবা ছিলেন বিজয় সেন। তাম্র শাসনের সময়ে বিজয় সেন ৩৫ বছর বঙ্গ শাসন করেছেন। বিজয় সেন ৯০ বছর বয়সে ১০৪১ সালে মারা যান। বিজয় সেন শিব পূজা করতেন।

পূজা শেষ করেই তবে জল পাণ করতেন। বিজয় সেনের বাবার নাম ছিল হেমন্ত সেন। বল্লাল সেন অর্ধনারীশ্বর মূর্তি’র পুজারক ছিলেন। তিনি ১১১৮ অথবা ১১১৯ সালে মারা যান। তার স্ত্রীর নাম হচ্ছে রামদেবি। সে চালুক্য বংশের কন্যা ছিলেন।

তথ্য সূত্র: যোগেন্দ্র নাথ গুপ্তের বিক্রমপুরের ইতিহাস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here