মুন্সীগঞ্জের বল্লাল বাড়িতে রাজা বল্লাল সেনের অগ্নিকুন্ড

mnews-groupমোহাম্মদ সেলিম ও হোসাইন শাহরিয়ার:
তাম্র শাসনের সময়ে দ্বাদশ শতাব্দিতে বঙ্গের রামপাল শাসন করেন রাজা বল্লাল সেন। সেই সময়ে এ জনপদে সুদূর ইরাক থেকে ইসলাম ধর্মের প্রচারে আসেন বাবা আদম।

তাঁর আগমনে বিভিন্ন ধর্মের লোকজন বাবা আদমের কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করেন। অনেকে আবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর এখানে গরু জবাই করে খেতে শুরু করেন। তাতে রাজা বল্লাল সেন ক্ষুব্দ হন। এসব কারণে এখানে ধর্ম নিয়ে বাবা আদমের সাথে রাজা বল্লাল সেনের ১১৭৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

জনশ্রুতি রয়েছে, রাজা বল্লাল সেন বাবা আদমের সাথে যুদ্ধে যাওয়ার আগে রাজ প্রাসাদের পূর্ব দিকের বর্তমানে বল্লাল বাড়ির দক্ষিণ ও উত্তর দিকে অগ্নিকুন্ড জ্বালিয়ে রেখে যান।

রাজা বল্লাল সেন যুদ্ধে যাওয়ার আগে তাঁর মা বিলাস দেবি ও স্ত্রী রামদেবিসহ পরিবার পরিজনকে বলে যান, আমার সঙ্গে থাকা এই কবুতরটি যদি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আমাকে ছাড়া একাই রাজ প্রাসাদে ফিরে আসে, তবে বুঝবে যুদ্ধে আমার মৃত্যু হয়েছে। তখন তোমরা সকলে রাজ প্রাসাদের জ্বালিয়ে রাখা অগ্নিকুন্ডে ঝাপ দিয়ে জীবন আত্ন হুতি দিবে।

যথারীতি রাজা বল্লাল সেনের সাথে বর্তমান দরগাবাড়ি এলাকায় বাবা আদমের যুদ্ধ শুরু হয়। দরগাবাড়িতে বাবা আদম নামাজরত অবস্থায় থাকলে রাজা বল্লাল সেন বাবা আদমকে হত্যা করে। এ সময় রাজা বল্লাল সেনের কোমরে থাকা সেই কবুতরটি বের হয়ে রাজ প্রাসাদের দিকে ছুটে যায়। এরপর তরিগড়ি করে রাজা বল্লাল সেন রাজ প্রাসাদের দিকে ছুটেন।

কিন্তু তৎক্ষণে রাজ প্রাসাদের সব শেষ। রাজ প্রাসাদে কবুতর ফেরার ঘটনায় রাজ প্রাসাদের পরিবার পরিজনরা পূর্বের জ্বালিয়ে রাখা অগ্নিকুন্ডে ঝাপ দিয়ে জীবন আত্ন হুতি দেয়। রাজ প্রাসাদে রাজা বল্লাল সেন পৌঁছলে এ খবর পেয়ে তিনি অগ্নিকুন্ডের দিকে ছুটে যান। তখন কেউ বেঁচে না থাকায় মনের দু:খে রাজা বল্লাল সেনও অগ্নিকুন্ডে ঝাপ দিয়ে নিজের জীবনের আত্নহুতি দেন।

বল্লাল বাড়িতে এখনো রাজ বল্লাল সেনের সেই স্মৃতি ইতিহাসের পাতায় ঘুরে ফিরে আসছে। জনশ্রুতি অনুযায়ি বল্লাল বাড়িতে যেখানটাতে অগ্নিকুন্ড রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, সেখানটাতে মাটি খুঁড়লে শুধু কয়লা পাওয়া যায়। তাতে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এখানেই ছিল রাজা বল্লাল সেনের অগ্নিকুন্ড।

বর্তমানে সেই স্থানে মাত্র কয়েক বছর আগে মাটি ভরাট করে সেখানে ঈদের নামাজ পড়ানো হচ্ছে। আর এর পাশেই রয়েছে বিশাল কয়েক তলাসহ বল্লাল বাড়ি জামে মসজিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here