পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন: চারদিনের মধ্যে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মালামাল উদ্ধার

IMG_1595মোহাম্মদ সেলিম, মো. নাজির হোসেন ও সাগর মাহমুদ:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চিতলিয়া বাজারে দু’টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত ৮জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

তারমধ্যে ডাকাত সরদারসহ ৭জন আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য রয়েছে। গ্রেফতার তালিকায় একজন স্বর্ণ ক্রয়কারী দোকানদারও রয়েছে। তাকে ঢাকা তাঁতী বাজার থেকে পুলিশ ডাকাতি স্বর্ণ ক্রয় করার অপরাধে গ্রেফতার করে। সেখান থেকে পুলিশ ডাকাতি স্বর্ণ উদ্ধার করে। আর রয়েছে ডাকাতি কাজে ব্যবহারকৃত স্প্রীডসহ বোর্ডের চালক।

242330673_414654363376263_6472281723984984035_nডাকাতদের গ্রেফতারের বিষয়ে আজ ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম।
গ্রেফতারকৃত ৮জনকে আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আজকে আদালতের বিচারক ছিলেন সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তি চন্দ্র।

গত বুধবার দিন গভীর রাতে চিতলিয়া বাজারে এ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। গত চারদিনে বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে মুন্সীগঞ্জের চৌকষ পুলিশ ঐ ডাকাতদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ ডাকাতদেরকে গ্রেফতার করে। এটি মুন্সীগঞ্জের পুলিশের বড় ধরণের একটি সাফলো বলে মুন্সীগঞ্জবাসী মনে করেন।

ডাকাতরা ডাকাতির পর স্বর্ণগুলো ঢাকার তাঁতি বাজারের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ির কাছে বিক্রি করে দেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ি সেই স্বর্ণ গলিয়ে ৬৯ ভরিতে চকলেটে রূপ দেয়। পুলিশ সেই স্বর্ণ জব্দ করেছে। ডাকাতরা স্বর্ণ ডাকাতির সময়ে অনেক ভরি রোপাও লুট করে নিয়ে যায়। কিন্তু রোপা ভারি হওয়ায় বহনে অসুবিধা থাকায় সেই রোপা নদীতে ফেলে দেয় বলে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে শরিয়তপুর জেলার জাজিরা থানার সোনার দেউল গ্রামের মৃত মোসলের ছেলে মো. সাব্বির (ওরফে) হাত কাটা স্বপন(৪৯), মাদারীপুরের শিবচর থানার চর চান্দা কাঁঠাল বাড়ির চর গ্রামের আরব আলী হাওলদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার (২৫), চাঁদপুর গ্রামের মতলব উত্তর থানার দূর্গাপুর গ্রামের মৃত-

বাহর আলী প্রধানের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৪০), শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার রাজারিশ্বা গ্রামের মো. জুলমত আলী মোল্লার ছেলে মো. বিল্লাল মোল্লা (৩০), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার উত্তর বিথুরবন্দর গ্রামের মৃত- অলি আহম্মেদ বেপারির ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩২), মাদারীপুরের শিবচর থানার

হাওলাদার কান্দি গ্রামের আ: রব মিয়া খাঁর ছেলে মো. ফারুক খাঁ (২১), শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার পশ্চিম নওপাড়া গ্রামের মৃত- আসমত কবিরাজের ছেলে মো. আফজাল হোসেন(৪৭), শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার বাহেরচর গ্রামের মো. ইদ্রিস বেপারীর ছেলে এবং স্বর্ণক্রয়কারী দোকানদার মো. আক্তার হোসেন (৩২)।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, মাদারীপুরের শিবচর, শরিয়তপুরের জাজিরা, ঢাকার যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, কামরাঙ্গীরচর, কেরাণীগঞ্জ, বাবুবাজার, তাঁতিবাজার ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর এলাকা থেকে ব্যবহৃত স্পিডবোট, ৬৯ ভড়ি স্বর্ণ, অস্ত্র গুলিসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ২ টায় চিতলিয়া বাজার অজ্ঞাতনামা ১৮-২০ জন ডাকাতদল ‘নিখিল বণিক স্বর্ণ শিল্পালয়’ ও ‘মনুনাগ স্বর্ণ শিল্পালয়’ দোকানের তালা কেটে ১০০ ভড়ি ১৫ আনা স্বর্ণ, যার মুল্য ৫০ লাখ ছয় হাজার ৫০০ টাকা, ৪টি মোবাইল সেট এবং নগদ ৩৫ লাখ টাকা ডাকাতি করে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম সার্বিক দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সুমন দেব নেতৃত্বে মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ) ও মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশ এর যৌথ অভিযানে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলা হতে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ১টি

স্পীডবোট, লুন্ঠিত ৬৯ (উনসত্তর) ভরি স্বর্ণালংকার, সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ৭ জন ডাকাত এবং ডাকাতি হওয়া স্বর্ণালংকার ক্রয়ের অপরাধে ১ জনসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ডাকাত কাটা সাব্বির (স্বপন) এর হেফাজত হতে ১টি ম্যাগাজিনসহ পিস্তল ও ১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি। ডাকাত মোহাম্মদ আলীর হেফাজত হতে ৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ডাকাত আনোয়ার হোসেন এর

হেফাজত হতে ১টি চাপাতি, ডাকাত ফারুক খা এর হেফাজত হতে ১০ হাজার টাকা এবং ডাকাত আরিফ হাওলাদার এর হেফাজত হতে ৫ হাজার টাকা সহ মোট ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here