মুন্সীগঞ্জে নৌকার হাল ধরতে ৬২ জন নেতাকর্মী

246253525_415934169882826_7695300215491507607_nনিজস্ব প্রতিবেদক:

মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্যে অন্যতম উপজেলা হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে।

আগামী ২৮ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন পেতে ৬২ জন নেতাকর্মী গতকাল শনিবার আবেদন পত্র জমা দিয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে এই আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম চলে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়াম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. মহিউদ্দিন। আবেদন গ্রহণ মনিটরিং কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড: সোহানা তাহমিনা, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড: আব্দুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ। ৯টি ইউনিয়নের একটি চেয়ারম্যান পদের জন্য ৬২টি জন মনোনয়ন আবেদন পত্র জমা দেন।

পঞ্চসার ইউনিয়নে ৭জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। রামপাল ইউনিয়নে ৫জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। বজ্রযোগীনি ইউনিয়নে ৫জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। মহাকালী ইউনিয়নে ৮জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। আধারা ইউনিয়নে ১১জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। বাংলাবাজার ইউনিয়নে ৫জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। শিলই ইউনিয়নে ৮জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। চরকেওয়ার ইউনিয়নে ৪জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে ১২জন মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন।

আধারায় মোট ১১জন হচ্ছে ১.সামসুল কবির মাষ্টার। ২. অ্যাডভোকেট এস আর রহমান মিলন। ৩. সুরুজ মিয়া। ৪. আলী হোসেন সরকার। ৫. মনির হোসেন বকাউল। ৬. সোহরাব হোসেন বেপারী। ৭. আব্দুল হক মোল্লা। ৮. খায়রুল ইসলাম খাজা। ৯. আমির হোসেন গাজী। ১০. আফসিন আপন। ১১. হামিদুল হক। গত নির্বাচনে সোহরাব হোসেন বেপারী এখানে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে পরাজিত হন।
গত নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আ’লীগের সামসুল কবির মাস্টার নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে এখানে নির্বাচন করে।
বাংলাবাজার ৫জন হচ্ছে ১. ইসমাইল সরকার ২. সোহরাব হোসেন নান্নু ৩. দ্বীল মোহাম্মদ খোকা ৪. সোহরাব হোসেন পীর ৫. এস এম আনিছুর রহমান। সোহরাব হোসেন পীর বর্তমানে এখানে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জেলা আ’লীগের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন।

মোল্লাকান্দিতে ১২ জন হচ্ছে ১. মহসিনা হক কল্পনা ২. রিপন পাটোয়ারি ৩. শাহ আলম মল্লিক ৪. আ: হক দেওয়ান ৫. আজাহার উদ্দিন মোল্লা ৬. জাহাঙ্গীর সরকার ৭. খালেদ পারভেজ ৮. মোস্তফা মোল্লা ৯. হেদায়েতুল ইসলাম ( শুক্কুর আলী) ১০. ফজল গাজী ১১. খায়রুল ইসলাম পাভেল ১২. ফরহাদ খাঁন।
মহসিনা হক কল্পনা গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে জয়লাভ করে। গত নির্বাচনে রিপন পাটোয়ারী নৌকা পেলেও পরাজিত হন। ফরহাদ খাঁ মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি। অন্যদিকে আজাহার উদ্দিন মোল্লা হচ্ছে ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বাবা মোস্তফা মোল্লা এখানে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন পত্রের আবেদন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন মামলায় জেলে রয়েছেন জাহাঙ্গীর সরকার। তার পক্ষে এখানে মনোনয়ন পত্রের আবেদন পত্র জমা পড়েছে।

শিলইতে ৮জন হচ্ছে ১. আবুল হাশেম লিটন ২. সাঈদ বেপারি ৩. সুমন মৃধা ৪. এস এম সজল আহম্মেদ মিতালি ৫. কাজী কাদের ৬. হাজী আনোয়ার হোসেন ৭. মাহবুব আলম তমিজ ৮. পারভেজ মৃধা। আবুল হাশেম লিটন বর্তমানে এখানকার ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি গত নির্বাচনে নৌকা নিয়ে জয়লাভ করে। এস এম সজল আহম্মেদ গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে পরাজিত হন।

চরকেওয়ার ৪জন: হচ্ছে ১. আক্তারুজ্জামান জীবন ২. আফছার উদ্দিন ভূইয়া। ৩.সেকান্দার আলী সিকদার, ৪. ফয়সাল মৃধা।
গত নির্বাচনে আক্তারুজ্জামান জীবন নৌকা নিয়ে জয়লাভ করেন। গত দুই টার্ম তিনি এখানে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। আফছার উদ্দিন ভূইয়া মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জেলা পরিষদ এর সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। ইউপি চেয়ারম্যান থেকে জেলা পরিষদের সদস্যের পদ মর্যাদা অনেকটাই বড়। ফয়সাল মৃধা হচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। এখানে যারা মনোনয়ন পত্রের জন্য আবেদন করেছেন সে হচ্ছে বয়সে সবার ছোট।

পঞ্চসারে ৭জন হচ্ছে ১. মাহমুদুল হাসান লাকুম ২. গোলাম মোস্তফা ৩.আলমগীর হোসেন খাঁন ৪. ফয়েজ আহম্মেদ পাভেল ৫. গোলাম রসুল সিরাজি রোমান ৬. জাহিদ হাসান ৭. অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা তপন।
গোলাম মোস্তফা বর্তমানে পঞ্চসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আ’লীগের রাজনীতিতে তার কোন পদ পদবী নেই। গত নির্বাচনকে সামনে রেখে সে বিএনপি থেকে আ’লীগে যোগদান করে। গত নির্বাচেনে আ’লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি জেলখানা থেকে জয়লাভ করে।

তাকে আ’লীগে অনু প্রবেশ নিয়ে নানা রকমের বির্তক রয়েছে। আলমগীর হোসেন খাঁন পঞ্চসার ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি। গত নির্বাচনের সময় তাকে নৌকার মনোনয়ন সাধা হয়। কিন্তু তিনি সেই সময় এটি গ্রহণ করেননি। বরং তা ফিরিয়ে দেন। অন্যদিকে তিনি নৌকার বিপক্ষের প্রার্থী গোলাম মোস্তফার পক্ষে কাজ করে নৌকার প্রার্থী মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি প্রয়াত আব্দুস সাত্তারকে পরাজিত করেন।

রামপালে ৫জন হচ্ছে ১. শেখ মনিরুজ্জামান রিপন ২. আব্দুল হাকিম বেপারী ৩. মো: হারুন শেখ ৪: আওলাদ হোসেন পুস্তি ৫. মোশারফ হোসেন মোল্লা।
গত নির্বাচনে এখানে নৌকার মনোনয়ন পান মোশারফ হোসেন মোল্লা। তিনি শেখ বাচ্চুর কাছে পরাজিত হন।

বজ্রযোগিনী ৫জন হচ্ছে ১. মো. রবিন হোসেন ২. জাহিদুল ইসলাম দিদার ৩. মো. রনি ৪. মেহেদি হাসান ৫. শাহীন দেওয়ান। এখানে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তোতা মুন্সী জয় লাভ করে।

মহাকালীতে ৮জন হচ্ছে ১. শহিদুল ইসলাম ২. জি এম মনসুর উদ্দিন ৩.ফারুক আহম্মেদ পিন্টু ৪. শাহ আলম ৫. নজরুল ইসলাম বেপারি ৬. বুলবুল আহম্মেদ সুমন ৭. জিয়াউল হাসান বিরিন ৮. মনির হোসেন সাগর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here