গজারিয়ায় চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষুরের আঘাতে একজন আহত (ভিডিওসহ)

Thumbnailমোহাম্মদ সেলিম ও সাগর মাহমুদ:

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চররমজানবেগের গুচ্ছ গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজরা বুকের ওপরে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করেছে। আঘাতপ্রাপ্ত আলমগীরকে গতকাল বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ

জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টার দিকে। আলমগীর একজন দিনদরিদ্র লোক। সে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

আজ শুক্রবার ৩০ জুলাই আলমগীরের মেয়ে সুমাইয়ার বিয়ের পাকা কথাবার্তার জন্য পাশের গ্রামের ছেলের পক্ষের লোকজন বাড়িতে আসার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে আলমগীর অতিথিদের জন্য দুপুরের খাবার দাবারের

আয়োজনে চরকিশোরগঞ্জের ডেকোরেটরের দোকান মালিক বাতেনের বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর আলমগীরের ওপর চাঁদাবাজ সাঈদ দলবল নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে।

আর তার কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে। আলমগীর কোন চাঁদা দিতে সেই সময়ে অস্বীকার করেন। আর এ ঘটনায় সাঈদ তার দলবল নিয়ে আলমগীরের ওপর হামলা চালান। হামলার সময়ে সাঈদের দলবল

আলমগীরের অনুষ্ঠানের ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর সাঈদ আলমগীরের বুকে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করেন।

এ ঘটনার পর আলমগীর বাঁচার লক্ষ্যে ক্ষুরের আঘাত নিয়ে বাতেনের বাড়ির পশ্চিমপাশের খালের পানিতে ঝাঁপ দেন। সেই খালের পানিতে সাঈদ দলবলে নৌকা নিয়ে আলমগীরের খোঁজ করেন। সেই সময়ে সাঈদ নৌকা থেকে পানি ও কচুরিপানার মধ্যে বাঁশের লঙ্গি দিয়ে বারবার আঘাত করেন।

তখন জীবন বাঁচাতে আলমগীর কচুরি পানার মধ্যে সাঈদের ভয়ে নাক ভাসিয়ে রাখেন। পরে গ্রামবাসীরা আলমগীরকে খাল থেকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসকরা

আলমগীরকে চামড়ার দু’পাল্লায় প্রায় চল্লিশটি সেলাই দেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ আজ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সাঈদ এ ঘটনার পর গ্রাম থেকে আড়ালে চলে গেছেন। সাঈদ এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন। সে কিছু দিনের মধ্যে বিদেশে চলে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রামবাসীদের দাবি সাঈদ কোনভাবেই যেন দেশ থেকে পালিয়ে না যান। যাতে পুলিশ সাঈদসহ সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here